ক্রিটিক রিভিউ থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক, অধিকাংশই রেস থ্রি নিয়ে হতাশ। ইতিমধ্যেই সবার জানা হয়ে গিয়েছে, সিনেমা বাজে হয়েছে। একজন সালমানভক্ত হিসেবে ভীষণ খারাপ লেগেছে এরকম একটা ফ্র্যাঞ্চাইজির ভরাডুবিতে। চলুন ভরাডুবির কারণ জেনে আসি।

সালমানকে ইনভল্ব করানো

রেস সিরিজ এর প্রডিউসার রমেশ তাউরানি চাচ্ছিলেন তার রেস সিরিজও ধুম এর মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক এবং এর সম্ভাবনাও ছিল। তবে এর জন্য দরকার একজন বড় স্টার। বড় স্টারদের মধ্যে শুধু সালমানই রমেশ তাউরানির ক্লোজ। তাই সালমান ছাড়া তিনি আর বিকল্প কাউকে ভাবেননি। কিন্তু সালমান রাজি হচ্ছিলেন না কারণ এই ধরনের গ্রে ক্যারেক্টার করতে চান না তিনি। তবুও প্রায় ৩ বছর সালমানের পেছন পেছন ঘুরে তাকে রাজি করালেন তাউরানি, সাথে অর্ধেক অংশের প্রডিউসারও বানালেন এবং রেস সিরিজ নষ্ট করার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে সিনেমার সব কিছুর ডিসিশন সালমানের হাতে তুলে দিলেন।

স্ক্রিপ্টিং এবং ডায়লগ

প্রথম যখন স্ক্রিপ্ট শোনানো হলো, তখন তা নাকি সালমানের মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে! তাই সালমান তা পরিবর্তন করে অনেক ফ্যামিলি ড্রামা এবং প্রচুর অ্যাকশন যুক্ত করতে বলেন। তার ক্যারেক্টারকে সেলফিশ থেকে সেলফলেস করতে বলেন। সাথে ডায়লগ রাইটার হিসেবে নিতে বলেন সালমানের একজন লেখক বন্ধু কিরণ কোট্রিয়ালকে। রেস সিরিজের প্রথম দুটো সিনেমার ডায়লগ যতটা স্ট্রং ছিল এইটা ততটাই বাজে হয়েছে তা ট্রেইলারেই বোঝা যায়। মোটামুটি স্ক্রিপ্টিং এবং ডায়লগ অংশেই সিনেমার অর্ধেক সর্বনাশ করে ফেলেছিলেন সালমান।

ডিরেক্টর

প্রথম দুটির মতো এইবারও ডিরেক্টর হিসেবে আব্বাস-মাস্তানের কাছে যাওয়া হয়েছিল। তবে তারা স্ক্রিপ্ট দেখেই বুঝেছেন এটা তাদের আগের রেস থেকে অনেক ভিন্ন এবং বিগ অ্যাকশন ক্যানভাসের সিনেমা। যা তারা করতে রাজি হয়নি। এদিকে তখন সালমানের সাথে রেমো ডি সুজার একটা ড্যান্স ফিল্ম করার কথা ছিল। কিন্তু ড্যান্স ট্রেইনিং নিতে গিয়ে সালমান কাঁধে আঘাত পান, যার কারণে সিনেমাটা পেছানো হয়। রেমো বেকার বসে ছিলেন, তাই সালমান তাকে দায়িত্ব দিলেন রেস ৩ ডিরেক্ট করার। রেস ৩ ব্যর্থতার দায় আমি সামান্যও রেমোর উপর দিবো না কারণ তিনি তার সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন, এমনকি তাকে স্ক্রিপ্টও দেয়া হয়েছিল শ্যুটিং শুরুর মাত্র এক মাস আগে। একজন কোরিওগ্রাফার ব্যাকগ্রাউন্ড ডিরেক্টরকে যদি এত বড় সিনেমা ডিরেক্ট করার প্রস্তুতি হিসেবে ১ মাস দেয়া হয়, তা কতটা ভালো হতে পারে বোঝাই যায়।

কাস্টিং

এই সিনেমার কাস্টিংয়ের জন্য অমিতাভ বচ্চন, সাইফ আলি খান, ইমরান হাশমি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রাদের অফার করা হয়েছিল বিভিন্ন ক্যারেক্টারে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট পড়ে কেউই রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সালমান তার কাছের লোক, যাদের মার্কেট ভ্যালু এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স ভ্যালু, সবই অনেক কম, তাদের নিয়ে সিনেমাটা আরো দূর্বল করে ফেলেন।

মিউজিক

রেস ৩ এর অ্যালবাম সালমান খানের সিনেমাগুলোর মধ্যে স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে অ্যালবাম। TIPS কম্পানির ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য মিউজিক অ্যালবাম এবং এগুলো হয়েছে সালমানের মাতব্বরির কারণে। যেই TIPS কোম্পানি এবং রেস সিরিজ মিউজিকের জন্য বিখ্যাত, সেটা পুরোই নষ্ট করেছেন সালমান। আলতু-ফালতু মিউজিক কম্পোজারদের দিয়ে গান করিয়ে, সালমান নিজে এবং ইউলিয়া ভান্তুরের মত অযোগ্যদের দিয়ে অটো টিউনে গান গাইয়ে পুরো অ্যালবাম একটা গার্বেজে পরিণত করেছেন।

মার্কেটিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন

রেস ৩ এর মার্কেটিংয়ে ‘সালমান খান ফিল্মস’ ছিল অত্যন্ত অ্যামেচার। বাজে পোস্টার, ঠিক টাইমে ট্রেইলার না দেয়া, বাজে ট্রেইলার ইডিটিং, ডেইজির ডায়লগের ট্রল ঢাকতে নিজেরাই আবার সেই ডায়লগ নিয়ে ফাইজলামো করা (ওহ আচ্ছা একটা কথা লিখতে ভুলে গিয়েছিলাম, ডেইজির ঐ ভাইরাল হওয়া ডায়লগটা নাকি সালমানের দেয়া ছিল)। যাই হোক সালমান এই সিনেমার ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য এতোই হাই রেটে ডিমান্ড করেছিলেন যে কোনো কোম্পানি এটা কিনতে পারেনি। শুধু বিদেশের রাইটস YRF কিনেছে। ডোমেস্টিকে সালমান নিজে ডিস্ট্রিবিউটার ছিলেন। কিন্তু তিনি এই লাইনে অ্যামেচার হওয়ায় যার ফলে ভুগতে হয়েছে সিনেমার অ্যাডভান্স বুকিং এবং শো পাওয়ার ক্ষেত্রে। রিলিজের একদিন আগেও ঠিকভাবে ওপেন করতে পারেনি অ্যাডভান্স বুকিং এবং অনেক মাল্টিপ্লেক্সে টিউবলাইটের ৫০% শোও পায়নি রেস ৩। অবশ্য এরপরেও সিনেমাটি দাঙ্গালের চেয়ে বেশি অ্যাডভান্স বুকিং পেয়েছে।

যাই হোক, এই হলো রেস ৩ এবং রেস সিরিজ নষ্ট হবার পেছনের কাহিনী। সিনেমাটা দেখতে পারলে আরো কিছু লেখা যেত, তবে এখনই দেখে ঈদ নষ্ট করার ইচ্ছে নেই। শুনেছি রেস ৩ সফল হলে নাকি রেস ৪ নির্মিত হবে। তাই এখন আশা করছি রেস ৩ ব্যবসায়িকভাবেও সফলতা না পাক!

Comments
Spread the love