কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না পর্তুগালের জন্য। বরং ইতিহাসকে যদি সাক্ষী মানতে হয়, তবে তো বলতে হবে কাজটা রীতিমত দুঃসাধ্যই ছিল বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের জন্য! কেননা বিশ্বকাপের টিকিট জেতার লক্ষ্যে তারা মাঠে নেমেছিল সেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের সাথে ১৯৯৩ সালের পর থেকে কোন জয়ের দেখা পায়নি তারা।

বিগত ২৪ বছরে দুইবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড, এবং দুইবারই জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল সুইজারল্যান্ডই। ব্যবধানটা ছিল ২-০। কিন্তু এবার পাল্টে গেল পাশার দান। জয়ের ব্যবধান যদিও বা থাকল অপরিবর্তিত, কিন্তু বদলে গেল বিজয়ী ও বিজিতের ভূমিকা।

লিসবনে সুইসদের হারিয়ে দিয়ে সরাসরি ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল। রোনালদো যদিও গোলের দেখা পাননি এই ম্যাচে, কিন্তু তারপরও দলে তার উপস্থিতি যে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তার প্রমাণ তো পাওয়া যায় এ দুই দলের আগের দুই লড়াইয়ের ফলাফলের সাথে এই ম্যাচের ফলাফলের পার্থক্য করলেই।

বিরতির খানিক আগে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে আবারও বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আন্দ্রে সিলভা। অবশ্য বের্নাদো সিলভার পাস প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি এসি মিলানের এই ফরওয়ার্ড। কিন্তু তাই বলে ঠাণ্ডা মাথায় দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি তিনি, ফলে পেয়ে যান এবারের বাছাইপর্বে নিজের নবম গোলটি।

মঙ্গলবার রাতে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারানোয় ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। আর এতেই রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কাটা হয়ে যায় তাদের। গত বছর সেপ্টেম্বরে এই সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেই বাছাইপর্ব শুরু করেছিল পর্তুগাল। কিন্তু তারপর থেকে তারা ছিল রীতিমত অপ্রতিরোধ্য, এবং সেই সুবাদে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে উঠলো পর্তুগিজরা। এটা তাদের সবমিলিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ।

অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে কিছুটা দুর্ভাগাই বলতে হয়। এর আগের নয়টি ম্যাচেই জিতেছিল তারা। তাই রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে জয় নয়, স্রেফ একটা ড্র-ই যথেষ্ট ছিল তাদের জন্য। কিন্তু এ ম্যাচে হেরেই বসল তারা। আর তার ফলে সমান ২৭ পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও গোল ব্যবধানে তারা পিছিয়ে পড়েছে পর্তুগালের থেকে, এবং সেজন্য গ্রুপ রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। তবে এখনও শেষ হয়ে যায়নি তাদের বিশ্বকাপে ওঠার আশা। প্লে অফের মাধ্যমে এখনও তাদের সামনে সুযোগ আছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার।

স্বাগতিক রাশিয়া বাদে এখন পর্যন্ত ইউরোপের যে নয়টি দেশ সরাসরি রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা হলো জার্মানি, ইংল্যান্ড, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও ফ্রান্স। এ ছাড়া প্লে অফে অংশ নেবে ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, ইতালি, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও গ্রিস। এই আট দলের মধ্য থেকে চার দল শেষ পর্যন্ত পাবে রাশিয়ার টিকিট।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো