ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

চলুন, এই নরপিশাচ ধর্ষক রনি হককে ভাইরাল করি!

আজকের সকালটা শুরু হয়েছে একটা অসাধারণ প্রতিরোধের দৃশ্য দেখে। গতকাল রাতে এক ধনীর দুলাল রাস্তা থেকে এক নারীকে জোর করে গাড়ীতে তুলে রেইপ করার চেষ্টা করছিল, সৌভাগ্যক্রমে রাস্তায় জ্যাম থাকায় ড্রাইভার গাড়ী টান দিতে পারেনি, ফলে আশেপাশের মানূষেরা মেয়েটার আর্তচিৎকার শুনে ছুটে এসে গাড়ি ঘিরে ফেলে মেয়েটাকে উদ্ধার করে এবং ড্রাইভার ও ধর্ষককে ন্যাংটো করে গণপিটুনি দেয়। এই পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে তুলে আনেন রাফি আহমেদ নামে একজন। চলুন তার তুলে আনা সেই লেখাটি পড়ে আসি-

///আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজ গেট সিগনালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তা-ধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভার এর গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিলো যে সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে | তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি | এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরো কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগুচ্ছে | তখনও ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুষ প্রমান হতে যাচ্ছি |

আমি গাড়িটির কাচ্ছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে | গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান | ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ | আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না, অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আংগুলের চিহ্ন | এরপর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করলো |

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম , ওই নরপিশাচটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে///

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই এই ধর্ষকের পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম হচ্ছে রনি হক। তার ফেসবুক ওইয়াল ঘুরে বুঝতে পারা গেল সে একজন ব্যবসায়ী, বিবাহিত, চমৎকার হাসিখুশি একজন স্ত্রী’র স্বামী এবং একটা ফুটফুটে বাচ্চার বাবা। পুরো প্রোফাইলেই স্ত্রী আর সন্তানের সাথে হাসিখুশি অনেক ফ্যামিলি ফটো। দেখে কল্পনা করাও কঠিন এই চমৎকার সুখী মানুষটা আদতে একটা নরপিশাচ ধর্ষক! যে রাতের অন্ধকারে রাস্তা থেকে মেয়েদের জোর করে তুলে গাড়ির ভেতর রেপ করে। আজকে স্রেফ জ্যামের কারণে গাড়ীটা আটকে গিয়েছিল বলে মেয়েটা বেঁচে গেছে, নইলে একে তো ধরার কোন উপায় ছিল না। সে যে এর আগেও এইভাবে মেয়েদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়ীতে রেপ করেনি, সেটা কিভাবে শিউর হচ্ছি আমরা? বরং সেটার সম্ভাবনাই বেশি। আর আরো একটা কারণ আছে এমন চিন্তার!

কারণটি হচ্ছে ভিডিওর শুরুতে একটু মন দিয়ে খেয়াল করছে শুনবেন, এই শুয়োরটা তার কোন এক বড় ভাইয়ের ভয় দেখাচ্ছে। মানে সে যে একটা মেয়েকে রেইপ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো, এরপর তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা তো দূরে থাক, বরং সে উল্টো জোরগলায় তার কোন এক বড়ভাইয়ের কথা বলে ভয় দেখিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে! মানে সে এর আগেও এই ধরণের কুকর্ম করেছে এবং প্রতিবারেই হয়তো এমন বড় ভাইদের ক্ষমতার জোর দেখিয়ে বেঁচে গেছে, আইনের মুখোমুখি হয়নি। এবং আজকে যদি সৌভাগ্যক্রমে মোহাম্মদপুরের আসাদগেট মোড়ের কাছের রাস্তায় জ্যাম না থাকতো, তাহলে আজকেও তাকে ধরার উপায় ছিল না। তার কুকর্মের সহযোগী ড্রাইভার গাড়ীটা টান দিত এবং গাড়ীর ভেতরে নির্যাতিত হত একটা মেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, ধর্ষিতা হবার পরেও হয়তো মেয়েটা প্রাণে বাঁচতো না, কারণ এই ধরণের নরপিশাচেরা নারীদেহকে মনে করে ওয়ান টাইম ইউজ ফান এবং তাদের মাথার উপরে বড় ভাইদের আশীর্বাদ থাকায় তারা ইচ্ছেমত এইভাবে রাস্তা থেকে যে কাউকে তুলে নিয়ে যাবার সাহস দেখায়, এবং তারপর ফান শেষে গাড়ীর দরজা খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে যায় রাস্তায়। যেহেতু সে একটা অপরাধ করছে, সুতরাং সে অবশ্যই কোন প্রমাণ রাখতে চাইবে না। ফলে হয়তো আজ আমরা পত্রিকার ভেতরের পাতার ছোট্ট করে হতভাগ্য কোন তরুণীর ছিন্নভিন্ন লাশ খুঁজে পাওয়ার খবর পড়তাম। সৌভাগ্যক্রমে মেয়েটা বেঁচে গেছে।

