বিবিধ

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার- ভারতবর্ষে বিপ্লবের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধরা প্রথম নারী!

চট্টগ্রাম মিউনিসিপালিটির হেড কেরানী জগবন্ধু আর তার স্ত্রী প্রতিভাময়ী দেবীর বিরাট পরিবার। বিংশ শতাব্দীর যুগের হাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে তারা জন্ম দিয়েছেন ছয় ছয়টি মানব শিশু। এর মধ্যে আছে আবার এক রানীও। মানে, তারা শখ করে মেয়ের ডাক নাম রেখেছিলেন রানী।

রানীর ভালো নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ভারতবর্ষে মেয়েটি রানীর জীবন চায়নি, স্রোতের বিপরীতে সে বেছে নিয়েছিলো বিপ্লবের জীবন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নাম খুব একটা শোনা যায় না আজকাল, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলো তাদের অনেকের মতো প্রীতিলতা বিস্মৃত এক নাম। অনেকে হয়ত শুনেছে, কিন্তু জানে না প্রীতিলতার বিপ্লবী জীবনের গল্প।

বিশ শতকের শুরুতে বাঙ্গালি নারীদের কারো কারো মধ্যে একটি বিশাল পরিবর্তন আসে। তারা সব অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করলো। প্রথা ভাঙ্গার চেষ্টা করতে লাগলো। মোট কথা, তারা চাইলো একটা পরিবর্তন।

১৯১১ সালে যে বছর বিপ্লবী কন্যা প্রীতিলতার জন্ম সে বছর আরো দুইটা বিশেষ ঘটনা ঘটে। বেগম রোকেয়া রংপুরে মেয়েদের জন্য সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পুনরায় চালু করেন। বেগম রোকেয়া নিজে ঘরের বাইরে গিয়ে স্কুলে পড়ার অনুমতি পাননি। সময়টা এমন ছিলো যে, নারীদের পড়ালেখাকে ভালো নজরে নেয়া হতো না। তাই তিনি গোপনে বাংলা, ইংরেজি শিখেছিলেন। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন,একদিন মেয়েদের জন্য স্কুল করবেন। বেগম রোকেয়া নারীদের জাগ্রত করতে বেশ কয়েকটা বই লিখেছেন। সেখানে নারীশিক্ষা,অধিকারের কথা লিখতেন তিনি। প্রীতিলতার জন্মের বছরে জন্মেছিলেন আরেক মহীয়সী নারী সুফিয়া কামাল। একজন বাঙ্গালি নারী কবি হয়ে উঠতে পারে,সে রাস্তা তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন। বিখ্যাত “বেগম” পত্রিকার প্রথম সম্পাদক তিনি।

বলতেই হয়, প্রীতিলতা জন্মেছিলেন এক বিশেষ সময়ে। সেই বিশেষ সময়ের দাবিও ছিলো বিশেষ রকম। একই সাথে চলছিলো ব্রিটিশদেরকে তোয়াজ করে চলার রীতি আর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। প্রীতিলতা ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়েছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে।

অথচ, এই মেয়েটি ছিলো ভীষণ লাজুক আর অর্ন্তমুখী স্বভাবের। কিন্তু কে জানতো মেধাবী এই মেয়েটি একদিন ছদ্মনাম ফুলতার হয়ে বিপ্লবের পথে পা বাড়িয়ে দিবে ! কে জানতো এই মেয়েটি মাত্র একুশ বছর বয়সেই নিজের জীবনের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা চেয়ে বসবে! আত্মাহুতি দিয়ে দেবে নিজের জীবন! কে জানতো এই প্রীতিলতাই হবে ভারতবর্ষের প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ!

প্রীতিলতার বিপ্লবী হবার শুরুটা যেভাবে-

প্রীতিলতার ভাগ্য একদিক দিয়ে বেশ ভালো বলতে হয়। কারণ, তৎকালীন সময়টা ছিলো নারীশিক্ষার পথে অন্তরায়। সেই কঠিন সময়ে প্রীতিলতাকে পড়ালেখার সুযোগ দিয়েছেন তার বাবা মা। এটা অবশ্যই একটা টার্নিং পয়েন্ট। প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিলো “ডাক্তার খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়” এ।

ঊষাদি এই স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক। ইতিহাস বেশ রসিয়ে রসিয়ে গল্পের মতো করে পড়াতে পারেন। তিনি একদিন ক্লাসে ঝাঁসীর রানী লক্ষ্মীবাঈ এর গল্প শোনালেন। লক্ষ্মীবাঈ পুরুষের বেশ ধরে কিভাবে ইংরেজ সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন সে গল্প করতেন।

গল্প শুনে প্রীতিলতার মাথা ঘুরে গেলো! এমনও নারী আছে নাকি! একসময় প্রীতিলতার স্বপ্ন ছিলো বিজ্ঞানী হওয়ার, কিন্তু ঝাঁসীর রানীর গল্প প্রীতিলতাকে প্রভাবিত করে ভীষণরকম।

প্রীতিলতা তখন ক্লাস টেনে পড়েন। তার কাছের এক আত্মীয় পূর্ণেন্দুদা ছিলেন বিপ্লবী কর্মী। তখন এমন বিপ্লবীদের বিনা বিচারে আটক করার নতুন নিয়ম হয়েছে। আর বিপ্লবীদের বইপত্র, প্রকাশনা করা হয়েছে বাজেয়াপ্ত। প্রীতিলতার পূর্ণেন্দুদা করলেন কি, কিছু বাজেয়াপ্ত গোপন বই লুকিয়ে এনে প্রীতিলতার কাছে দিয়ে গেলেন। প্রীতিলতা এমনিতেই বই পড়তে ভীষণ ভালবাসেন।

এমন বই পেয়ে তার নেশা চড়ে গেল। লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি পড়েন “দেশের কথা”, “বাঘা যতীন”, “ক্ষুদিরাম” আর “কানাইলাল”। ব্যাস! প্রীতিলতার ধারণা জুড়ে বিপ্লবের আইডিয়া খেলা করে। তিনি, ঠিক করেন তিনি হবেন বিপ্লবী। কিন্তু তখন পর্যন্ত বিপ্লবী দলগুলোতে নারী সদস্য নেয়া শুরু হয়নি।

প্রথম বিদ্রোহ- প্রথম বিদ্রোহটা করে বসলেন মেট্রিক পরীক্ষার পর পরই। বেগম রোকেয়ার মতো প্রীতিলতাও চাইতেন অনেক পড়াশুনা করতে। হুট করেই একদিন বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব এলো। কিন্তু, এত দ্রুতই বিয়ে করার পক্ষে নন প্রীতিলতা। মনে তার যে সুপ্তবাসনার সৃষ্টি হয়েছে, সেটার জন্যে তাকে এখনই বিয়ে করলে চলবে না।

প্রীতিলতা প্রবল আপত্তি তুললেন। আপত্তির জোর এতই বেশি ছিলো যে তখনকার মতো বিয়েটা স্থগিত হয়ে গেলো। এটাকে বিদ্রোহ অবশ্যই বলা যায়। যে সময়ের কথা, সেই ১৯২৭/২৮ সাল, তখন নারীরা বিয়ের বিরোধিতা করবে এটা আশা করা খুবই দুরূহ। কিন্তু, ফুলতারের কথা আলাদা !

বিপ্লব টানে বিপ্লবকে- কলেজে প্রীতিলতার সাথে দেখা হলো আরেক বিখ্যাত বিপ্লবী লীলা নাগের সাথে।

লীলা নাগের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় আছে। আগেই বলেছি, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাঙ্গালি নারীদের মধ্যে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। লীলা নাগও সেই রকম একজন নারী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে তাকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছিলো তখনকার ভিসি ড. হার্টস থেকে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো পর্যন্ত সহশিক্ষার ধারা চালু হয়নি। কিন্তু লীলা নাগের দৃঢ়তার কারণে নারীদের জন্য শিক্ষার পথ উন্মুক্ত হয়েছিলো।

প্রীতিলতা যখন ঢাকার ইডেন কলেজে গেলেন তখন “দীপালী সংঘ” নামক এক বিপ্লবী সংঘে তিনি যোগ দেন। এই সংগঠনটি নেতৃত্ব দিতেন লীলা নাগ। এখানে তিনি লাঠিখেলা, ছোরা খেলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। কারণ, তার স্বপ্ন নিজেকে মাস্টারদা সূর্যসেনের উপযুক্ত কমরেড হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

মাস্টারদা সাথে পরিচয়- ১৯৩২ সালের ১২ জুন প্রীতিলতা চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের প্রধান কেন্দ্র ধলঘাটের ঘাঁটিতে মাস্টারদা সূর্যসেনের সাথে দেখা করতে যান। বাড়িতে তখন আরেক সুপরিচিত বিপ্লবী নির্মল সেনও ছিলেন। পুলিশ সূর্যসেনের অবস্থান সম্পর্কে জেনে যায়। তারা ঠিক করে অভিযান চালাবে এই বাড়িতে।

কারণ, ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা দিয়েছিলো এই সূর্যসেন আর নির্মল সেনকে যদি জীবিত বা মৃত কেউ ধরিয়ে দেয় তার জন্যে ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার। পটিয়া পুলিশ ক্যাম্পের অফিসার-ইন-চার্জ ক্যাপ্টেন ক্যামেরুন পুরষ্কার এবং পদোন্নতির আশায় ঐ বাড়িতে অভিযান চালাতে রাত ৯টায় ধলঘাটের বাড়িতে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যাওয়ায় নির্মল সেন মাস্টারদা সূর্যসেন আর প্রীতিলতাকে বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করলেও নিজে আর পালাতে পারেননি। পুলিশ তাকে গুলি করে।

এদিকে ধলঘাটে ছবি পেয়ে পুলিশ প্রীতিলতার বাড়িতে আসে। কিছু বই পত্র নিয়ে যায়। তল্লাশি চালায়। তারপর আবার পুলিশ এসে বাড়ির আশে পাশের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে। তারা অনেক কাগজপত্র উদ্ধার করে। মাষ্টারদা খবরটি জানতে পেরে প্রীতিলতাকে আত্মগোপনের নির্দেশ দেন। প্রীতিলতা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনের পর গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর বলেন, “এত শান্তশিষ্ট নম্র মেয়ে ও, এত সুন্দর করে কথা বলতে পারে, ভাবতেও পারি না তার ভিতর এত কিছু আছে! আমাদের খুব ফাঁকি দিয়ে সে পালিয়ে গেল।“         

প্রীতিলতার পাহাড়তলি আক্রমণ- মাস্টারদা সূর্যসেন প্রীতিলতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন। চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকায় এক ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া হলো প্রীতিলতাকে।

এই ক্লাবটি আক্রমণের যথেষ্ট কারণ আছে। ক্লাবের ফটকে ইংরেজরা লিখে রেখেছিলো “কুকুর আর ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ”। প্রতি সন্ধ্যায় ইংরেজরা এই ক্লাবে এসে মদ খেতো, নাচতো, উল্লাস করতো। ক্লাবে শুধু সাদা চামড়ার মানুষদের প্রবেশ, আর কেউ ক্লাবের ধারে কাছে যেতে পারতো না।

কি অদ্ভুত নিয়ম। কি অদ্ভুত বিভাজন। সামান্য ক্লাবের এই উদাহরণ দেখে বোঝা যায় ইংরেজরা গোটা ভারতবর্ষে কেমন শাসন করতো। বাঙ্গালির বোকামী আর নমনীয়তার সুযোগেই শুধু ইংরেজরা দুইশ বছর এই ভারতবর্ষ শাসন করতে পেরেছে। প্রীতিলতারা বুঝেছিলেন আর নমঃ নমঃ করার সময় নেই। এখন সময় আক্রমণ করার।

মাস্টারদা সূর্যসেনও বুঝেছিলেন এই মেয়েটি আর দশজনের মতো নয়। সে জন্মেছে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে। তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। বিপ্লবী দলে নারীদের সদস্য হিসেবে না নেয়া হলেও প্রীতিলতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে সে বিপ্লবী দলে যুক্ত হতে পেরেছিলেন। এমনকি তিনি পাহাড়তলির ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্বও অর্জন করেছিলেন।

তারা ঠিক করলো, ২৩ সেপ্টেম্বর (১৯৩২) ইংরেজদের এই ক্লাব গুঁড়িয়ে দেবে। ক্লাবের পাশেই পাঞ্জাবিদের কোয়ার্টার। তাই প্রীতিলতা চিন্তা করলেন, পাঞ্জাবিদের  ছদ্মবেশ নিবেন। মালকোঁচা দেয়া ধুতি আর পাঞ্জাবি, মাথায় সাদা পাগড়ি পড়ে নিলেন। পায়ে আছে রাবার সোলের জুতা। পুরোপুরি পাঞ্জাবি ছেলেদের ছদ্মবেশ।

রাত তখন প্রায় ১১ টার কাছাকাছি। শনিবারের রাত। ক্লাবঘরে চল্লিশ জনের মতো মানুষের অবস্থান। প্রীতিলতার নেতৃত্বে তিনভাগে বিপ্লবীরা ভাগ হয়ে গেলেন। তারপর শুরু হলো ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।

সফল আক্রমণ শেষে সবাই ফিরে এলো। এলেন না প্রীতিলতা। ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দলনেতা বাঙ্গালি মেয়ে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার গুলিবিদ্ধ হলেন।

তারপর বিষে নীল হলেন বিস্ময় কন্যা- ক্লাব আক্রমণে আহত হবার পর প্রীতিলতা কালীকিংকরদার কাছে পটাসিয়াম সায়ানাইড চাইলেন। কারণ, এই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইংরেজদের হাতে ধরা পড়েন সেটা তিনি চাননি। ইংরেজদের অত্যাচারের চেয়ে দেশের কথা ভেবে আত্মাহুতি দেয়াটাই তার কাছে ভালো মনে হয়েছিল। অতঃপর পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ফুলতার ওরফে রানী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

পরদিন পুলিশ লাশ দেখে ভেবেছে এটা কোনো পুরুষের লাশ। কিন্তু মাথার পাগড়ি খুলে যখন লম্বা চুলের মেয়েটিকে তারা শনাক্ত করলো আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেলো সারা ভারতবর্ষে। এ যে সেই শান্তশিষ্ট ভাব ধরে থাকা মেয়েটি, ছোটবেলার লাজুক স্বভাবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ব্রিটিশ সরকারও বিস্মিত হলো এই ঘটনায়। পুলিশ  ময়নাতদন্ত করে জানতে পারলো, গুলির আঘাত গুরুতর ছিলো না, মৃত্যুর কারণ পটাসিয়াম সায়ানাইড।

শেষ চিরকুট- প্রীতিলতা অপারেশনে যাওয়ার আগে মায়ের জন্য একটা চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন। সেখানে লেখা-

“মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো—তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পুর্ণ হবে না।

……আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো-“ওগো তোমরা আমার রাণীশূন্য রাজ্য দেখে যাও”।

তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে।

মাগো, অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কী করব মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভাবে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অপমানিতা!  তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উত্সর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?”

 

 

 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close