খুব প্রচলিত একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করি। শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন ছাত্রকে, বিশ্বের তিনটে বিখ্যাত প্রাচীরের নাম বলো। ছাত্রের চটপট জবাব- চীনের প্রাচীর, বার্লিন প্রাচীর আর রাহুল দ্রাবিড়।

নিছক মজা করতেই এটা বানানো তাতে সন্দেহ নেই, তবে ওপরে যার নাম নিলাম, এই ভদ্রলোককে প্রাচীর বললে বাড়িয়ে বলা হবে না মোটেই। নামের পাশেই যে সেঁটে গিয়েছিলো ‘দ্যা ওয়াল’ তকমাটা।

ব্যাঙ্গালোর, আইটি সিটি অফ ইন্ডিয়া। জন্ম মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে হলেও বাবার চাকুরীসূত্রে বড় হয়েছেন ব্যাঙ্গালোরের কর্ণাটকে। এখানেই পড়ালেখায় হাতেখড়ি, ক্রিকেটেও। বাবা ছিলেন ক্রিকেটপাগল মানুষ, ভারত তখন সদ্যই জিতেছে বিশ্বকাপ শিরোপা; ক্রিকেট উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে, দ্রাবিড় পরিবারও বাদ গেলো না। বাবার সাথেই নিয়মিত মাঠে খেলা দেখতে যেতেন রাহুল আর তার ভাই বিজয়। সেখান থেকেই ক্রিকেটপ্রেমের শুরু।

শুরু হলো খেলাটার সাথে বসবাস। রাহুল তখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ডাক পেয়েছেন অনূর্ধ-১৫ রাজ্যদলে। খেলার জন্যে যেতে হবে পাশের রাজ্যে; কিন্ত বাধ সাধলেন মা। ক্রিকেটে মন দিতে গিয়ে মার্কশিটের বেহাল দশার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন রাহুল। এই বিপদে এগিয়ে এলেন রাহুলের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর আশ্বাসে খেলতে গেলেন রাহুল, ক্রিকেটে ডুব দিলেন আরো গভীরভাবে।

বয়সভিত্তিক দলগুলোতে পারফর্ম করে এসেছেন বরাবর। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৯১ সালে, নেতৃত্ব দিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের, কড়া নাড়ছিলেন জাতীয় দলের দরজায়। খুব ধুমধাম না হলেও, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সিঙ্গার কাপে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকটা হয়েও গেলো শ্রীলংকার বিপক্ষে। যদিও সেটা ভুলে যাওয়ার মতোই। মুরালির ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে করতে পেরেছিলেন মাত্র তিন রান। পরের ম্যাচ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে, এবারও হতাশ হতে হলো মাত্র চার রানে আউট হয়ে।

ওয়ানডে অভিষেক ভালো না হলেও সাদা পোষাকের রাজকীয় ক্রিকেটে প্রথমবারেই নিজের জাত চেনালেন রাহুল দ্রাবিড়। ক্রিকেটতীর্থ লর্ডসে অভিষেক, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ছিলো সেটা। ব্যাট করতে নামলেন সাত নম্বরে, ছয় ঘন্টা ক্রীজে টিকে রইলেন দাঁতে দাঁত চেপে; যেটাকে পরে নিজের ট্রেডমার্ক বানিয়ে ফেলেছিলেন। আরেক অভিষিক্ত সৌরভ গাঙ্গুলীকে সাথে নিয়ে লিড এনে দিলেন দলকে, নিজের নামের পাশে যোগ করলেন ৯৫ রান।

রাহুল দ্রাবিড়, টেস্ট ক্রিকেট, ক্রিকেট, ভারতীয় ক্রিকেট দল

শুরুতে টেস্টে সফলতা পেলেও ওয়ানডেতে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছিলেন না। বেশ বিরতি দিয়ে বড়ো ইনিংসের দেখা মিলছিলো। তবে মানিয়ে নিয়েছেন বেশ দ্রুত। আর তাই তো শচীন টেন্ডুলকারের পর মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তেরো হাজার টেস্ট রানের পাশাপাশি নামের খাতায় জমা করেছেন দশ হাজার ওয়ানডে রানও।

দ্রাবিড়ের নাম নিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কলকাতা টেস্টের সেই ১৮০ রানের ইনিংসটা আসবেই। রূপকথার জয়? হ্যাঁ, বলা যায়। ফলোওন থেকে ফিরে ম্যাচ জয়ের নজির তো দু-তিনটের বেশী নেই ক্রিকেট ইতিহাসে। সেই বীরোচিত ইনিংসটাও যেমন চাপা পড়ে গিয়েছিলো ভিভিএস লক্ষণের ডাবল সেঞ্চুরীর নীচে।

