এটা কি আসলেই বাংলাদেশি ইঞ্জিন? নাকি জাপানী বুলেট ট্রেন এর ইঞ্জিন

Machine ta kar silo nijer naki onno kwr

এই ইঞ্জিন বিয়ের আগ পর্যন্ত ঠান্ডা ছিল কিভাবে?

লোকো তে ভালোই ডিজেল আছে দেখছি…

সময় কম তাই বামপার ফলন!

না, উপরের মন্তব্যগুলো কোন চটি পেইজ বা সাইট থেকে নেওয়া মন্তব্য না। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক দ্বিতীয়বারের মত বাবা হয়েছেন, যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছেন তার স্ত্রী, এমন অসম্ভব আনন্দের খবরে উপরের মন্তব্যগুলো করেছেন আমাদের চারপাশের শিক্ষিত মানুষেরা। পার্ভাট, নির্লজ্জ, অক্ষম যৌনবিকারগ্রস্ত অজস্র ‘মানুষ’ এই মুহূর্তে ফেসবুকে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের যমজ বাচ্চা হওয়ার সংবাদে রসিয়ে রসিয়ে বিকৃত ইঙ্গিত আর নোংরামির উৎসব করছে। যেন ৬৯ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম হওয়ায় বিশাল বড় কোন পাপ হয়ে গেছে মুজিবুল হকের, করে ফেলেছেন এমন হাস্যকর কোন ঘটনা, যার ফলে নোংরামি আর টিটকারী দেওয়াটা ফেসবুক নিবাসী পার্ভাটদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য ও দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে!

অথচ খবরটি অসম্ভব আনন্দের। ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া সৎ ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি মুজিবুল হক ছিলেন চিরকুমার। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর ৬৭ বছর বয়সে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের মীরাখলা গ্রামের ৩২ বছর বয়সী হনুফা আক্তার রিক্তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার নিঃসঙ্গ জীবনের অবসান ঘটন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সকল শ্রেণীপেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানালেও তখনো কিছু মানুষ তার এই বিয়ে নিয়ে নোংরামি করেছিল। নোংরামি করেছিল গত বছর ২৮শে মে যখন তার স্ত্রী একটি কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তখনো! মানে তাদের কথা হচ্ছে কেন রেলমন্ত্রী এতো বছর চিরকুমার থেকে এরপর বিয়ে করলেন, বিয়ে করলেন তো করলেন, কেন তার বাচ্চা হলো? কেন যমজ বাচ্চা হলো? এতো বছর বয়সে বাচ্চা কিভাবে হয়? এমনই বিচিত্র এক দেশে বাস করি আমরা, এখানে ৬০ বছরের পরেই মানুষ বৃদ্ধ, আর বৃদ্ধ অর্থ এখানে জীবনের সমাপ্তি,আর কিচ্ছু করতে পারবে না সে, কাউকে ভালোবাসতে পারবে না, বিয়ে করতে পারবে না, জীবনকে উপভোগ করতে পারবে না, তার বাচ্চা হতে পারবে না! যদি হয়, তাহলেই শুরু হবে নোংরা ইঙ্গিতে ভরা টিটকারী, “মেশিনটা নিজের ছিল তো!”

অথচ একজন মন্ত্রী হয়ে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখাতেন,বিয়ে না করে শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য কাউকে তুলে আনতেন, ধর্ষণ করতেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ছুঁড়ে ফেলতেন, কাউকে আটকে রেখে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যেতেন, বিশ্বাস করুন, কোন নোংরামি, ট্রল বা টিটকারী তো দিতই না কেউ, উল্টো এই কাজগুলোর পক্ষে সাফাই গাইবার জন্য পাওয়া যেত এই সমাজের অনেককেই! তারা তখন বলতো আরে ভাই উনি পুরুষ মানুষ, এমন দুই একটা ঘটনা ঘটতেই পারে, এটা নিয়ে এতো কথা বলার কি হলো? তার বদলে তিনি সামাজিক ও পারিবারিক নিয়মে বিয়ে করে সুখে আছেন, ভালো আছেন, নিঃসঙ্গ জীবনের একাকীত্ব ঘুচিয়েছেন একজন সঙ্গীর পাশে থেকে, এটাই সহ্য হচ্ছে না আমাদের পার্ভাট চুতিয়াদের। কেন হচ্ছে এমন? কেন সমাজের একটা বিশাল অংশ ধর্ষক, পার্ভাটদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে আর ভালো মানুষদের কটূক্তি আর টিটকারী দিচ্ছে? এর কারণ কি জানেন?

