মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে কালোদের জন্য আলাদা কিছু সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। অর্থাৎ কালোদের জন্য সেখানে কোটা ব্যবস্থা আছে। যেকোন রাষ্ট্রে কোটা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু এক ধরণের বৈষম্য দূর করতে গিয়ে অন্য রকমের বৈষম্য তৈরি হয়ে যায়। যেমন কালোদের যখন কোটা সুবিধা দেয়া হল সেটা সাদাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তারা মনে করতে থাকে, আমাদের থেকেও কম যোগ্যতা নিয়ে এই লোকগুলো ভালো জায়গা গুলো দখল করে ফেলছে। ফলে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ জন্ম নেয়। পাশাপাশি মূলধারার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ, যা সমাজকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আমাদের দেশেও কোটা নিয়ে ঠিক একই ঘটনা ঘটছে।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের মূলধারার প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কিংবা দেশের স্বাধীনতা যে মানুষ গুলো ছিনিয়ে এনেছে তাদের পরিবারকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ১৯৮৫ সালের পর আর পরিবর্তীত হয়নি। কিন্তু ১৯৮৫ সালের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট এক নয়। পরিবর্তীত প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক ও গঠনমূলক সংশোধন অত্যাবশ্যক। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোটায় লোক পাওয়া যাচ্ছে না, অর্থাৎ চাকরির পরীক্ষার সব গুলো ধাপ পার করে কোটা সুবিধা নেয়ার মত অবস্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থীই আসতে পারছে না, তাই আগে এই পদগুলো ফাঁকা থাকতো, যা কিনা প্রচন্ড রকমের নির্বুদ্ধিতা। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে এই পদ গুলোতে প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধা তালিকা থেকে লোক নিয়ে পূরণ করা হবে। কিন্তু এটাও গঠনমূলক সমাধান নয়। বরঞ্চ কোটার পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে আসাটাই যৌক্তিক সমাধান হতে পারে।

বর্তমানে কোটার বিন্যাস সকলেই জানেন, তাও উল্লেখ করি- প্রতিবন্ধী এক শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী- ৫ শতাংশ, নারী-১০ শতাংশ ও জেলা কোটা ১০ শতাংশ। এরমধ্যে নারী ও জেলা কোটা আসলে অন্য গুলোর থেকে একটু আলাদা। আবেদনকারী নারী হলেই সে নারী কোটায় অংশ নিতে পারে, আর প্রত্যেকে নিজ নিজ জেলার জেলা কোটায়। এই ২০ শতাংশ বাদ দিয়ে কোটা থাকে ৩৬ শতাংশ। প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা অযৌক্তিক নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা ৩ শতাংশ করা যেতে পারে। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোটা ২০-২৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। ৫৬ থেকে ২০-এ একবারে কমিয়ে আনা সম্ভব না হলে, ধাপে ধাপে সেটা করা যেতে পারে। এটাও দশ বছর পরপর পুনঃ নিরীক্ষণ করা উচিত।

এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য ১ বা ২ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা উচিত। যদিও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও অনেক সময় পায় না, তাই হয়তো এই কোটায় প্রথমে প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তারা যদি জানে যে, তাদেরও সরকারি চাকরিতে অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে, তারা হয়তো নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করবে। তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য শিক্ষা গ্রহণে আন্তরিক হবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলোতেও তাদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করা উচিত। সামাজিকভাবে কিভাবে ব্যাপারটাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়, সেটা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সহজভাবে বলা যায়, আলোচনার মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যাপারটার একটা সুন্দর মীমাংসা করা যায়। কিন্তু নির্বাচনের বছরে এসে কাদের বুদ্ধিতে সরকার এমন হার্ডলাইনে গেল- সেটা ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না। সরকার যারা চালান তারা নিশ্চয়ই আমার থেকে অনেক ভালো রাজনীতি বোঝেন। একটা সহজে সমাধানযোগ্য বিষয়কে কেন এরকম কঠিন বিষয়ে পরিণত করে নিজেদের পায়ে তারা কুড়োল মারলো, সেটা আমার মোটা মাথায় আসছে না।

**

এই কথাগুলো আমি আগেও লিখতে পারতাম। লেখা হয়নি। এর কারণ দুটি- এক. আমি অনলাইনে যাবতীয় সিরিয়াস বিষয় বা চলমান ইস্যু নিয়ে লেখা ছেড়ে দিয়েছি এক মাস হলো। আমি এখন পারতপক্ষে ফেসবুক ব্যবহার করি না। এবং দুই. আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, আমার পরিবারে একজন নয়, দু জন মুক্তিযোদ্ধা আছেন, সেই হিসেবে আমিও কোটাধারী একজন ব্যক্তি। ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএস ফরম ফিলাপের সময় আমি কোটার ঘরটি পূরণ করেছি। একজন কোটাধারী হয়ে, এই নিয়ে দুচারটি লিখে কিছু লাইক কামিয়ে নেয়াটা আমার কাছে হিপোক্রেসি বলে মনে হয়েছে।