ক্যারিয়ারজুড়েই এমন পাদপ্রদীপের নীচের অন্ধকার জায়গাটুকুতেই ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। ভালো খেলেছেন অথবা খেলেননি- কিন্ত তাঁকে নিয়ে মিডিয়া বা লোকজনের মাতামাতি হয়েছে খুব কম সময়েই। আড়ালে থেকেই নিজের কাজটা একমনে করে গিয়েছেন। প্রায় দেড়যুগ ধরে ব্যাটটাকে ঢাল বানিয়ে রুখে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের বোলারদের বাঁধভাঙ্গা আক্রমণ, কখনও তলোয়ার বানিয়ে পালটা আক্রমণ করেছেন; কিন্ত সেভাবে কখনও বীরের সম্মান পাননি। আর্যদের আগমনে যেমন ভারতবর্ষের ইতিহাস থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো দ্রাবিড় সভ্যতার নাম, তেমনই রাহুল দ্রাবিড়ের একটানা পরিশ্রমের ফসলটা দিনশেষে লোকে ভুলে গিয়েছে, অন্য কারো স্টারডমের কাছে হেরে গিয়েছে ‘দ্যা ওয়ালে’র অবদান।

২০০৪ সালে স্টিভ ওয়াহ’র অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাঠে একই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরী আর হাফসেঞ্চুরী করে ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন, হয়েছিলেন ম্যাচসেরা, পরে সিরিজসেরাও। ভারত করেছিলো সিরিজ ড্র; সেটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ও ছিলো।

ভারতের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ২০০৫ সালে, ২০০৭ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে পর্যন্ত পঁচিশটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছিলেন আটটিতে, ৭৯ ওয়ানডেতে টস করেছেন, জয়ের সংখ্যা ৪২; আহামরি না হলেও মন্দ নয়। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জিতিয়েছিলেন, করেছেন ডাবল সেঞ্চুরী; এবারও টেস্ট সিরিজসেরা। ৩৫ বছর পর দলকে টেস্ট সিরিজ জিতিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে, ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারত টেস্ট সিরিজ জিতেছিল একুশ বছর পর, সেটাও দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে।

রাহুল দ্রাবিড়, টেস্ট ক্রিকেট, ক্রিকেট, ভারতীয় ক্রিকেট দল

টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ সর্বোচ রানের মালিকের নাম রাহুল শরদ দ্রাবিড়। ১৬৪ ম্যাচে ৫২’র বেশী গড়ে ১৩২৮৮ রান দ্রাবিড়ের খাতায়। ওয়ানডেতে ম্যাচসংখ্যা ৩৪৪, এগারো হাজারী ক্লাবে ঢোকার ১১১ রান আগেই থেমে গিয়েছিলেন; গড় প্রায় চল্লিশ। সাদা পোষাকে ছত্রিশটা শতকের পাশে তেষট্টি অর্ধশতক। ৬৩ কে উলটো করলে আবার ৩৬’ই হয়; কাকতালীয় বটে! রঙিন জার্সিতে সেঞ্চুরী এক ডজন, কিন্ত পঞ্চাশ পেরিয়েছেন তিরাশিবার! ধারাবাহিকতার নমুনা এখানেই পাওয়া যায়।

দ্রাবিড়ের অর্জন লিখে শেষ করতে গেলে যে কেউই ক্রিকেট পরিসংখ্যানের বাধ্য ছাত্র হয়ে যাবেন। টেস্ট ক্রিকেটে সবচাইতে বেশী বল মোকাবেলা করা ব্যাটসম্যানটির নাম দ্রাবিড়, উইলো হাতে বাইশ গজে সবচেয়ে বেশী সময়ও কাটিয়েছেন তিনিই। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ৩১২৫৮ টি বল মোকাবেলা করেছেন, অন্য কেউ ত্রিশ হাজারও ছুঁতে পারেননি। নন স্ট্রাইকিং এন্ডে দাঁড়িয়ে মোট ৪৫৩টি উইকেটের পতন দেখেছেন, এটাও বিশ্বরেকর্ড। সবচাইতে বেশী সেঞ্চুরী এবং হাফসেঞ্চুরী জুটির রেকর্ডটাও তাঁর দখলে, সংখ্যাটা যথাক্রমে ৮৮ এবং ১২৬। টেস্টে ফিল্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন দ্রাবিড়; ২১০ টি। ডন ব্র‍্যাডম্যানের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিনটি সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরী করেছেন, দলগুলো ছিলো নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তান। সবগুলোই ছিলো অ্যাওয়ে সিরিজ; দেশের বাইরে ভারতের ব্যাটসম্যানদের দুর্নাম ঘোচানোর শুরুটা করেছিলেন দ্রাবিড়ই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরী হাঁকানোর সাথে সাথেই দশটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সব কয়টিতে শতক হাঁকানো প্রথম ব্যাটসম্যান হয়েছেন তিনি (বছরখানেক আগে এই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ইউনিস খান)। ২০০৪ সালে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড়ের যুগপৎ পুরষ্কার।

