তারুণ্য

‘পজেসিভ’ হওয়ার নামই কি ভালোবাসা?

– আগামী সপ্তাহে রাঙামাটিতে স্টাডি ট্যুরে যাচ্ছিস তো?
– নারে, আমার যাওয়া হবে না।
– ও মা, কেন! বাসা থেকে পারমিশন দিচ্ছে না বুঝি?
– না, বাসায় কোনো সমস্যা নেই। স্টাডি ট্যুরের কথা বলে বাবা-মাকে রাজি করানো খুব একটা কঠিন হতো না।
– তাহলে? তোর নিজের কোনো সমস্যা আছে?
– সমস্যা বলতে, আমার বয়ফ্রেন্ড মানবে না। ওর এগুলো একদম পছন্দ না।
– সে কী! বয়ফ্রেন্ড মানবে না বলে এত বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া করবি? এই স্টাডি ট্যুরের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে ওয়ার্কিং ফিল্ডে কতটা সাহায্য করবে, তোর কোনো ধারণা আছে? তাছাড়া বয়ফ্রেন্ডের না মানারই বা কী আছে! ও কি তোর ভালো চায় না?
– ভালো তো চায়ই। কিন্তু কী জানিস তো, ও আমার ব্যাপারে একটু বেশি পজেসিভ। খুব ভালোবাসে কি না, এজন্য। 
– পজেসিভ! এইটাকে পজেসিভনেস বলে! আর এই ধরণের খামখেয়ালি পজেসিভনেসের জন্য তুই তোর নিজের ভবিষ্যতকে জলাঞ্জলি দিবি!
– তুই বুঝবি না রে। কাউকে ভালোবাসতি, তাহলে ঠিকই বুঝতি। ভালোবাসার মানুষের জন্য কত কিছু স্যাক্রিফাইজ করা যায়, কম্প্রোমাইজ করা যায়!
– হায় রে কপাল! এগুলোর নাম যদি প্রেম-ভালোবাসা হয়, তাহলে ঝাঁটা মারি সেই প্রেম-ভালবাসায়। এরচেয়ে সিঙ্গেল থাকাই ভালো। যা খুশি করে বেড়াব, নিজেকে ক্যারিয়ারে এস্টাবলিশ করব। নিজের স্বপ্ন, ভালোলাগাকে কারও কাছে বর্গা অন্তত দেব না।

দুই বান্ধবীর মধ্যকার কথোপকথনের অংশবিশেষ এটি। এবং এই কথোপকথনের সাথে অনেকেই নিশ্চয়ই নিজেদের জীবনের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতাকে রিলেট করতে পারছেন। পজেসিভনেস শব্দটা আজকালকার সম্পর্কে খুব বড় একটা জায়গা দখল করে নিয়েছে। ভালোবাসা আর পজেসিভনেসকে অনেকে তো পরস্পরের সমার্থক হিসেবে মানতেও শুরু করে দিয়েছে।

পজেসিভনেস শব্দটির উৎপত্তি পজেশন থেকে, যার অর্থ কোনো জিনিসের উপর নিজের অধিকার বা দখলদারিত্ব, জিনিসটিকে পুরোপুরি নিজের বলে মনে করা। যেমন আমি দোকান থেকে পাঁচ টাকা দিয়ে একটি কলম কিনলাম, সেটি এখন আমার পজেশন। আমি বিশ্বাস করি, কলমটি একেবারে আমার নিজস্ব সম্পত্তি। ঠিক একইভাবে, সম্পর্কে পজেশন বলতে বোঝায় ভালোবাসার মানুষটিকে সম্পূর্ণ নিজের বলে মনে করা। বিষয়টি নিঃসন্দেহে খুবই মিষ্টি। যাকে আপনি ভালোবাসেন, তাকে নিজের বলে মনে করতে পারার সাথে যে উদারতা আর প্রবল মায়া জড়িয়ে আছে, তার কোনো তুলনা হয় না। কোনো প্রেমিকযুগল নিজেদেরকে একক সত্তা মনে করলে সেটি অবশ্যই খুব ভালোলাগার মত একটি ব্যাপার।

কিন্তু সমস্যা হলো, এক সময় ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত পজেসিভনেস শব্দটি সময়ের সাথে সাথে নেতিবাচকতায় পতিত হয়েছে। আশেপাশে আমরা প্রতিনিয়ত যেসব উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি, তাতে এখন আর পজেসিভনেস শব্দটিকে সম্পর্কের খুবই মিষ্টি ও মায়াবী একটি বৈশিষ্ট্য বলে মনে হয় না। বরং এটিকে খুবই তিক্ত একটি বিষয় বলে মনে হয়। অথচ আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, আজকের দিনে অনেক সম্পর্কই দাঁড়িয়ে আছে পজেসিভনেস নামক খুবই হালকা ও দুর্বল একটি খুঁটির উপর, সামান্য ঝড়েই যা উড়ে যেতে পারে, ধস নামাতে পারে সম্পর্কে।

