এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সাহায্যও আটকে দিচ্ছে মিয়ানমার!

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির প্রশাসনের বাধার কবলে পড়ে ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণকার্য, সে দেশে রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত অসহায় ও গৃহহীন রোহিঙ্গা মুসিলমদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারছে না জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো। আর এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাবার, পানি ও ঔষধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তারা রীতিমত ধুঁকে ধুঁকে মানবেতর দিন পার করছেন। সবমিলিয়ে নতুন করে ত্রাণ সংকটে পড়েছে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-ই নয়; এছাড়াও অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, মিয়ানমার সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তাদের।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা অবস্থার অবনতি ও সরেজমিনে যাওয়ার বিষয়ে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তারা ত্রাণ সরবরাহ করতে পারছে না। তবে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যেন ত্রাণ সরবরাহ পুনরায় শুরু করা যায়। এছাড়া রাখাইন প্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত আছে।

এদিকে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্রে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দেখেছে, সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের পর কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে (২৪ আগস্ট) নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। সংঘাত শুরু হওয়ার পরে সোমবার পর্যন্ত জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ৮৭ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এদের অনেকের শরীর বুলেটের আঘাতে আহত। এদের মধ্যে অন্তত ৫ জন মারা গেছেন। আর বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তির হাত ও পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ হাজার শিশু রয়েছে, যারা স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু সংঘাতের ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী আরো অন্তত: তিন লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে সরকারি অনুমোদন ছাড়া বসবাস করছে।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন হিউম্যানটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের একজন মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘মানবিক সহায়তা তাদেরকেই দেওয়া হয়, বিপন্ন অবস্থায় থাকা যে মানুষরা এর ওপর নির্ভরশীল। রাখাইনের সব সম্প্রদায়ের বিপন্ন এই বাস্তবতায় সেখানে স্থগিতকৃত ত্রাণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে এখনই সব রকমের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখ খুলেছেন শান্তিতে সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইও। তিনি বলেছেন, ‘আমার নিজের দেশ পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা এবং যেসব রোহিঙ্গা পরিবার সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসছে তাদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং শিক্ষার সুযোগ দেয়া।’

গার্ডিয়ান অবলম্বনে

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close