খেলা ও ধুলারাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮

প্রয়োজনে এক পা ছাড়াই ফাইনাল খেলবেন রাকিটিচ!

১৯৯৮ সালের পর দেশের প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। তাও আবার ফুটবল খেলার তথাকথিত জনক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। জিতলেই স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। এমন ম্যাচে খেলার সুযোগ কি কেউ হারাতে চান? তা সে যতই বাঁধা-বিপত্তির পাহাড় সামনে এসে হাজির হোক না কেন! চলার পথে যতই কাঁটা বিছানো থাকুক না কেন!

তাই তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের আগেরদিন জ্বরে গা পুড়ে যেতে থাকলেও, সেটিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেননি ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠের কান্ডারি ইভান রাকিটিচ। প্রচন্ড দেশপ্রেম আর সাফল্যের অনিবার্য ক্ষুধার কাছে হার মেনে সবকিছুই। আর সেজন্য অসুস্থ শরীরেও নেমে পড়েছেন এমন একটি ম্যাচ খেলতে, যেটি শুধু তারই নয়, জাতীয় দলে খেলা তার সকল সতীর্থেরই এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ম্যাচ।

লুকা মড্রিচ, ইভান রাকিটিচ, লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া

এই ম্যাচে খেলার জন্য শুধু জ্বরকে হার মানানো কেন, দরকার হলে যেকোনো কিছুই করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। আর সামনের ম্যাচে যদি তাকে একটি পা ছাড়াও খেলতে বলা হয়, তাতেও আপত্তি নেই তার! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের অভাবনীয় জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনটিই বলেছেন আবেগাপ্লুত রাকিটিচ।

“গত রাতে আমার প্রচন্ড জ্বর এসেছিল। শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট। বিছানায় শুয়ে শুয়ে পরের দিন খেলার শক্তি সঞ্চয় করছিলাম আমি। শেষ পর্যন্ত আমার কষ্ট একদমই বৃথা যায়নি। ফাইনালে যদি আমাকে এক পা ছাড়াই খেলতে হয়, তাও খেলবো আমি।”

রাকিটিচের কথা থেকেই পরিষ্কার, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ম্যাচটি জেতার জন্য কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। এবং এখন সেই ম্যাচ জিতে যাওয়ার পর, রবিবার মস্কোয় ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের আগেও অভিন্ন অনুভূতি খেলা করছে তার হৃদয়-মন জুড়ে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে প্রচুর কথা হয়েছে গণমাধ্যমে। বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়া তো ম্যাচ শুরুর আগেই তাদের দলকে ফাইনালে দেখে ফেলেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত ফুটবল যে ঘরে ফিরছে, এ বিষয়েও নিঃসন্দেহ ছিল তারা। ক্রোয়েশিয়াকে তারা বলতে গেলে পাত্তাই দেয়নি। টানা দুইটি ম্যাচে ১২০ মিনিট করে খেলা ক্রোয়েটদের নাকি দম শেষ হয়ে গেছে। তাই থ্রি লায়ন্সদের সাথে সুবিধে করে উঠতে পারবে না তারা!

এইসব ব্যাপার নজর এড়ায়নি ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দেরও। তারা নাকি সবকিছুই দেখছিলেন, আর ইংলিশ মিডিয়ার এ জাতীয় কথাই নাকি তাদেরকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে তুলেছিল ম্যাচটি জয়ের ক্ষেত্রে। “তারা ভেবেছিল তারা ইতিমধ্যেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা কিছু আপলোড করা হচ্ছিল, তাতে আমাদের এমনটিই মনে হয়েছে। তারা চাইলে রবিবারেও এইসব কাজ করা চালিয়ে যেতে পারে। আর আমরা সেই সময়ে ফাইনাল ম্যাচ খেলতে থাকবো!”

ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া খেলবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের জয়ী দল ফ্রান্সের বিপক্ষে। এটি হতে চলেছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের রি-ম্যাচ, যেখানে ফরাসিদের কাছে ২-১ গোলে হার মেনেছিল ক্রোয়েটরা। এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা অন্যতম ফেবারিট। তাই ফাইনাল ম্যাচেও সম্ভাবনার পাল্লা তাদের দিকেই হেলে থাকবে বেশি। কিন্তু তারপরও রাকিটিচের কণ্ঠে যেমন হার-না-মানা মানসিকতার দেখা মিলছে, তাতে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে যদি রাকিটিচ, মড্রিচ, পেরিসিচদের দলেরই জয় হয়, তাতে বিস্ময়ের বিন্দুমাত্র উপাদানও থাকবে না।

সূত্রঃ গোল ডট কম

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close