ব্যাটসম্যান দ্রাবিড় শিল্পী ছিলেন না কখনও। তাঁর উইলোতে তুলির আঁচড়ের বদলে জ্যামিতিক রেখাগুলোই বেশী ফুটে উঠতো। ছিলেন ক্রিকেটীয় ব্যাকরণের একনিষ্ঠ অনুসারী। তারপরও লারা-টেন্ডুলকার কিংবা পন্টিং এর চেয়ে তিনি ঢের এগিয়ে একটা জায়গাতে- বিশুদ্ধতায়। ক্রিকেট ম্যানুয়ালে একেকটা শট যেভাবে খেলতে বলা আছে, দ্রাবিড় ঠিক সেভাবেই খেলেছেন। ক্রিকেট কোচেদের কাজটা সহজ করে রেখে গেছেন যিনি। দ্রাবিড়কে দেখিয়ে অবলীলায় শিক্ষকেরা শেখাতে পারেন ছাত্রদের- কাভার ড্রাইভটা ঠিক এভাবে খেলতে হয়, ডিফেন্স করার জন্যে ব্যাকফুটে এসে ঠিক এই পজিশনে পা রাখতে হয়…

ক্রিকেটে এখন টাকার ঝনঝনানি, অনেকটা পেশীশক্তিনির্ভরও হয়ে গেছে খেলাটা। খেলাটা এখব মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরে অনেক বেশী হয়। সবার শরীরজুড়ে কেমন একটা আক্রমণের ঝাঁঝ। এদের প্রায় সবাই অনেক টাকা কামাবেন, কেউবা নামও। কিন্ত প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধামেশানো ভালোবাসা? সেটা দ্রাবিড়ের মতো করে কেউ অর্জন করতে পারবেন না এযুগে।

ভারতের হয়ে ক্রিকেটটা একেবারে ছেড়েছেন ২০১২ সালে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন শেষ টেস্ট, ঘরের মাটিতে। শেষবেলায় ২০১১ এ যখন ইংল্যান্ড সফরে খাবি খাচ্ছে আইপিএল প্রজন্মের নামীদামী ব্যাটসম্যানেরা; তখনও বুক চিতিয়ে আশ্চর্য সাবলীল লড়াই করে গেছেন দ্রাবিড়, সেই চল্লিশ ছুঁইছুঁই বয়সেও। ক্যারিয়ারের কোন পর্যায়েই প্রতিপক্ষ বা কন্ডিশন তার ব্যাটের রানবন্যার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি খুব একটা। ক্যারিয়ার সায়াহ্নে চেস্টার লি স্ট্রীট থেকে কার্ডিফ অবধি ব্যাটটাকে ঢাল বানিয়ে লড়াই করে গিয়েছেন। ক্লাস তো এটাকেই বলে!

রাহুল দ্রাবিড়, টেস্ট ক্রিকেট, ক্রিকেট, ভারতীয় ক্রিকেট দল

মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্ত যে ক্রিকেটে প্রাণ, সেটা ছাড়েন কি করে! বেঙ্গালুরু ক্রিকেট এসোসিয়েশানের সাথে যুক্ত অবসরের পর থেকেই। বয়সভিত্তিক দলের কোচিং এ হাতেখড়ি নিয়েছেন, এখন দায়িত্বে আছেন ভারতের অনূর্ধ্ব উনিশ দলের। গত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের রানারআপ হওয়া দলটার কোচ ছিলেন “দ্যা ওয়াল”… অদূর ভবিষ্যতে কখনও টীম ইন্ডিয়ার হেড কোচের ভূমিকায় তাকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কোচ দ্রাবিড়ের চিন্তাভাবনার দর্শনটা একদম খেলোয়াড় দ্রাবিড়ের মতোই, কিংবা আরও খানিকটা পরিপক্ক। স্বাভাবিক খেলার ধারণাটা তার পছন্দ নয়, এই মতেরও ঘোর বিরোধী তিনি। শিষ্যদের তিনি সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়াটা শেখাতে চান। তার মতে, ৩০/৩ স্কোরবোর্ডে ব্যাটিং করা আর ২৫০/৩ স্কোরে ব্যাট করাটা এক নয়, কাজেই উভয় পরিস্থিতেই মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে একজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে। ইনিংসের প্রথম বল, কিংবা লাঞ্চের পর প্রথম বলটাই মোকাবেলা করার সাহস থাকতে হবে যেকোন তরুনের বুকের ভেতর, সেই সাহসটাকেই ধীরে ধীরে পরিণত করতে হবে অভ্যাসে। ব্যাটসম্যান দ্রাবিড় মাঠের প্রতিটা মূহুর্ত, প্রতিটা বল কিংবা প্রত্যেকটা ঘটনা থেকে নিজে শিখেছেন, সেই শিক্ষাটা ছড়িয়ে দিতে চান নিজের শিষ্যদের মধ্যেও। তার হাত ধরেই আরও অনেক রাহুল দ্রাবিড় বেরিয়ে আসবে, ভারতীয়রাও এমনটাই প্রত্যাশা করে।

শেষ করি সত্যি ঘটনা দিয়ে। ব্রায়ান লারা, স্টিভ ওয়াহরা তখনও খেলছেন দোর্দন্ড প্রতাপে। কলিন ক্রাফট সদ্যই খেলা ছেড়ে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, আপনার জীবন বাঁচানোর জন্যে ব্যাটসম্যান হিসেবে কাউকে বেছে নিতে হলে কাকে নেবেন, লারা, টেন্ডুলকার নাকী ওয়াহ? অপশনের বাইরে গিয়ে ক্রাফটের উত্তর ছিল- “দেয়ালে যদি পিঠ ঠেকেই যায়, আমি বেছে নেবো রাহুল দ্রাবিড়কে!” গাভাস্কারের মতে- “দ্রাবিড়ের ইনিংসটা এক রানের হোক কিংবা একশ রানের; বিশুদ্ধ ক্রিকেট শিখতে চাইলে ওটাই অনুসরণ করো!” বোলারদের হয়ে শোয়েব আখতার বিশ্লেষণ করেছিলেন দ্রাবিড়কে, সেই বিশ্লেষণে মিশে ছিল রাজ্যের হতাশা- “আমার চোখে শচীন গ্রেট, কিন্ত দ্রাবিড়কে আউট করাটা আরও বেশী কষ্টের। সলিড ডিফেন্সটা ওর শক্তি, বাকীদের মতো শট খেলার প্রবণতাও ওর নেই। একজন ব্যাটসম্যান যখন শট খেলায় আগ্রহ দেখাবে না, তখন আপনি তার ভুল হবার অপেক্ষায় অনন্তকাল বসে থাকতে পারেন না। বোলার হিসেবে এটা বেশ হতাশাজনক।”

এই হচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়, ম্যাড়ম্যাড়ে, একঘেয়ে, কখনও বিরক্তিকর, কিন্ত ক্লান্তিহীন; দিনশেষে দলের আশা-আকাঙ্খার একটা বড় অংশ যিনি একা নিজের ঘাড়ে বয়ে বেড়াতেন। ভারতকে তিনি কতগুলো ম্যাচ জিতিয়েছেন সেটা পরিসংখ্যান ঘেঁটে বের করে নেয়া যাবে। কিন্ত নিশ্চিত হার বা মোক্ষম বিপদের সময়ে ত্রাতা হয়ে কতশত ম্যাচে তিনি জাতীয় দলকে রক্ষা করেছেন, সেটার বর্ণনা দেয়ার সাধ্য কি পরিসংখ্যানের আছে?

১৯৭৩ সালের ঠিক এই দিনে জন্মেছিলেন এই ধ্রুপদী ব্যাটসম্যান, ধৈর্য্যের বিমূর্ত প্রতীক ছিলেন যিনি। শুভ জন্মদিন রাহুল দ্রাবিড়- ক্রিকেট মাঠের অল্পকিছু ভদ্রলোকের মধ্যেও ভদ্রলোক ছিলেন যে মানুষটা। অনেক অনেক ভালোবাসা আপনার জন্যে…

Comments
Spread the love