ঘুটঘুটে অন্ধকারে দোলনার উপর একাকী নিশ্চুপ বসে আছে কৃষ্ণ। দোলনাটা দুলছে, একদমই মন্থর গতিতে। কিন্তু কৃষ্ণের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। নিবিষ্ট মনে সে যেন কিছু একটা ভেবে চলেছে। রোমন্থণ করে চলেছে ফেলে আসা অতীতের স্মৃতি। কিংবা হয়ত সেসব কিছুই না। প্রকৃতির মাঝে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দিয়ে, উপভোগ করছে রাতের নিস্তব্ধতাকে। সেইসাথে নিকষ কালো আঁধারকে, আর মাঝ সমুদ্র থেকে ভেসে আসা মৃদুমন্দ দখিনা বাতাসকে।

সবমিলিয়ে পরিবেশটা কেমন যেন অপার্থিব। কিন্তু ঠিক স্বর্গীয়ও নয়। কারণ স্বর্গ – সে তো সব পাওয়াদের মেলা। অথচ কৃষ্ণের মনের গভীরে কী যেন একটা না পাওয়ার বেদনা, অপ্রাপ্তির হাহাকার। বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা। তারপরও তার মুখে সবসময়ের মতই একটা জমাটবাঁধা হাসি। যে হাসি হয়ত সুখের প্রতীক নয়, কেবলই স্বস্তির প্রতিচ্ছবি।

বৈষয়িক জীবনে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি, স্বাচ্ছন্দ্য-সমৃদ্ধির কথা সর্বজনবিদিত। কী পায়নি সে এ জীবনে! কিন্তু তবুও কি সবকিছু পেয়েছে? কতকিছুই কি পেয়েও হারায়নি? আজও কি কোন একটা কিছুর জন্য বুভুক্ষের মত হাত বাড়িয়ে বসে নেই সে?

কিন্তু হায়, প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে সূর্য ডোবে রক্তপাতে। তাই তো রাতের অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে রেখে, নিমীলিত দৃষ্টিতে অস্তমিত সূর্যের কথা ভেবে চলে কৃষ্ণ। আর নিজের বুকের মাঝেই বয়ে চলে রক্তের চোরাস্রোত। সেই স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে চলে সে। কিন্তু তীরের দেখা পায় না। খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।

ভাবনার জগতে যেন হারিয়েই গিয়েছিল কৃষ্ণ। কিন্তু তার ইন্দ্রিয়গুলো বরাবরের মতই সচল। তাই কুপিবাতির একটুখানি আলোর রেখার আভাস, আর খুবই সূক্ষ্ম ঝংকারে বাজা নূপুরের আওয়াজ পেয়েই সে বুঝে যায়, কেউ একজন আসছে!

না, যার কথা ভেবে চলেছিল, সে নয়। আসছে রুক্মিণী, তার বিবাহিতা স্ত্রী।

মুখে জমাট বাঁধা হাসিটা আরও যেন চওড়া হলো কৃষ্ণের। দুহাত বাড়িয়ে রুক্মিণীকে স্বাগত জানাল সে। ছোট্ট একটা আলিঙ্গন শেষে তাকে বসাল দোলনায়, নিজের পাশে।

একদম গা ঘেঁষে বসল রুক্মিণী। তারপর মাথা পেতে দিল কৃষ্ণের কাঁধে। রুক্মিণীর উষ্ণ, তপ্ত নিঃশ্বাসের ছোঁয়ায় বুঝি ছ্যাঁত করে উঠল কৃষ্ণের বুক। চিনচিনে ব্যথাটা যেন আরও তীব্র হলো। বুকের মধ্যে বয়ে চলা রক্তের চোরাস্রোত যেন টগবগ করে ফুটতে লাগল। কিন্তু কৃষ্ণের মুখের জমাট বাঁধা হাসিটা অপরিবর্তিতই থাকল। কে বলবে, সেই হাসির কতটা সত্য আর কতটা ভান? কৃষ্ণ নিজেই তো জানে না। সে নিজেই তো তল পায় না নিজের মনের!

