যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাওই দ্বীপটিকে বিশ্বের উষ্ণমন্ডলীয় স্বর্গ বলা হয়। এ দ্বীপটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মন্ডিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ দ্বীপের বাসিন্দারা এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, “মাওই না কো ওই”(Maui No Ka Oi), যার ইংরেজী অর্থ “মাউই ইজ দ্যা বেস্ট”। আমি অবশ্য আজ মাওই দ্বীপ নিয়ে লিখতে বসিনি। মাওই দ্বীপ নিয়ে লিখব অন্য কোন দিন। আজ যেটা নিয়ে লিখব, তা এই মাওই দ্বীপের সাথে সম্পর্কিত- তাই এ দ্বীপ নিয়ে এত কথা বললাম।

মাওই দ্বীপের অনন্য সুন্দর নামকরা এক রেইনফরেস্ট ‘হানা’। মাওই থেকে হানা যাবার পথে যে হাইওয়ে পড়ে, সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় যে কেউ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাবে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও থামবে এবং বিস্মিত হয়ে দেখবে সারি সারি ইউক্যালিপ্টাস গাছের সারি।

ভাবছেন, ইউক্যালিপ্টাস গাছ আবার দেখার কি আছে? ও তো আমাদের দেশেই আছে কত!

তা, আপনি অবশ্য ঠিকই ভাবছেন। ইউক্যালিপ্টাস গাছটি আসলেই খুব কমন। সেগুলো অবাক হয়ে দেখার কিছু নেই। অনেক জায়গায়, অনেক দেশেই ইউক্যালিপ্টাস গাছ রয়েছে। তবে জানেন কি! হানার হাইওয়েতে যে ইউক্যালিপ্টাস গাছ রয়েছে, সেগুলো কিন্তু স্বতন্ত্র। তেমন ইউক্যালিপ্টাস গাছ আপনি চাইলেই দুনিয়া জুড়ে যে কোন জায়গায় খুঁজে বের করতে পারবেন না। কারণ সেই সারি সারি ইউক্যালিপ্টাস গাছের রয়েছে অনন্য এক বৈশিষ্ট্য। রয়েছে, রংধনুর বিভিন্ন রঙের সমাহার।

গাছগুলোকে প্রথম দেখায়, যে কারো মনে হতে পারে, রঙ করা হয়েছে বুঝি গাছেগুলোর গায়ে। কিন্তু না, গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবেই এমন রঙিন। এই বিশেষ ধরণের ইউক্যালিপ্টাস গাছগুলোর নাম, ইউক্যালিপ্টাস ডেগলুপ্টা। যা মিন্দানাও গাম বা রেইনবো গাম বলেও পরিচিত। এ গাছের গুঁড়িতে বিভিন্ন রঙের আঁকাবাঁকা দাগগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে পাল্টে গিয়ে ভিন্ন বর্ণ ধারণ করে উপরের ছাল ‍উঠে যাবার ফলে। গাছের বয়স বাড়ার সাথে এগুলোর গায়ের রঙগুলো আরও গাঢ় হতে থাকে। নীল, কমলা, বেগুনী, মেরুন প্রভৃতি রঙের চমৎকার শেডগুলো দিনে দিনে বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে।

ইউক্যালিপ্ট্যাস ডেগলুপ্টা শুধু যে দেখতেই সুন্দর তা নয়, মিষ্টি গন্ধের জন্যও এর সুখ্যাতি রয়েছে।

উত্তর গোলার্ধে প্রাকৃতিকভাবে ইউক্যালিপ্টাস গাছের এই একটিমাত্র প্রজাতিরই দেখা মেলে, ইউক্যালিপ্টাস ডেগলুপ্টা। এ গাছের প্রথম দেখা মেলে ফিলিপাইনে। কিন্তু, বর্তমানে শুধু হাওয়াই এর  মাওই দ্বীপেই নয়, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি জায়গায়ও দেখা মেলে এ গাছের।  ফিলিপাইনে এ গাছের গুঁড়ি  কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কোন কোন জায়গায় প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনেও এ গাছের চাষ করা হয়।

খুব দ্রুত বাড়ে গাছগুলো। বছরে গড়ে ছয় ফুটেরও বেশি লম্বা হয় ইউক্যালিপ্টাস ডেগলুপ্টা। ২০০ ফুটেরও বেশি লম্বা আর ৯৫ ফুটেরও বেশি চওড়া হতে পারে এ গাছগুলো।

বিচিত্র রং, রুপ, গন্ধ অনন্য সৌন্দর্য দান করেছে গাছগুলোকে।

এর আগে একদিন লিখেছিলাম, রেইনবো মাউন্টেনের কথা, আজ লিখলাম রেইনবো ট্রি এর কথা। এমন বর্ণিল কতকিছুই যে আছে দুনিয়ায়! সৃষ্টিকর্তার কত ধরণের মহিমা! একজীবনে বুঝি এর সিকি ভাগও জানতে পারা সম্ভব নয়!

আরও পড়ুন-

*

এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসেবুকে ম্যাসেজ করুন।

Comments
Spread the love