এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

মাথামোটা মূর্খদের “জাতীয়তাবাদী সম্মানবোধ”!

বসনিয়া, রুয়ান্ডা ও সিরিয়া শরনার্থী ট্র্যাজেডির পর মাত্র ১৯ দিনে চার লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী ট্র্যাজেডি সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও অমানবিক ঘটনা। দুঃখজনক এঘটনাটি ঘটিয়েছেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি বিশ্বশান্তির প্রতীক হিসেবে নোবেল পুরস্কারে পুরস্কৃত- অং সান সুচী। স্বভাবত কারণেই এলজ্জা শুধু সুচীর নয়, সারাবিশ্বের তাবৎ মানবতাবাদীদের। অথচ এই দায় নেয়ার কোন কেউ যেন নেই। এর থেকে খুব সহজ পরিত্রানের একটাই উপায় সুচীর সামনে খোলা রয়েছে, সেটা হচ্ছে “যুদ্ধ”।

আপনারা খেয়াল করেছেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক শ্রেনীর কথিত বুদ্ধিজীবি এবং মাথামোটা মূর্খমানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন মিয়ানমারকে আক্রমন করে আরাকান রাজ্য দখল করে নিতে এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে। এই কন্ঠের সাথে জামায়াতী অংশের হেফাজতও সুর মিলিয়েছে। এদের যুদ্ধের প্রতি অতি উৎসাহপনা দেখে গোয়েন্দামারফত মিয়ানমার জানতে পারলো যে, বাংলাদেশের কিছু জনগণ “যুদ্ধ-যুদ্ধ” খেলতে চায় এবং তারা সরকারের কট্টর সমালোচক। আর তখনই বাংলাদেশের কতিপয় বুদ্ধিজীবি এবং মাথামোটা মূর্খদের “জাতীয়তাবাদি মানসম্মানে” আরো অধিকতর সুড়সুড়ি দিতে মিয়ানমারও তাদের কিছু হেলিকপ্টার আন্তর্জাতিক সব আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে “এখন-তখন” পাঠাতে শুরু করলো। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে প্ররোচিত করে মিয়ানমারকে আক্রমন করার জন্যে। একটা আক্রমন হলেই পাল্টা আক্রমন শুরু করে খেলাটাকে একটা “উচ্চ মার্গীয় যুদ্ধে” রূপ দিতে অং সান সুচির মিয়ানমার এক সেকেন্ডও সময় ক্ষেপন করবে না।

অনেকে প্রশ্ন করবেন, তাতে লাভ কি মিয়ানমারের? লাভ তো নিশ্চয়ই আছে। লাভ ছাড়া কি কেউ যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলে? লাভটা হচ্ছে, গত ১৯ দিনে চার লক্ষের অধিক শরনার্থী বাংলাদেশে পাঠানো, অজস্র হত্যাযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও ছাড়াও অসংখ্য অমানবিক কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক মানবধিকারের সর্বোচ্চ লঙ্ঘনের সামিল, মিয়ানমার এক নিমিষে মুছে ফেলতে পারবে। রোহিঙ্গা-ট্র্যাজেডিকে ঢেকে দিয়ে তখন ‘যুদ্ধ-যুদ্ধ’ খেলাকে সামনে নিয়ে আসতে তৎপর হয়ে পড়বে আন্তর্জাতিক অনেক সম্প্রদায়। যুদ্ধ ঠেকাতে জাতিসংঘের সৈন্য প্রেরণ ছাড়াও আরো হাজারটা নথিপত্রের বৈঠক হবে। কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে রোহিঙ্গা-শরনার্থী ইস্যুটি। যুদ্ধকালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে স্থায়ীভাবে মিয়ানমারের শত্রু হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি পাবে।

রোহিঙ্গা, অং সান সুচী, মিয়ানমার, বাংলাদেশ

দু’দেশের এধরণের একটা যুদ্ধের পরে মিয়ানমার খুব সহজেই এই যুদ্ধের একটা কারণ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দায়ী করবে। যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ নেয়ার অভিযোগে রোহিঙ্গাদের আজীবন বাংলাদেশের হয়ে যেতে মিয়ানমার বাধ্য করবে এবং চিরদিনের জন্য আরাকানের দরজার তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় যে ডকুমেন্টগুলো লেখা হবে, সেখানে রোহিঙ্গা-শরনার্থী বলে কোন শব্দও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। পক্ষান্তরে তারা মিয়ানমারের “দেশদ্রোহী” হিসেবে সনদ পাবে। বাংলাদেশের ভুমিতে অবস্থান করায় রোহিঙ্গাদের নতুন পরিচয় হবে, “মিয়ানমারের বিরোধীতাকারী রাজাকার হিসেবে”, একাত্তরে যেমন জামায়াত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল।

সবচেয়ে বড় যে লাভটা হবে, তা হবে সম্পূর্ণভাবে লেডি অং সান সুচীর ব্যক্তিগত ভাবে। জীবনে কোনদিন কেউ রোহিঙ্গাদের অত্যাচার ও নিপীড়নের জন্য তাকে দায়ী করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে না। নোবেলের শান্তি পদকটির সোনালী রংটাও এতটুকু মলিন হবেনা। আখেরে বিশাল এই শরনার্থীদের চাপে বাংলাদেশ ও সরকার হবে পর্যুদস্ত, বিপর্দস্ত। অতএব, এবার খেয়াল করে দেখুন, বাংলাদেশের সরকারকে দেশপ্রেমের নামে কে বা কারা মিয়ানমারকে আক্রমণ করতে বিরামহীনভাবে প্ররোচিত করছে, সুড়সুড়ি দিচ্ছে।

তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশ যদি বর্হিশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে এদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি রক্ষা করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণ ও সেনাবাহিনী অর্জন করে। এব্যাপারে কোন ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। তবে আগাম ওদের পাতা ফাঁদে কোনভাবেই পা দেয়া যাবেনা। তা হবে অনেকটা আত্মহত্যার সামিল।

লেখক- সাব্বির খান। 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close