কোটা সংস্কার, আন্দোলন

আমার বাবা এবং দাদা যুদ্ধ করেছেন- এখানে আমার কোন হাত নেই, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে কোটা ব্যবস্থা চালু করেছে এখানেও আমার কোন হাত নেই। আমি অন্য অনেকের মত এতটা মহানও নই যে কোটা থাকার পরও সেটা ব্যবহার করব না। আবার সরকার যদি এটা পুরোপুরি তুলেও দেয়, তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। এটাকে আমি কখনো সিরিয়াসলি নেইনি কিংবা এটা ভাবিনি যে এই কোটার জোরে আমি বিরাট কিছু করে ফেলব। আমি বিসিএস পরীক্ষা যখন দিয়েছি নিজের মেধার উপর ভরসা করেই পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। প্রিলিতে টিকেছি, নিজের ‘মুখস্থ বিদ্যা’র জোড়েই টিকেছি। পরের ধাপগুলো যদি পার হতে পারি, সেটাও নিজের চিন্তা-পড়া আর মুখস্থবিদ্যার কল্যাণেই পার হব, নয়তো হব না। কোটা দিয়ে চাকরি বাগিয়ে নেয়াই যদি আমার উদ্দেশ্য হতো, তবে ইন্টার পাশ করেই চাকরিতে ঢুকে যেতাম!!

কিন্তু এই কদিন ধরে নিজেকে ব্যাপক অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার বন্ধুরা, ছোটছোট ভাইবোন গুলো যে মার খাচ্ছে- আমার জন্যই মার খাচ্ছে। অপরাধবোধে ভোগার আরেকটি কারণ আছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। কোটা সংস্কারের কথা বলে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে বলছে ‘বন্দুক কোটা’। একজন তো লিখেছে- “বৃটিশরা ২০০ বছর শোষণ করেছে, পাকিস্তানীরা শোষণ করেছে ২৪ বছর আর দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ৪৭ বছর শোষণের শিকার।” আমি একজন শোষকের উত্তরসূরী জেনে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। যেই শোষক পরিবার পরিজন ফেলে যুদ্ধে গেল, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যে ৫ বছর জেল খাটলো, এরপর স্বৈরশাসক আর বিএনপি-জামাতের দীর্ঘ শাসনকালে যে শোষক প্রতিনিয়ত অপদস্থ হল- সেই শোষকের উত্তরসূরী হিসেবে আমি লজ্জিত। এই কোটা ব্যবস্থার জন্য যদি এই মানুষ গুলোকে এমন ভাবে অপমানিত হতে হয়, তাহলে কোন দরকার নেই এরকম ‘বিশেষ ব্যবস্থার’। একজন মুক্তিযোদ্ধা ‘শোষক’ পরিবারের গর্বিত উত্তরসূরী হিসেবে আমি বলছি, মুক্তিযোদ্ধা কোটা না থাকলেও আমার কিছুই আসে যায় না।

**

মূলত এসব দ্বিমুখী চিন্তাভাবনা থেকে এই বিষয়ে নিরব থাকব বলেই ভেবেছিলাম। হাওয়া বুঝে কিছু একটা লিখে হয়তো বেশ কিছু লাইক কামানো যেত, কিন্তু সেটা হিপোক্রেসি হতো। তাই লিখিনি। কিন্তু এখন আর এই ব্যাপারটা শুধু কোটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

