ক্ষতবিক্ষত যোনিপথ এবং দুই চামচ ‘বাঙালি-চেতনা’

Ad

rahmanতনুর লাশের আপডেট পান নাই…

পূজার ধর্ষক সাইফুলকে তো চেনেন?

খাদিজাকে কোপানো বদরুলকে তো চেনেন?

আফসানার খুনি রবিনকে তো চেনেন?

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে তো চেনেন?

তা এদের চিনে কি করতে পেরেছি আমরা, বলেন তো?  ভাইরে.,. আইন তো বেদ-বাক্য না, মানুষের রচনা… মানুষের প্রয়োজনেই তো আইন। কেন এক রাতের নোটিশে এই আইন পরিবর্তন হবে না?

কেন বসে বসে মশকরা দেখতে হবে? আমরা কি এর চাইতেও কম বয়সে ধর্ষণের ঘটনায় হ্যাশ-ট্যাগ দেয়ার অপেক্ষায়? মনে করেন ‘সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ধর্ষিত’- এই নিউজ আসলে আমরা জেগে উঠবো? গত ৯ মাসে ধর্ষণের সংখ্যা ৫১২, তার মধ্যে ১২১ জনের বয়স ৫ থেকে ১২।

আমাকে বোঝান- কেন বছরের পর বছর চলমান প্যাকেজ নাটকের একই স্ক্রিপ্টের মত রাতের অন্ধকারে সাইফুল কিংবা বদরুলদের নিয়ে ঘটনাস্থল প্রদর্শনে যায় না পুলিশ? কেন পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর সময় পেছন থেকে গুলি খেয়ে পড়ে থাকে না দেড় হাজার মানুষের খুনি সোহেল রানা?

এমন জানোয়ারদের ক্রসফায়ারে কার কি এসে যায়?

বাংলাদেশ পুলিশে ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তানের কোন পিতা নাই?

আসলেই নাই নাকি এই মেয়েটার বাপ হতে লজ্জা লাগে?

আমাদের মাননাধিকার কর্মীরা ধর্ষণের শাস্তি কমাতে বলেন। ফাঁসি নাকি খুব বাড়াবাড়ি। ভাবখানা এমন ধর্ষণের অপরাধে বুঝি প্রতিদিন এখানে একটা একটা করে ফাঁসি কার্যকর হয়। যদি সমস্ত ধর্ষকদের ফাঁসি হতো তাহলে স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিদিন একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হতো। পাঁচ বছর থেকে পঞ্চাশ বছর, ধর্ষণের হাত থেকে এই দেশে কারো নিস্তার নাই। কেন নিস্তার থাকবে বলেন?

বিচার না হলে… শাস্তি না হলে… কেন ধর্ষণ কমবে?

আসলে সত্যি বলতে পাঁচ বছরের মেয়েটার ভাগ্য অনেক ভালো। কারণটা হচ্ছে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় নাই…

শুধু পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এমন খবরের ভিত্তিতে-

১) এই দেশে গড়ে প্রতি তিন দিনে একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
২) এই দেশে প্রতি আট ঘন্টায় একজনকে ধর্ষণ করা হয়।

পত্রিকার যেসব ঘটনা আসে না তার সংখ্যা কত সেটা নিয়ে কোন ধারণা নেই আমার। পরিবারের ভেতরে যেসব ধর্ষণ হয় সেসবের সংখ্যাও আমার জানা নাই। যেসব খবর কে পত্রিকায় আসতে দেয়া হয় না সেসবও আমি বলতে পারবো না।

তার বিপরীতে- শেষ কবে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন? এই জীবনে কতগুলো ধর্ষণের মামলা নিষ্পত্তি হতে দেখেছেন? অথচ গত দশ বছরে এই দেশে দশ হাজার ধর্ষণ হয়েছে। গত দশ বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার গণ-ধর্ষণ হয়েছে। গত দশ বছরে এক হাজার জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং এই তথ্যগুলো কেবল পত্রিকায় প্রকাশিত সংখ্যা থেকে বলা (সংখ্যা গুলো রাউন্ড ফিগারে আনা হয়েছে)। ধর্ষকের অভয়ারণ্যে- এই মেয়েটা বড়ই ভাগ্যবান; অন্তত বেঁচে তো আছে…

তার চেয়ে আসেন আমরা সবাই মিলে ফেসবুকে বসে বসে দুই দিনের গলাবাজি করি। ভুলে যাই। তারপর চার বছরের শিশুর ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহের অপেক্ষা করি। এই সাইকেলই হোক এই জাতির অন্যতম নির্ণায়ক বৈশিষ্ট্য!

ওরা আমাদের কন্যাদের যোনিপথ ব্লেড দিয়ে কেটে কেটে বড় করুক…

ওদের লিঙ্গ আবার অনেক বড় কি না..

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (3 votes, average: 4.33 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad