ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

সাবধান! এবার প্রতারণার নতুন ফাঁদ!

জ্বীনের বাদশা, লটারীতে গাড়ি বা বাইশ লাখ টাকা এবং বিকাশে ভুল করে টাকা সেন্ড হইছে শীর্ষক অপরাধী চক্রের পর এবার নতুন চক্র মাঠে নেমেছে নতুন আইডিয়া নিয়ে। বিক্রয় ডট কম প্লাস কুরিয়ার সার্ভিস। ঘটনা বিস্তারিত বলি।

আমার এলাকার এক বড়ভাই ফোন কেনার জন্য বিক্রয় ডটকমে গেছে। সেখানে একটা ফোন পাইছে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি J8 মডেলের ফোন মাত্র বারো হাজার টাকা। বিক্রেতা অনলি ৪ মাস ফোনটা কিনেছে, ওয়ারেন্টি কার্ড দিবে। ফোনের অরিজিনাল দাম ২৮ হাজার। তো ভাই কল দিছে। যিনি ফোন বিক্রি করবেন তিনি ভাইকে ফোনের ছবি, ওয়ারেন্টি কার্ডের ছবি, ২৮ হাজার টাকার ক্যাশ মেমোর ছবি পাঠাইছে। ফোন দেখতে একদম নিউ। লোকটা বলেছে তার বাসা সিরাজগঞ্জ। অতঃপর সে ফেঁদেছে এক গল্প। 

এতো দামি ফোন এতো কম টাকায় বিক্রি করতে চাওয়ার একটাই কারন সেটা হলো সে বিদেশ যাবে, তার ব্যাংক লোন লাগবে। কিন্তু ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার জন্য ব্যাংকে মাত্র ৪ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। লোনের সবকিছু ঠিকঠাক তার জাস্ট চার হাজার টাকার জন্য লোন আটকে আছে। পরের দুইদিন ব্যাংক বন্ধ বিধায় তার টাকাটা এখনই লাগবে। নাহলে সে রবিবারে লোন উঠানোর পর আর বিদেশে যাওয়ার টাকাটা জমা দিতে পারবে না। তার বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। এজন্য সে এতো দামী ফোন কম টাকায় বিক্রি করছে। তাকে এখন ৪ হাজার টাকা পাঠালেই হবে।

কিন্তু আমার এলাকার ভাই ৪ হাজার টাকা দেবে কোন ভরসায়? সেই লোক সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে গেছে। গিয়ে দোকানের ছবি দিয়েছে ভাইকে। বলেছে ফোন পার্সেল করে দিন। কুরিয়ার সার্ভিসের লোকের সাথে কথা বলেন। দোকানের দেয়ালে যে নাম্বার লেখা সেই নাম্বার থেকে এবার ভাইকে কল দিয়ে বলেছে হ্যাঁ, আমরা অমুক নামে একটা ফোন বুকিং পেয়েছি মাত্র। আপনি আগামীকাল হাতে পেয়ে যাবেন। ফোন হাতে পাওয়ার পর বাকি ৮ হাজার টাকা দিলেই হবে।

তো এত কিছুর পর আর কি, ভাই ৪ হাজার টাকা সেই লোককে পাঠিয়েছে, কারণ সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস যেহেতু কনফার্ম করেছে সেহেতু আর ভয় নেই। টাকা দেয়ার কিছুক্ষণ পর সেই লোকের নাম্বারও বন্ধ, কুরিয়ার সার্ভিসের নাম্বারও বন্ধ। এমনকি পরে এক লোক পাঠায়ে দেখা গেছে সিরাজগঞ্জ বেলকুচি বাজারে এরকম ডিজাইনের কোনো দোকানই নেই। পুরো কুরিয়ার সার্ভিসের দোকানটাই ঐ চক্রের সাজানো। মজার কাহিনী আরো আছে। আজকে সকালে ভাইয়ের কাছে কল আসছে। এক মেয়ে কন্ঠ। বলতেছে, ‘আমি মাগুরা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বলতেছি, আপনার নামে একটা ফোন পার্সেল আসছে। আপনি এসে নিয়ে যান।’

ভাই তো সেইরকম খুশি। তো এই কল কাটার কয়েক মিনিট পরেই কালকের সেই লোক আবার ফোন দিয়েছে। দিয়ে বলছে, ‘ভাই আমার ফোন গতকাল অফ ছিলো। আমি তো আপনার কাছে ফোন বিক্রি করে দিছি, তাই সীম খুলে রাখছিলাম। আজকে আম্মুর ফোনে সীম লাগায়ে মাত্র ওপেন করলাম। আমি অনেক বিপদে পড়েছি এখনই ৫ হাজার টাকা পাঠান। এখন ৫ হাজার দিলেই হবে। আপনাকে ৮ হাজারের বাকি ৩ হাজার দেয়া লাগবে না। আমি খুব বিপদে পড়ে গেছি।’ বলে কান্নাকাটি শুরু করেছে।

ভাই আচ্ছা দিচ্ছি বলে বাইক নিয়ে দ্রুত সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে গিয়ে দেখে এরকম কোনো পার্সেল আসেনি। এমনকি সুন্দরবনের মাগুরা শাখায় কোনো মেয়ে কর্মচারীই নাই। ভাই ঐ লোককে ধরার জন্য বলেছে, ‘আপনি কোথায় আছেন বলেন আমি লোক দিয়ে টাকা পাঠাচ্ছি।’

এটা শুনে সে ফোন কেটে অফ করে দিয়েছে। এখনও অফ। ঐ লোকের নাম্বার: 01968368361। এই হলো কাহিনী। কয়েকজনের সাথে গল্প করতে গিয়ে জানলাম আরো একজনের মামা কিছুদিন আগে ঠিক এভাবেই ৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে ধরা খেয়েছে। সুতরাং এরা একটা সংঘবদ্ধ চক্র এবং এই কাজ আরো করবে। তাই পোস্ট করলাম। যার যার চোখে পড়বে তারা সাবধান হয়ে যান। এইভাবে আর কেউ ধরা খাইয়েন না।

*

আরও পড়ুন-

Comments

Tags

Related Articles