রেলমন্ত্রী, ট্রোল

এর কারণ হচ্ছে এই সমাজের বেশিরভাগ মানুষ নোংরা মানসিকতার পার্ভাট, ব্যক্তিজীবনে ব্যর্থ; আলসেমি এবং নানাভাবে সময়ের অপচয়সহ নানা কারণে চরমভাবে হতাশ এবং বিরক্ত; একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বেকার কিন্তু চাকরী করবার জন্য পড়ালেখা করতে চায় না, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আত্মকর্মসংস্থানের বিন্দুমাত্র চেষ্টা বা আগ্রহও নাই; অনেকেই যৌনজীবনে অসৎ হওয়ায় প্রচন্ডভাবে অসুখী অথবা অতিরিক্ত যৌনবিকারতায় কলিকাতা হারবাল টাইপের মারাত্মক অপকারী সব পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলে তরুণ বয়সেই যৌনসক্ষমতা প্রায় পুরোটাই হারিয়ে ফেলায় সুস্থ যৌনজীবনকে ঘৃণা করে। ফলে কেউ যদি ৬৭ বছর বয়সে বিয়ে করে ভালোবেসে সুখী হয়, বাচ্চা-কাচ্চার বাবা হয়, তাহলে সেটা এই অক্ষম পার্ভাটেরা সহ্য করতে পারে না, নিজেদের জীবনের যাবতীয় অসুস্থ চিন্তাভাবনা, অক্ষমতা আর যৌনবিকার বিষাক্ত চিন্তাভাবনায় তারা ধরেই নেয় যে এতো বছর বয়সে বাচ্চার বাবা হওয়া অসম্ভব, নিশ্চয়ই এই বাচ্চার বাবা অন্য কেউ! ফলে তারা তাদের এই নোংরা কুৎসিত চিন্তাগুলো বমি করে উগরে দেয় অনলাইনে, ফেসবুকে, পেইজের কমেন্টে, পত্রিকার মন্তব্যের ঘরে!

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে এরাই আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, দুই টাকায় ইন্টারনেট প্যাকেজ থেকে শুরু করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির এক্সিকিউটিভ, মহল্লার রাস্তায় মাস্তানি করা লাফাঙ্গা গাঁজাসেবী থেকে শুরু করে, স্কুল-কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে নামী-দামী প্রাইভেট-পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখতে হ্যান্ডসাম, স্মার্ট শিক্ষার্থী কিংবা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক; বাসের হেল্পার আর লেগুনার ড্রাইভার থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত ভালো চাকুরী করা কিংবা ব্যবসায়ী—খুঁজতে গেলে দেখা যাবে এই কমেন্টকারীদের প্রত্যেকেই আসলে আমাআদের চারপাশের এমন কেউ! ব্যাক্তিজীবনের সকল ক্ষোভ, অপ্রাপ্তি, হতাশা আর আফসোস এরা উগড়ে দেয় ফেসবুকে এসে, যেহেতু তাদের নিজেদের জীবনে বলার মতো কোন গল্প নেই, সুস্থ যৌনজীবন নেই, তাই তারা মুজিবুল হক আর তার স্ত্রীর বিয়ে নিয়ে নোংরামি করে, যেহেতু তাদের নিজেদের বলার মতো কোন অবস্থান নেই, তাই তারা নোংরামি করে মন্ত্রীর সন্তান জন্মদান সক্ষমতা নিয়ে। অথচ এসব করে এরা কেবল নিজেদের জন্মপরিচয়টাই তুলে ধরছে, নিজেদের নোংরা কীটের মত চেহারাটা দেখাচ্ছে, এরা তা নিজেরাও জানে না!

রেলমন্ত্রী, ট্রোল

সুতরাং, রেলমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য হাসাহাসি করার আগে উনসত্তর বছর বয়সে জমজ সন্তানের বাপ হয়ে দেখান। তারুণ্য শেষ হওয়ার আগেই আপনার ক্ষমতা, আপনার যৌনজীবন অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে বিকারগ্রস্থ হয়ে নষ্ট করছেন বলে এখন মানুষকে সুখে থাকতে দেখলে, বাচ্চার বাপ হতে দেখলে হিংসায় পুড়তে পুড়তে নোংরামি করবেন, এটা কেমন নির্লজ্জতা? এবার একটু থামেন, আপনার নোংরা চিন্তাগুলো, আপনার জন্মপরিচয় নিয়ে সন্দেহ আপনার ভেতরেই রাখেন, খুল্লামখুল্লা কুৎসিত নেচে সেই চিন্তাগুলো বমি করে চারপাশ বিষাক্ত করবেন না, উৎকট দুর্গন্ধ আসে, জঘন্য লাগে। কেউ একজন এইভাবে কি ফেসবুকের কমেন্টে, কি পেইজে, কি পত্রিকায় মন্তব্যের ঘরে ক্রমাগত বমি করে যাচ্ছে, দেখতেও তো লজ্জা লাগে আমাদের। আপনার লাগে না?

রেলমন্ত্রীর প্রতি শুভকামনা! মানুষ কি বলবে বা সমাজের লোক তাকে কি বলছে, কোন দিকে না তাকিয়ে পাত্তাও না দিয়ে নিজের মত করে সুখে নাছেন, ভালো আছেন। তিনি ভালো থাকুন, নিজের দায়িত্ব আরো নিখুঁতভাবে পালন করে যান। তার সন্তানগুলো মানুষের মত মানুষ হয়ে বেড়ে উঠুক আর তাদের এই ভালো থাকা দেখে ফেসবুক নিবাসী এই পার্ভাটেরা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে থাকুক!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-