পুতিনের সহকারী পুতিনকে জিজ্ঞেস করেছে- “স্যার, বৃষ্টি তো শুরু হয়েছে, কয়টা ছাতা আনবো?” পুতিনের সোজাসাপ্টা জবাব- “একটাই আনবে। ওরা আমাদের বিশ্বকাপ জিততে দেয়নি, আমরা ওদের ছাতা দেবো না। এখন ভিজুক ব্যাটারা বৃষ্টিতে!”

উপরের অংশটা নেহায়েতই কৌতুক। তবে এই কৌতুকের জন্ম হয়েছে বাস্তব ঘটনা থেকেই। গত পরশু ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে আগামী চার বছরের জন্যে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে ফ্রান্স। পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে হাজির ছিলেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো আর ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্র‍্যাবার কিতারোভিচ।

ঘটনাটা তখনকার। একে একে খেলোয়াড়েরা আসছিলেন অস্থায়ী মঞ্চে, তাদের গলায় পরিয়ে দেয়া হচ্ছিল মেডেল। হুট করেই আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি। পুতিনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দেহরক্ষী বড়সড় একটা ছাতা মেলে ধরলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মাথার ওপরে। অথচ পাশাপাশি তখন দাঁড়িয়ে আছেন ইনফান্তিনো, ম্যাক্রো আর কিতারোভিচও। একজন ফিফার প্রেসিডেন্ট, অন্য দুজন দুটো রাষ্ট্রের প্রধান। অথচ ওদের জন্যে কোন ছাতা নেই! বাকীরা ভিজছেন বৃষ্টিতে, আর পুতিন একাই দাঁড়িয়ে আছেন ছাতার নীচে। মুখে স্মিত হাসি। এতসব সাধারণের মাঝে পুতিন একাই বুঝি অসাধারণ, অনন্য কেউ!

ছবিগুলো ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ঠাট্টা তামাশা শুরু করে দিয়েছে এগুলো নিয়ে। মিডিয়াতেও কেউ মজা করছেন, কেউবা করছেন সমালোচনা। বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স নয়, সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা লুকা মড্রিচ বা সেরা এবারের বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে নন, এমনকি পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলোচনায় থাকা ক্রোয়েশিয়ান প্রেসিডেন্ট কিতারোভিচও নন, ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র আসলে ভ্লাদিমির পুতিন আর তারা ছাতা!

টুইটারে এক বৃটিশ ব্যবহারকারী পুতিনের ছাতার ছবি শেয়ার করে নীচে মজা করে লিখেছেন, পুতিন বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি পুতিন, কেন তিনি বাকী সবার চাইতে আলাদা। ছাতা দিয়েই বাকী সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি! আরেকজন লিখেছেন, “অনেক বছর আগে আমি গডফাদার সিনেমায় মার্লন ব্র‍্যান্ডোকে দেখেছিলাম। আজ আমি ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখলাম। সুতরাং পুতিনই আসল গডফাদার!” রেস-৩ সিনেমায় ডেইজি শাহ’র বিখ্যাত ডায়লগের অনুকরণে এক ভারতীয় লিখেছেন- মাই আমব্রেলা ইজ মাই আমব্রেলা, নান অফ ইওর আমব্রেলা!”

একজন তো আবার ছবিতে কথাও জুড়ে দিয়েছেন! পুতিনের মাথার ওপরে ছাতা, আর খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে ভিজতে ভিজতে পুতিনের দিকে তাকিয়ে আছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো- এমন ছবিতে দুজনের কথপোকথন যোগ করেছেন কেউ একজন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুতিন ম্যাক্রোকে বলছেন- “তোমার কাছে বিশ্বকাপের ট্রফি থাকতে পারে, কিন্ত আমার কাছে আছে ছাতা। এখন ট্রফি নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাও!” একজন আবার কৌতুক করে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘রাশিয়ায় মোট কয়টা ছাতা আছে?’ নিজেই আবার সেটার উত্তর দিয়েছেন- “একটা। সেটা সবসময় পুতিনের কাছেই থাকে, এজন্যে বাকীদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়!”

ছবিগুলো নিয়ে মজা করতে ছাড়ছে না ভারতীয়রাও। দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের একটা ছবিতে এরকম একটা দৃশ্য ছিল- সবাই বৃষ্টিতে ভিজছেন, শুধু রজনীকান্তের মাথার ওপরে ছাতা ধরে আছেন তার এক সাগরেদ। সেটার সঙ্গে পুতিনের ছবিগুলোর তুলনা করে অনেকে বলছেন, পুতিন হচ্ছেন রাশিয়ার রজনীকান্ত! আবার কেউ কেউ তো পুতিনের নামটাই বদলে দিচ্ছেন! রজনীকান্তকে তার ভক্তরা আদর করে ডাকে থালাইভা। ভারতীয় নেটিজেনরা এখন পুতিনকে ডাকছেন ‘ভ্লাদিমির থালাইভা পুতিন’ নামে!

এমনিতে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি তেমন। সর্বকালের সফলতম বিশ্বকাপ আয়োজনের খেতাব রাশিয়া পেলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। মাঠে দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছে, মাঠের বাইরেও ঘটেনি কোন অঘটন। দারুণ ব্যবস্থাপনা ছিল। বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের জন্যে মেট্রোরেলের টিকেট ফ্রি-তে দেয়া হয়েছিল এই একটা মাস। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যারা খেলা দেখতে এসেছিলেন, প্রায় সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনে ত্রুটি রাখেনি রাশিয়া। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্বকাপের এমন চমৎকার আয়োজনের জন্যে!

তবুও দিনশেষে পুতিন ট্রোলের শিকার। যদিও বৃষ্টি শুরু হবার খানিক পরেই মঞ্চে দাঁড়ানো বাকীদের জন্যেও ছাতা আনা হয়েছিল। তবুও ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং দুটো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ভিজতে দিয়ে নিজে ছাতার নীচে দাঁড়িয়ে পুতিন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেই মত দিচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। এসবে অবশ্য পুতিন থোড়াই কেয়ার করেন! রাশিয়ার রজনীকান্ত বলে কথা!

Comments
Spread the love