বিবিধ

একজন ইউএনও অফিসার কিংবা একটি বাতিঘরের গল্প

মো: গোলাম মোস্তফা:

কোন এক শীতের রাতে অাপনার সাথে দেখা হয়েছিল। রাত্রী তখন ৯টা হবে। অামার মনে অাছে সে দিনটার কথা। অাপনি তখনো অাপনার চেয়ারটায় বসে কাজ করছেন। অনেকটা সময় কেটে গেছে তারপর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্বন্ধে অামার যে ধারণা ছিল তার পুরো বিপরীতে ছিলেন অাপনি। সেটা বুঝতে যদিও একটু সময় নিয়েছি অামি।

অাপনার সাথে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়েছি। অামি থেকে বেরিয়ে অামাদের বলাতে যে অফুরন্ত সুখ, তা শিখেছি অাপনার কাছে। অাপনার কথা বলার সময় কখনো দেখিনি অামার বলেছেন। অাপনি যতবার অামাদের নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা নিয়ে কিছু বলেছেন ততবারই মুগ্ধ হয়েছি। হ্যাঁ, হয়তো অাপনার সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। তবে যা হয়েছে এই সময়ে, তাই অামার কাছে অফুরন্ত।

ঈদের দিন সারাটা দিন মানুষ ঘুরে যখন ক্লান্ত হয়ে রাতে ঘুমিয়ে, তখন অাপনি জেগে কান্ডারির মতো অামাদের পাশে ছিলেন। কোন এক হতভাগী বিপদে পড়ে সাহায্য চেয়েছিল। তখন রাত ২টা হবে। ভয়ে ভয়ে অাপনাকে ফোন করেছিলাম। বিন্দু পরিমান বিরক্তি পাইনি অাপনার কণ্ঠে। বরং সাহস দিয়েছিলেন বিপদে। সেদিন কোন নির্বাহী অফিসার নয়, একজন মানুষ রাশেদুল হক প্রধান হিসাবে পাশে ছিলেন, সাহস যুগিয়েছিলেন। বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলেন। মাঝে মাঝেই অাপনার অফিস রুমে বসা হতো। অনেক মানুষ অাসে আপনার কাছে। অনেকে কোন অাবদার নিয়ে, নয়তো অভিযোগ নিয়ে। কোনোদিন দেখিনি অাপনি বিরক্ত হয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগ-অাবদার নিজে যাচাই করে সহজ সরল জলঢাকার মানুষের পাশে ছিলেন।

বৈশাখে বর্ষবরণ নিয়ে সবাই যখন ব্যস্ত পরিবারে সাথে কেনাকাটা নিয়ে, তখন অাপনি ব্যস্ত কী করে অাপনার অফিসে সহায়তাকারী কর্মচারিদের মুখে হাসি ফোটাবেন। ভোরবেলা অফিসে ডেকে একটা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে রংপুর পাঠালেন পান্জাবি কিনতে। বিকেলবেলা সবাইকে ডেকে যখন পাঞ্জাবী দিচ্ছিলেন, তাদের থেকে অাপনার খুশিটাই বেশি ছিল। বৈশাখের দিন অাপনার পাঞ্জাবীটাই নতুন ছিল না স্যার, অাপনার পাশের সবাই নতুন জামা পরে ছিল। কিন্তু অাপনার অানন্দের মতো অামাদেরটা যে ছিল না!

অাপনি কেবলই একজন নির্বাহী অফিসার নন। অাপনি জলঢাকার যুব সমাজের কাণ্ডারি, অামাদের বাতিঘর। অামি চিৎকার করে বলতে পারি অামাদের উত্তরবঙ্গের বৃহৎ শহীদ মিনার অাছে যা অাপনার পরিকল্পনাতেই বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মোর‍্যাল অাছে, যা অাপনার পরিকল্পনাতেই নির্মাণ হচ্ছে। জলঢাকার এমন কোন যুব সংগঠন, ক্রীড়া সংস্থা, সেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন নেই যার উন্নয়নে অাপনি কাজ করেন নি। অাপনি অামাদের, জলঢাকার মানুষের চিন্তার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। অাপনি অামাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। নিজের এলাকা, থানা সর্বোপরি দেশকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন। নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন। ভাল কাজ করতে জলঢাকার সর্বস্তর মানুষকে এক কাতারে নিয়ে এসেছেন। এত কিছুর পরও জলঢাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে আপনাকে!

অাকাশে কালো মেঘের স্থান দীর্ঘস্থায়ী নয়, সাদা মেঘের ভিড়ে তা হারিয়ে যাবে। অামাদের জলঢাকার মানুষের হৃদয়ে যে অালো অাপনি জ্বালিয়েছেন তা শত কালো মেঘের ভিড়েও জ্বলে উঠবে। মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান স্যার, অাপনি একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে জলঢাকায় এসেছেন, কিন্তু অামাদের মাঝে একজন বাতিঘর হিসাবে বেঁচে থাকবেন! 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close