অথচ সাধারণ ছাত্রজনতার পালসটা ধরতে পারলে এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের পুরো মাখনটা নিজের প্লেটে তুলতে পারতো সরকার, আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, সবাই! তার বদলে তারা কি করলো? নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলো। বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চাওয়া একমহিলা কপাল ফেরে আজ মন্ত্রী হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে, ছাত্রলীগ পাক হানাদার বাহিনী স্টাইলে ছাত্রদের হলে হলে তান্ডব চালাচ্ছে, শিবির স্টাইলে এক মেয়ে আরেক মেয়ের রগ কাটতেসে, গায়ের জোরে আন্দোলন বানচাল করতে চাচ্ছে সবাই মিলে!

অথচ এই সংস্কারটা করলে সামনের নির্বাচনে বিএনপির বাপ এলেও আর ১১০% ফেয়ার নির্বাচন করলেও আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারতো না। ইশ রে! এই এক আন্দোলনেই নিজেদের আরো ভিলেন বানালো তারা! কি মিসটা করলো! একদিন আফসোসে তারা কি হাত কামড়াবে… নাকি জানেই ইলেকশনে তারাই জিতবে, তাই সাধারণ মানুষ কি চায় সেটা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নাই? এরকমই তো মনে হচ্ছে!

কোটা বৈষম্য, কোটাবিরোধী আন্দোলন

আবার জনগনের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে- এরকম টেনশন যাদের মাথায় আছে তারা জনগনের সুনজরে আসার, বাহবা পাওয়ার, রাতারাতি জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার এরকম মোক্ষম সুযোগ কিভাবে হারায়? এই জন্যই তো সন্দেহ হয়- জনগন কি ভাবে, কি চায় সেগুলো আদৌ আর কেয়ার করছে কি ক্ষমতাসীনরা? তারা কি নিজেদের জনগণের ঊর্ধ্বে ভাবছে? এর ফলাফল কিন্তু খুব খারাপ হবে! ইতিহাস সাক্ষী- অতি আত্মবিশ্বাস আর ঔদ্ধত্য বিপদ ডেকে আনে!

দিন শেষে যারা চাইলেই এই আন্দোলনটাকে নিজেদের ইমেজ ও জনপ্রিয়তাকে হাজার গুণ বাড়ানোর একটা দারুন সুযোগ পেয়েও ব্যবহার করতে না পেরে উলটো নিজেদের নির্বোধ, বিবেকবুদ্ধিহীন, অপরিণামদর্শী হিসেবে প্রমাণ করলো, তাদের জন্য একরাশ সমবেদনা। জাগ্রত বিপুল জনতার সামনে কোনদিন কিচ্ছু টিকে নাই, খড়কুটার মত ভেসে গেছে- নিজেরাও ভেসে যাওয়ার আগেই টনক নড়ুক, একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসুক- এখন এর বেশি কিছু আর চাওয়ার নাই।

কোটা সংস্কার আন্দোলন, পুলিশ ছাত্র লড়াই, মুক্তিযোদ্ধা কোটা

Comments
Spread the love