ইনসাইড বাংলাদেশ

কোটা সংস্কারের কৃতিত্ব সাধারণ ছাত্রদের, কোন ‘থ্যাংক ইউ’ লীগারের না!

আপনাদের সব ধন্যবাদ এতদিন শিকেয় তুলে রাখা ছিলো। আজ সেটা বিভিন্ন উপমা দিয়ে বের হচ্ছে। বিভিন্নজন ক্রেডিট নিচ্ছেন। আন্দোলন বিরোধী নেতারা আন্দোলনের সফলতার গল্প শুনিয়ে প্রচার করছেন।

এই ক্রেডিট আপনাদের কারও না। এক ফোঁটাও না, নে ভা র- এ ভা র। না, জা মা তী র। না, বা মা তি র, না, ছা ত্র লী গে র, না, বি রো ধী শক্তির না, প্র ধা ন ম ন্ত্রী র অলসো…

এই আন্দোলনে যতটুকু অর্জন হচ্ছে-হবে সব ক্রেডিট শুধুই সাধারণ ছাত্রদের। দে আর দ্যা হিরো! এই আন্দোলনের সুফল ভোগ করবো আমি আপনি সবাই। কিন্তু ত্যাগটা ছিল শুধুই তাদের।

আপনারা রাজাকার ট্যাগ দিয়েছেন। তবুও তারা আন্দোলনকে প্রশ্নের বাইরে রাখতে পেরেছে। কোন অপশক্তিকে সুবিধা নেয়ার সুযোগ দেয় নি, ইভেন আপনারাই বারবার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবুও তারা এক থেকেছে, তাদের শুধু একটা দাবীতেই অনড় থেকেছে। কোন সরকারবিরোধী একটিভিটি তারা করেনি। আপনারা বরং থ্যাংকফুল থাকেন তাদের প্রতি।

একটা হলে হামলা করার প্রতিবাদে সব হলের ছেলেমেয়েরা রাত চারটার সময় রাস্তায় নেমে এসেছিলো, এই ক্রেডিট তাদের।

কোটা বৈষম্য, কোটাবিরোধী আন্দোলন

সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতিকে হলের মেয়েরা জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছে। হলকে রাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করছে। মেয়েটাকে যারা ভার্সিটি থেকে স্লোগান দিয়ে বহিষ্কার করিয়েছে, আপনাদের ভাবমূর্তি রক্ষায় আরও সাহায্য করেছে, এই ক্রেডিট তাদের। কুয়েত মৈত্রি হলের একটা মেয়ে কাল রাত দুইটার সময় স্ট্যাটাস দিয়েছে, সারাদিন পর সে একটু বিছানায় বসছে। আগের দুই দিন দুই রাত প্রায় সবসময় সে আন্দোলনে ছিলো। কতটা ক্লান্ত সে! সুফিয়া কামাল হলে হামলা করার সাথে সাথে সে আবার রাস্তায় নেমে গেলো। এই ক্রেডিট সেই মেয়েটার।

গতকাল থেকে যে প্রাইভেট ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা প্ল্যাকার্ডে লিখেছে, ডিয়ার ঢাবিয়ানস, উই ব্লিড ফর ইউ। তাদের থ্যাংকস জানায়া স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন?

এই আন্দোলনের ক্রেডিট ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া কোন অনলাইন একটিভিস্টের না। এই আন্দোলনের কোন ক্রেডিট, কোন মিডিয়ার না। ছাত্রলীগের হাজার হাজার ছেলেরা যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলো এই ক্রেডিট তাদের। যে ছাত্রলীগ নেতা পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলো এই ক্রেডিট তার। কোন থ্যাংক ইউ লীগারের না।

পাবলিক পালস, কোটা সংস্কার আন্দোলন, ছাত্রলীগ রগ কেটেছে, সুফিয়া কামাল হল

সারাদেশের সব কটা পাবলিক ভার্সিটিতে আন্দোলনে নেমেছিলো যে সব ছাত্রছাত্রীরা, এই ক্রেডিট তাদের। তিন দিন, তিন রাত ধরে খাওয়া দাওয়া গোসল বাদ দিয়ে রোদে, টিয়ারশেল আর প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রতিটা ছেলে মেয়ের।

এই প্রথম হয়ত পুরা দেশ এত আগ্রহ নিয়ে সংসদ দেখছিলাম। হয়ত ভাবছিলাম, সেখানের এত সব উন্নয়নের খবরের ভিড়ে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো কথাই বলবেন না। তবে নানক সাহেব যখন প্রশ্ন করলেন প্রধানমন্ত্রীকে তখন যেন বুকে প্রাণ ফিরে এসেছিলো। এই যে সংসদে বসে প্রধানমন্ত্রী কোটা নিয়ে এত হোমওয়ার্ক করে এসে কথা বললেন- এটাও কিন্ত সেই ছাত্রদের ক্রেডিট। অন্য কারও না, এক ফোঁটাও না।

ধন্যবাদ না, শুভকামনা না, বরং কৃতজ্ঞতা জানান, আন্দোলন করা সব ছেলেমেয়ের প্রতি। তারাই বাংলাদেশ, কখনোই ছাড় দেয় নাই, কখনো দেবেও না, কোনো অন্যায় মেনে নেবে না।

তারাই জয় বাংলা…

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close