ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

এই বাঁদর দল বাদে বাকি সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা!

রোজার মাসে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের রুটিনটাই বদলে যায় একেবারে। এক ধরণের উৎসবের মতো অবস্থা তৈরি হয়। ছোটবেলা থেকে আমার কাছে রোজা মানে ছিল স্কুল ছুটি, বাসায় মজাদার ইফতারি, বাবার তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে আসা, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ইফতার পার্টি, ইদের প্রস্তুতি- এসব। একটা মাস পুরোপুরি ভিন্ন একটা জীবনধারা অনুসরণ করার ব্যাপারটা আমার ছোটবেলায় বেশ ভালো লাগতো। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে রোজার এই সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সকলেই খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হয়, সে রোজা রাখুক বা না রাখুক। ব্যাপারটা এই নিজেদের মত করে উৎসবমুখর পরিবেশে রোজা পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো ছিল। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাপারটা সেরকম নেই। হয় আগে থেকেই কখনো ছিল না- আমি ছোট ছিলাম বলে বুঝিনি অথবা এখন নতুন করে উগ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পত্রিকায় দেখলাম, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরেও বাজারে সব্জির দাম আকাশছোঁয়া। দাম বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীরা সবজি মজুদ করে রাখছে, ফলে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এই চিত্র নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই। ধর্মানুযায়ী রমজান মাসে ইবলিশ শয়তানকে নাকি বেঁধে রাখা হয়। আমার ধারণা সে বাধা থাকলেও তার চ্যালাচামুণ্ডারা ব্যবসায়ীদের উপর ভালোভাবেই ভর করে!

রোজা, সংযম, রোজাদার

এছাড়া নতুন উৎপাত শুরু করেছে ধর্মসন্ত্রাসীরা। ছোটবেলায় শুনতাম, নোয়াখালী অঞ্চলে নাকি রোজার সময় কাউকে খেতে দেখলে তাকে কানে ধরে উঠবস করানো হয়! তখন সেটা শুনে হাসাহাসি করতাম। কিন্তু এই সন্ত্রাস যে এখন মোটামুটি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। গত বছর এরা হোটেলে হোটেলে ঢুকে খাবারে বালু ঢেলে দিয়েছিল (একটা ভাত অপচয় করলে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, সেটা শেষ বিচারের দিনে অপচয়কারীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে)। এবার দেখছি এরা মাইকিং করে মানুষজনকে খাওয়া থেকে বিরত থেকে রমজানের ‘পবিত্রতা’ রক্ষা করতে বলছে!

ধরুন, আমার ইচ্ছা আমি রোজা রাখবো না, আমার বাড়িতে খাওয়ার সুব্যবস্থা নেই, তাই আমাকে হোটেলেই খেতে হবে। এরপর মনে করুন অসুস্থ কোন ব্যক্তি, অন্য ধর্মাবলম্বী কেউ- তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? রোজার সময় অফিসেও খাবার ব্যবস্থা থাকে না, আবার হোটেলও বন্ধ! আবার দিনমজুর-রিকশাচালক, এদের তো অনেক ক্ষেত্রে আমার আপনার মত সিয়াম সাধনা করার সুযোগ নেই, এদের অর্থ রোজগারের একমাত্র সোর্স এদের শরীর। এদের তো খেতেই হবে। তাদের জন্য কী ব্যবস্থা?

রোজা, সংযম, রোজাদার

এই মানুষগুলো বাধ্য হয়ে তখন, তাদের জন্য অসুবিধাজনক এই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আর আমরা সেটাকে মহান ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ হিসেবে চিহ্নিত করে সুখ পাই। আমার তো মনে হয়, রোজার সময় খাবার দোকান গুলোতে যে পর্দা দেয়, সেটাও উচিত না। একজন সাচ্চা রোজদারের ইমান কি এতই দুর্বল যে অন্য কারো খাওয়া দেখলে তার রোজা হালকা হয়ে যাবে?

একজন টং এর দোকানদারের সারাদিন দোকান বন্ধ রাখলে কেবল নেকী দিয়ে সংসার চলবে না। কোন দোকানদার যদি স্বেচ্ছায় দোকান বন্ধ রাখে, কেউ যদি রোজা রেখে খাওয়া থেকে বিরত থাকে- তবে সেটা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। কিন্তু কাউকে জোর জবরদস্তি করে দোকান বন্ধ করানো, খেতে বাধা দেয়া পুরোপুরি সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এই সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করুন। নাহলে আজ খেতে বাধা দিচ্ছে, কাল এসে বলবে টাকনুর নীচে কাপড় কেন, পরশু বলবে দাড়ি রাখো নাই কেন!

রমজানে হোটেল বন্ধ রাখা, রমজানে খাবার বিক্রি, রমজানের সংযম

এই ধর্মসন্ত্রাসীরা হল বাঁদরের মতো। লাই দিলে মাথায় চড়ে বসবে। ইতিমধ্যে বসে আছে। এখনো না নামাতে পারলে সামনে সমূহ বিপদ। এই বাঁদর দল বাদে বাকি সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা। যারা রোজা রাখবেন তারা স্বাস্থ্যকর খাবার খান, আর যারা রোজা রাখবেন না তারা ঠিকমত খাবার পান- এটাই কামনা।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close