নিজের আত্মচিন্তার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে একটু সময় লাগল কৃষ্ণের। আর যখন আসল, তখন সে বেশ বুঝতে পারল, অন্য আর সব দিনের মত চঞ্চলা নেই রুক্মিণী। প্রাণোচ্ছ্বাসের প্রবল প্রতাপে ছটফট করছে না রুক্মিণী।

স্পষ্ট চিন্তার রেখা ফুটে উঠল কৃষ্ণের কপালে। ‘কী হয়েছে রুক্মিণী? তোমায় এমন বিষাদগ্রস্ত লাগছে কেন? নিজের অজান্তেই কি তোমায় কোন কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আমি?’ নরম গলায় জিজ্ঞেস করল কৃষ্ণ।

‘হ্যাঁ, দিয়েছই তো!’ রুক্মিণীর কন্ঠে নিশ্চিত অভিমানভরা চাপল্য আর আবেগময় তারল্য।

কিছুটা যেন কৌতুক বোধ করল কৃষ্ণ। রুক্মিণীর থুতনিতে আলতো করে হাত ছুঁইয়ে দিয়ে বলল, ‘কে মেরেছে, কে ধরেছে, কে দিয়েছে গাল? তাই না দেখে বউটা আমার এমন নাজেহাল!’

অভিমানী রুক্মিণী এবার ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদেই দিল। ‘সত্যি করে বলো তো, তোমার নামে এসব যা শুনছি তা কি আসলেই সত্য? তুমি কি আসলেই বৃন্দাবনে থাকতে বাঁশি বাজাতে?’

এক নিমিষেই আঁধার নেমে এল কৃষ্ণের মুখে। চোখ দুটো যেন অবাধ্য ক্রোধে জ্বলজ্বল করে উঠল। তবু নিজের আবেগকে বশে এনে, বরাবরের মতই শান্ত কন্ঠে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘এ কথা তোমায় কে বলল?’

‘বৃন্দাবন থেকে কয়েকজন ব্যবসায়ী এসেছে বাণিজ্যের কাজে। রাজপ্রাসাদে আশ্রয় নিয়েছে। তোমার কথা জানতে পেরেই এ কথা বলল তারা। রাজপ্রাসাদ জুড়ে সবার মাঝে এখন এ নিয়েই আলোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু বলো প্রভু, এ কথা কি আসলেই সত্য?’

সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল কৃষ্ণ। তার বুক চিরে যেন দীর্ঘদিনের আটকে রাখা একটা দীর্ঘশ্বাস অবশেষে বেরিয়ে এল। যে সত্য সে এতদিন সযত্নে নিজের মনে লুকিয়ে রেখেছিল, আজ সেটা প্রকাশের সময় এসেছে। ধীরলয়ে সে বলে চলল, ‘হ্যাঁ রুক্মিণী, তুমি যা শুনেছ, তা একবিন্দুও মিথ্যে নয়। কিন্তু সেসব অনেককাল আগের কথা। সেই আমি আর আজকের এই আমির মধ্যে অনেক ফারাক, অনেক তফাৎ।’

কৃষ্ণের মুখে এই নির্লিপ্ত আত্ম স্বীকারোক্তি শুনে কয়েক মিনিটের জন্য থ বনে গেল রুক্মিণী। এক দমবন্ধ করা নীরবতা নেমে এল তাদের দুজনের মাঝে। কৃষ্ণ রুক্মিণীকে কিছুটা সময় দিল স্বাভাবিক হওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর রুক্মিণীই মুখ খুলল, ‘তবে তুমি এখন আর কেন বাঁশি বাজাও না, প্রভু?’

এ প্রশ্ন শুনে যেন এক অভূতপূর্ব ভাবালুতায় আচ্ছন্ন হলো কৃষ্ণ। রুক্মিণীর জিজ্ঞাসাভরা তীক্ষ্ণ চাহনি এড়িয়ে, আকাশ পানে চোখ মেলে সে বলল, ‘কারণ আমি রাধাকে কথা দিয়েছি, আমি আর কখনোই বাঁশি বাজাব না। সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে চলেছি আমি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।’

এবং এই একটা কথাতেই যেন খসে পড়ল রুক্মিণীর দীর্ঘদিনের নম্রতার আবরণ। কোনদিন যে স্বামীর মুখের ওপর টু-শব্দটিও করেনি, সে-ই আজ হয়ে উঠল প্রচন্ড রকমের প্রতিহিংসাপরায়ণ। বারবার সে কৃষ্ণকে বলতে লাগল, ‘আমার জন্য আজ তুমি বাঁশি বাজিয়ে শোনাও, প্রভু! তোমায় আজ বাঁশি বাজিয়ে শোনাতেই হবে। নইলে আমি তোমায় কিছুতেই ছাড়ব না! তুমি যদি রাধার জন্য বাঁশি বাজানো বন্ধ করতে পারো, তবে নিশ্চয়ই আমার জন্য নতুন করে বাঁশি বাজানো শুরু করতেও পারবে।’

কৃষ্ণ অনেক করে বোঝানোর চেষ্টা করল রুক্মিণীকে। কিন্তু রুক্মিণী বড়ই অবাধ্য, বড়ই একগুঁয়ে। আজ যেন সে ধনুকভাঙা পণ করেছে, কোন ছেলেভুলানো কথাতেই আর ভুলবে না সে। রাধার জন্য বাঁশি বাজানো ছাড়তে পারলে, তার জন্য কেন বাঁশি বাজানো আরম্ভ করবে না কৃষ্ণ? রাধা কি তার চেয়েও বিশেষ কিছু? কৃষ্ণের কাছে কি তার কোনই মূল্য নেই?

এক পর্যায়ে মেজাজ হারাল কৃষ্ণ। ঝট করে নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সে বলল, ‘বেশ, তুমি যদি চাও আমি আবারও বাঁশি বাজাই, তবে চলো আমরা এখনই রওনা দিই বৃন্দাবনের উদ্দেশে। সেখানে গিয়ে রাধার মুখোমুখি হয়ে তবেই আমি ফের বাঁশি বাজাব। এটাই একমাত্র উপায় আমাকে আবারও বাঁশি বাজাতে বাধ্য করার!’

শুধু মুখের কথাতেই থেমে থাকল না কৃষ্ণ। এই রাতের দ্বিপ্রহরে সারথিদের ডাক দিল সে। তখনই তারা যাত্রা শুরু করবে বৃন্দাবন অভিমুখে। কৃষ্ণের তীব্র রোষে থরথর করে কাঁপতে লাগল রাজপ্রাসাদের সকলে।

আগে কখনোই কৃষ্ণকে এতটা রাগতে দেখেনি রুক্মিণী। তাই ভয়ে কুঁকড়ে গেল সে। পাশাপাশি নিজের ভুলটাও বুঝতে পারল। অনুধাবন করল, কৃষ্ণকে রাধার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কী মস্ত বোকামিটাই না করেছে সে! সে আরও বেশি শংকিত হয়ে পড়ল রাধার সাথে কৃষ্ণের আরও একবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনায়। না, সে কিছুতেই এ হতে দিতে পারে না! তাদের দুজনকে একসাথে দেখলে যে সে মরেই যাবে!

মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, কৃষ্ণের পা ধরে কাঁদতে শুরু করল রুক্মিণী। বলতে লাগল, ‘আমাকে ক্ষমা করে দাও, প্রভু। আমাকে ক্ষমা করে দাও। ঘাট হয়েছে আমার। আর কখনোই তোমার কাছে বাঁশির সুর শুনতে চাইব না।’

রুক্মিণীর এমন আকুতি আর চোখের জল দেখে কৃষ্ণেরও রাগ পড়ে গেল। সে সস্নেহে মাটি থেকে টেনে তুলল রুক্মিণীকে। এবার রুক্মিণী কৃষ্ণকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমি শুধু চাই তুমি আমাকে রাধার মতই ভালোবাসো। আমি চাই না তোমার কাছে আমার চাইতেও অন্য কেউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হোক।’

কৃষ্ণও রুক্মিণীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তুমি এমনটা কেন ভাবছো লক্ষ্মীটি! তুমি অবশ্যই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তুমি আমার কাছে অন্য যে কারও থেকে দামি। কারণ তুমি যে আমার স্ত্রী! আমার অর্ধাঙ্গিণী!’

