সিনেমা হলের গলি

রেস-থ্রি: এ যেন টাকার খেলা!

বদলে গেছে পরিচালক, বদলেছে সিনেমার পাত্র-পাত্রীরাও। নামটাই কেবল টিকে আছে, নেই অন্য অনেক কিছুই। বলছি বলিউডের ‘রেস’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমা ‘রেস-থ্রি’র কথা। সাইফ আলী খানের জায়গায় নায়ক হিসেবে এবার পর্দায় আসছেন সালমান খান। পরিচালকও বদলে গেছে, আব্বাস-মাস্তানের জায়গায় এসেছেন রেমো ডি সুজা। ট্রেলার রিলিজ পেয়েছে, কিন্ত সেটা খুব একটা মন জয় করতে পারেনি ভক্তদের, আরও ভালো হতে পারতো, এমনটাই মত দিয়েছেন বেশীরভাগ সিনেমাপ্রেমী।

সিনেমা কেমন হবে, সেটা নিয়েও জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। সাইফের জায়গায় সালমান কতটা ভালো করতে পারবেন? নাকি পেছনে ফেলে দেবেন সাইফের পারফরম্যান্সকেও? রেস টিপিক্যাল মাসালা বা অ্যাকশন ফিল্ম নয়, একারণে পরিচালকের নামটাও আশ্বস্ত করতে পারছে না অনেককে। এধরণের সিনেমা বানানোর কোন অভিজ্ঞতাই যে নেই রেমো ডি সুজার।

তবে গত কয়েক বছরে বলিউডে ঈদ মানেই সালমানের সিনেমা, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। আর সালমানের সিনেমা মানেই বক্স অফিসে তোলপাড়, রেকর্ড নিয়ে টানাহেঁচড়া! এবারও তার খুব একটা ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। বক্স অফিসের হিসেবটা সিনেমা রিলিহ হবার পরে আসবে, তার আগেই রেস-থ্রি যা শুরু করেছে, তাতে প্রযোজকের মুখের হাসি কেবল চওড়াই হচ্ছে।

শুধু সিনেমার বাজেট ১২০ কোটি রূপি। এছাড়াও আরও ৩০-৪০ কোটি রূপি ব্যায় করা হচ্ছে প্রচারণার কাজে। মোট বাজেট তাই দেড়শো কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রেস সিরিজের আগের দুই কিস্তি মিলিয়েও এত বাজেট ছিল না! এই বাজেটের বড় একটা অংশ খরচ হয়েছে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকে। সালমান খান একাই নিয়েছেন বাজেটের অর্ধেক, মানে ষাট কোটি রূপি। অবশ্য সিনেমা চলে নায়কের নামে, সালমানের ক্রেজেই দর্শকের ঢল নামবে মাল্টিপ্লেক্সে। সেই হিসেবে এই পারিশ্রমিকটা অন্যায্য কিছু নয়।

তারকায় ঠাসা রেস-থ্রি’র অন্যান্য তারকারাও কম যাননি পারিশ্রমিকের বেলায়, যদিও টাকার অঙ্কটা সালমানের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। রেসের আগের দুই পর্বেই ছিলেন অনিল কাপুর, এবারও আছেন তিনি। বলা যায়, রেসের সবচেয়ে পুরনো খেলোয়াড় তিনিই। অনিল কাপুর এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে পারিশ্রমিক নিয়েছেন নয় কোটি রূপি। মূল নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছেন আট কোটি রূপি।

বলিউডের বিশাল ক্যানভাস থেকে হারিয়েই গিয়েছিলেন ববি দেওল। সালমান খানই তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন লাইমলাইটে। রেস-থ্রি’তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, পেয়েছেন মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকও। সেটা প্রায় সাড়ে সাত কোটি রূপি বলে জানা গেছে। খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করা ফ্রেডি দারুওয়ালা পাচ্ছেন দুই কোটি রূপি।

সিনেমার আরেক অভিনেতা সাকিব সেলিমের আয়টাও মন্দ নয়, এক কোটি চল্লিশ লাখ রূপি পেয়েছেন তিনি। তবে এই জায়গায় ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডেইজি শাহ। ট্রেলারে তার ডায়লগ নিয়ে প্রচুর হাসিঠাট্টা হলেও, পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছেন পাঁচ কোটি বিশ লক্ষ রূপির বিশাল একটা অঙ্কের টাকা!

এ তো গেল খরচের হিসেব। এত কোটি কোটি রূপি খরচ করেও কিন্ত প্রযোজককে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না একটুও। সিনেমা মুক্তির আগেই যে লগ্নির পুরো টাকাটা উঠে লাভ আসা শুরু হয়েছে! সিনেমার স্যাটেলাইট রাইটস বিক্রি হয়েছে একশো কোটি রূপিতে! এটা একটা রেকর্ড।

এছাড়াও শোনা যাচ্ছে, থিয়েটার রাইটস বিক্রি করা হয়েছে ১৪০ কোটি রূপিতে। যদিও প্রযোজক রমেশ তৌরানি সেটা স্বীকার করেননি। রেস-থ্রি টিমের অবশ্য আশা ছিল ১৮০-১৯০ কোটি রূপিতে তারা থিয়েটার রাইটস বিক্রি করতে পারবেন। তবে শেষমেশ সেটা দেড়শো কোটি রূপির আশেপাশে থাকবে বলেই মত দিয়েছেন বলিউডের বাণিজ্যিক বিশ্লেষকেরা।

শেষের খবরটা সত্যি হলে, সিনেমা মুক্তির আগেই প্রায় একশো কোটি রূপির বেশী মুনাফা পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে রেস-থ্রি! এছাড়া অডিও রাইটস কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটা জানা যায়নি। সেটার পরিমাণও কম কিছু হবে না। সিনেমার প্রযোজকের তালিকায় আবার সালমান নিজেই আছেন। লাভের শতকরা ৩৫ ভাগ যাবে তার পকেটে। কাজেই রেস-থ্রি দিয়ে বলিউডের ভাইজানের ব্যাংক একাউন্ট ফুলেফেঁপে উঠতে যাচ্ছে, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত!

তথ্যসূত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close