একটি সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, একটি শিক্ষাঙ্গনে পুলিশ কিভাবে ছাত্রছাত্রীদের উপরে অস্ত্র চালায়? প্রশাসন কতটা নির্লজ্জ এবং ধ্বজভঙ্গ হলে ছাত্রছাত্রীদের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের উপরে গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়? যেখানে শিক্ষকদের নিজেদের বুক আগলে ছাত্রছাত্রীদের রক্ষা করার কথা, সেখানে এই নির্লজ্জ শিক্ষকেরা মানব-বন্ধন করে ভিসির বাড়ি ভাঙার শোকে। অবশ্যই ভিসির বাড়িতে যারা এভাবে হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমার বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে এরকম কাজ করা সম্ভব নয়। যারাই এই কাজটি করুক, তাদেরকে আইনানুযায়ী খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু এই শিক্ষকেরা ভিসির বাড়ি নিয়ে যতটা কনসার্ন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাদের কি সেই কনসার্ন আছে? এতগুলো ছেলেমেয়ে আহত হল, কেউ কি তাদের দেখতে গেছে? পুলিশ এবং ছাত্রলীগের গুণ্ডারা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কলুষিত করলো, এই শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলেছে? বলেনি। সম্ভবত বলবেও না। এই শিক্ষকরা ‘কোটার’ মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত না হলেও, তারা অধিকাংশই এসেছে অন্য এক বিরাট কোটায়, যার নাম ‘রাজনৈতিক কোটা’। সঙ্গত কারণেই, তারা এমন নির্লজ্জের মত আচরণ করবে।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে, এর রাজনীতি বিমুখ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আমার যে হতাশা ছিল সেটা অনেকটাই দূর হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েরা যেভাবে সান্ধ্য-আইনের তোয়াক্কা না করে বেড়িয়ে এসেছে রাজপথে, সেটা অভূতপূর্ব এবং অবিস্মরণীয়। অসংখ্য ছাত্রলীগ নেতা, কমিটির সদস্য, এহেন অন্যায়ের প্রতিবাদে পদত্যাগ করে সাধারণ ছাত্রদের কাতারে মিশেছেন। কিছুদিন পর যেখানে ছাত্রলীগের কাউন্সিল, সেখানে এরকম সিদ্ধান্তের জন্য গাটস দরকার। সব সময় আপনাদের গালাগাল করে এসেছি। আমার শ্রদ্ধা গ্রহণ করুন। এ ধরণের আন্দোলন বেহাত হবার সম্ভাবনা থাকে। শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলনের মত একটা মুভমেন্ট কিভাবে নষ্ট হয়েছে আমরা দেখেছি। কোটা-সংস্কার আন্দোলনেও ইতিমধ্যে শিবিরের নেতৃস্থানীয়, চিহ্নিত মানুষজনদের সামনে দেখা যাচ্ছে। এদের চিহ্নিত করে এই আন্দোলন থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করুন। স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন কিছুতেই এই আন্দোলনের সুযোগ নিতে না পারে।

**

কোটা নিয়ে আমার অবস্থান লেখার প্রথম অংশেই পরিষ্কার করেছি। এ নিয়ে যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে আমি আছি সব সময়ই। আমার মনে হয়, গুটিকতেক অন্যায় সুবিধাভোগী ছাড়া যে কোন বিবেকবান মানুষই কোটা সংস্কারের এই দাবীর সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন না। কিন্তু যখন দেখি আজীবন কষ্ট করে আসা, লড়াই করা আমার মুক্তিযোদ্ধা পিতা কিংবা দাদার অসম্মান হচ্ছে তখন সেটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। এই আন্দোলনের উছিলায় যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করছে তাদের চিনে রাখুন, বয়কট করুন। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে, তাদের নিয়ে ট্রল করে কখনোই আপনি ‘বাংলাদেশ’ হয়ে উঠতে পারবেন না।

আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা শুধু যে কোটার সংস্কার পেলেই খুশি- শুধু তাই নয়, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা, ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া উচিত হবে না কারো। প্রধাণমন্ত্রী এক মাস সময়ের কথা বলেছেন কোটা সংস্কারের ব্যাপারে কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল কেউ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কেউ ছাত্রছাত্রীদের উপরে হামলার ব্যাপারে কিছু বলেছে বলে শোনা যায়নি। সেই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ভিসি তাদের দায়িত্ব পালনে অনেক আগে থেকেই সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ- তাদের পদত্যাগ দাবী করছি। সঠিক ভাবে ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলোচনা না করে, গুণ্ডা লেলিয়ে কিছু করতে গেলে সেটা সরকারের জন্য বুমেরাং হবে- নির্বাচনের বছরে সরকারের সেটার বোঝার কথা!

যে ছোট বোনটি আমাকে নক করে বলেছিল “ভাইয়া কোটা রিফর্মেশন নিয়ে আপনার লেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি”- আমি তার আশা অনুযায়ী লিখতে পেরেছি কিনা জানিনা। হতে পারে সে মনঃক্ষুণ্ণ হবে কিংবা আশাহত হবে। কিন্তু আশাহত হলেও এটুকু বলতে পারি, আমি হিপোক্রেসি করিনি। হতে পারে আমি দুর্বল, গড়পড়তা তুচ্ছ একজন সাধারণ মানুষ কিন্তু আমি ভণ্ড নই।

কোটা-সংস্কার আন্দোলনের জয় হোক।

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-