রুক্মিণী কৃষ্ণের এ কথায় এতটুকুও আশ্বস্ত হলো না। আগের মতই কাঁদতে কাঁদতে সে বলল, ‘কিন্তু আমি যে তোমার রাধা নই! আমি যে কোনদিনই রাধা হতে পারব না! তাই তুমিও যে আমাকে সেভাবে ভালোবাসবে না, যেভাবে তুমি ভালোবেসেছিলে রাধাকে। এখনও যেভাবে তুমি ভালোবাসো রাধাকে।’

এবার কৃষ্ণ রুক্মিণীর সাথে আলিঙ্গন ছিন্ন করে, তাকে হাত ধরে নিয়ে গেল ঝিলের ধারে। সেই ঝিলের জলে দুজনে পা ডুবিয়ে বসল। তারপর কৃষ্ণ বলতে শুরু করল, ‘রুক্মিণী! তুমি আমার স্ত্রী। আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু কি জানো, কোন নারী বা পুরুষের পক্ষেই সম্ভব না সেভাবে ভালোবাসা, যেভাবে সে ভালোবেসেছিল তার প্রথম প্রেমের সময়ে। এবং সেটার কারণ কী জানো? আমি বলছি তোমায়, শোনো।

‘যখন মানুষ জীবনে প্রথম কাউকে ভালোবাসো, তার মনে যেমন দুজনের আজীবন হাত ধরাধরি করে একসাথে কাটানোর সংকল্প কাজ করে, তেমনি মনের ভিন্ন একটা কুঠুরিতে বিচ্ছেদের ভয়ও সমানভাবে কাজ করে। সে ভয় পায়, কোনদিন যদি এমন একটা সময় আসে যে তাদের দুজনের আর একসাথে পথচলা হবে না, দুজনের দুটি পথ বেঁকে যাবে দুদিকে, তখন বুঝি আর তার পক্ষে বেঁচে থাকাই সম্ভব হবে না। সে হয়ত বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মারাই যাবে। আর এই যে মনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা তীব্র ভয়, এর ফলেই মানুষ প্রথম ভালোবাসাকে ঠিক সেভাবেই ভালোবাসে, যেভাবে সে ভালোবাসে নিজের জীবনকে। কারণ সে জানে, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।

‘এবং একটা পর্যায়ে এসে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রথম প্রেম চিরস্থায়ী হয় না। সম্পর্কে ভাঙন আসেই। এবং সেই ভাঙন মানুষের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে দিয়ে যায়। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে মানুষ। তাই বলে সে কিন্তু মারা যায় না। সে ঠিকই বেঁচে থাকে। বুকে পাথরসম বোঝা বয়ে বেড়ায় সে। কিন্তু তবু সে ঠিকই বেঁচে থাকে। জীবন তার আপনগতিতেই বয়ে চলে। এবং তখন মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধিটা আসে যে জীবনে প্রেমই সবকিছু নয়। প্রেম ফুরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন তখনই ফুরিয়ে যায় না। মানুষ আরও অনেকদিন বাঁচে। ভালোবাসাহীনতার বেদনা নিয়েও সে বেঁচে থাকে। শূন্যতাকে সঙ্গী করেও সে দিব্যি বেঁচে থাকে।

‘বলো তো, জীবনকেই বা তুমি কতটুকু ভালোবাসতে, যদি কখনো জানতে পারতে যে মৃত্যুতেই সব কিছুর সমাপ্তি ঘটে না? না, তখন আর জীবনকে তুমি সমানভাবে ভালোবাসতে পারতে না। কিন্তু যে মানুষের একবার হৃদয় ভেঙেছে, সে জানে। সে এই চরম সত্যিটা জানে যে জীবন থেকে ভালোবাসা হারিয়ে গেলেও জীবনটা রয়েই যায়।  আর যখন সে এই সত্যিটা জানতে পারে, তারপর থেকে আর কখনোই তার পক্ষে সম্ভব হয় না আগের মত ভালোবাসা, প্রথম প্রেমের মত তীব্র আবেগ নিয়ে কাউকে কাউকে কাছে পেতে চাওয়া।’

কৃষ্ণের কথা শেষ হতে অনেকটা সময় স্তব্ধ হয়ে বসে রইল রুক্মিণী। তারপর সে কৃষ্ণকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ও প্রভু, কিন্তু কেউ তোমাকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলে আমি যে মারাই যাবো!’

কৃষ্ণের মুখে মৃদু হাসির রেখা দেখা দিল। না, সেই জমাট বাঁধা হাসি না। সত্যিকারের হাসি। হৃদয়ের গহীন কোণ থেকে উৎসারিত এক অকৃত্রিম হাসি। রুক্মিণীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সে বলল, ‘তবে দেখেছ লক্ষীটি, আমি কী বলছিলাম! প্রথম প্রেম এরকমই অবুঝ হয়। প্রথম প্রেম এরকমই অন্ধ হয়।’

Comments
Spread the love