কিন্তু এই মেয়েটার মত সৌভাগ্য কম মেয়ের কপালেই থাকে। কারণ এই দেশের আনাচে কানাচে সর্বত্র গিজগিজে করছে পটেনশিয়াল রেপিস্টে। ইভেন এই ঘটনা মেয়েটাকে জোর করে গাড়ীতে তুলে নেওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরেও এবং সরাসরি ভিডিও ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু নিকৃষ্ট কীট এরই মধ্যে মেয়েটার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করেছে। একজন এই কমেন্ট করেছে,

“একটা মেয়েকে কিভাবে একা একটা ছেলে জোর করে গাড়ীতে তুলে নেয়, নিশ্চয়ই মেয়ের সম্মতিতে তারা গাড়ীতে মিলিত হয়েছিল, এখন জনতা ধরে ফেলায় মেয়েটা সটকে পড়েছে।”

মজার ব্যাপারটা হচ্ছে ঠিক এমন চিন্তা করা বরাহশাবকের সংখ্যা অসংখ্য। তারা নিজেরা পটেনশিয়াল রেপিস্ট হবার কারণে এবং সবসময় ধর্ষণের সুযোগ খুঁজতে থাকার কারণে যে কোন ধর্ষণের খবর পড়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়, ধর্ষণের জন্য দায়ী করে ধর্ষিতাকে, তার কাপড়ের দোষ দেয়, পর্দা করা নিয়ে ত্যানা প্যাচায়, মেয়েরা নাকি আচরণ ও ব্যবহার দিয়ে ধর্ষণের প্রলুদ্ধ করে এই ধরণের জঘন্য নোংরা অভিযোগ করে এবং সবার শেষে ধর্ষক শুয়োরটাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে, তাকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে প্রচার করে, বাচাতে চায়। অপরাধীদের প্রতি সিম্প্যাথী দেখানো, তাদের বাঁচানোর এই প্রবণতা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। এবং এই চক্রে স্রেফ এই ফেসবুকের নোংরা কীটগুলোই না, সমাজের নানা স্তরের নানা শ্রেণীর মানুষ জড়িত থাকে। ফলে একজন ধর্ষকের বিচার হওয়া এই দেশে অনেকটাই অসম্ভব ব্যাপার!

আর ঠিক এই কারণেই মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। এই যে ভিডিওতে আমরা দেখছি, ধর্ষককে মারতে মারতে ন্যাংটো করে ফেলেছে উত্তেজিত জনতা, সেটা যেমন প্রবল ক্ষোভ থেকে, ঠিক তেমনি ধর্ষকের বিচার না হওয়া বা বিচারে দীর্ঘসুত্রিতায় হতাশা থেকেও। কারণ মানুষ যেখানে দেখছে যে ধর্ষকের বিচার হচ্ছে না, মামলা হয়ে জেলে গেলেও কিছুদিন পর জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে ধর্ষিতার পরিবারকে আবার হমকি দিচ্ছে, ইভেন আবারো ধর্ষণ করছে, মেরেও ফেলছে, তখন আসলে বিচার ব্যবস্থার উপরে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব ফেসবুক আইডি এবং ভিডিও থেকে তথ্য নিয়ে এই ধর্ষক নরপিশাচ রনি হককে গ্রেফতার করা হোক, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে তার বিচারের রায় নিশ্চিত করা হোক জরুরিভিত্তিতে। আর উপস্থিত জনগণকে অতি দ্রুত এগিয়ে এসে ধর্ষককে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তাকে পুলিশে হ্যান্ডওভার করা হয়েছে কিনা যেহেতু জানা যায়নি। তাই যতদ্রুত সম্ভব রনি হককে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক, দেওয়া হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি!

এখন আমাদের দায়িত্ব এই অমানুষটার চেহারা ভাইরাল করে দেওয়া যেন বাকি জীবন তার একমাত্র পরিচয় হয় ধর্ষক! আসেন ফেসবুক থেকে এই ধর্ষকের ছবি নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করি যেন তাকে পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে লজ্জিত হতে হয়, অপমানিত হতে হয়। আর যদি সম্ভব হয় এই ধর্ষকদের কপালে সীসা দিয়ে “ধর্ষক” কথাটা পাকাপাকিভাবে সিল করে সেটে দেওয়া হোক! যেন সবাই দেখামাত্র চিনতে পারে এই ধর্ষককে, যেন বাকি জীবন তাকে এই লজ্জা বয়ে বেড়াতে হয়। বড়লোকের পোলার বিচার না করতে পারলেও তার ধর্ষক পরিচয়টা পার্মানেন্টলি কপালে সেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। যদি বিচারটা নাও পাই, অন্তত এই নরপিশাচটা তো সারাজীবন ধর্ষক পরিচয় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হবে। বিচারহীনতার এই সময়ে সেটাও বা কম কিসে!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close