এর মানে হলো, সময়ের আবর্তে পরিবর্তন ঘটেছে পজেসিভনেসের সংজ্ঞায়। পজেসিভনেস দিয়ে এখন কেবল ভালোবাসার মানুষকে একান্ত আপনার বলে মনে করা হয় না, বরং একই সমান্তরালে চলে আসে তার উপর কর্তৃত্ববোধ ও প্রতি পদে পদে তাকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পজেসিভনেসের ক্ষেত্রেও ছেলেরাই অ্যাকটিভ রোল প্লে করে, মেয়েরা হয় প্যাসিভ।

এখনকার দিনে পজেসিভনেস মানে হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, একজন প্রেমিক বা স্বামী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রেমিকা বা স্ত্রী কী করবে, সে ব্যাপারে। প্রেমিকা বা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কোনো কাজই যেন করা যাবে না মেয়েদের। প্রেমিকা বা স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনই এখানে মুখ্য, অন্য আর সব বিষয় গৌণ। যেমনটি উপরের দৃশ্যপটের মাধ্যমে দেখিয়েছি, একটি মেয়ের সামনে সুযোগ এসেছে স্টাডি ট্যুরের মাধ্যমে খুব মূল্যবান কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার, যা তার পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে। কিন্তু সে সেই ট্যুরে যেতে পারছে না স্রেফ প্রেমিকের মনরক্ষা করার জন্য। এবং প্রেমিকের মনরক্ষার মাধ্যমে সে মনে করছে, সে খুব মহৎ কোনো কাজ করে ফেলেছে। আদর্শ প্রেমিকাদের বুঝি এমনই হতে হয়!

কিন্তু এখন আমরা যদি বাস্তবতার ছাঁচে ঢেলে দেখি গোটা বিষয়টিকে, তাহলেই বেরিয়ে আসবে তাদের সম্পর্কের কঙ্কাল-সদৃশ শরীরটি। এই যে মেয়েটি ট্যুরে না গিয়ে প্রেমিকের মনরক্ষা করল, এর প্রভাব কি খুব সুদূরপ্রসারী হবে? মোটেই না। দুইদিন পর মেয়েটির সামনে যখন আবারও নতুন কোনো সুযোগ আসবে, তখন আবার সে বাধা পাবে তার প্রেমিকের থেকে। এভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে মেয়েটিকে বাধা দিয়ে যাবে তার প্রেমিক। প্রথম দুই-একবার মেয়েটি হয়ত মুখ বুজে প্রেমিকের সব আবদার সহ্য করে নেবে। কিন্তু এভাবে কতদিন আর সবকিছু সহ্য করা যায়! এক পর্যায়ে প্রেমিকের নিদারুণ মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে মেয়েটি। হয় তাকে এই ভঙ্গুর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, নয়ত নিজের জীবনের যাবতীয় সম্ভাবনাকে নিজ হাতে গলা টিপে মারতে হবে, ভালোবাসাহীন নিরাবেগ একটি সম্পর্ককে বয়ে বেড়াতে হবে।

আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, পজেসিভ প্রেমিক বা স্বামীর অন্যায় আবদার মানতে চাওয়ার পেছনে মেয়েদের মধ্যে যে মনস্তত্ত্ব কাজ করে, তা হলো আনুগত্য প্রদর্শন। এবং নিজের ভালোবাসাকে প্রমাণ করা। এজন্য মেয়েরা বিন্দুমাত্র লজ্জিতও হয় না। তাদের আত্মসম্মানবোধে একটুও আঁচড় লাগে না। কারণ তারা ধরেই নেয়, তাদের প্রেমিক বা স্বামী যে এসবে বাধা দিচ্ছে, তা আসলে করছে ভালোবাসা থেকে, তাদের ভালো চায় বলেই। অর্থাৎ পজেসিভ প্রেমিক বা স্বামী অনেক বেশি প্রটেক্টিভ, অনেক বেশি কেয়ারিং!

কিন্তু আসলে কি তাই? প্রেমিক বা পুরুষদের পজেসিভ আচরণের মূল উৎস কি ভালোবাসা? একদমই নয়। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরণের মাত্রাতিরিক্ত পজেসিভনেসের উৎপত্তি ঘটে হয় সম্পর্কের ব্যাপারে নিজের ইনসিকিউরিটি থেকে, নয়ত জেলাসি থেকে।

ইনসিকিউরিটির ব্যাপারটি বেশি দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ক্ষেত্রে। যেহেতু আজকালকার সম্পর্কে কমিটমেন্টের বড্ড অভাব, আজ সম্পর্ক আছে কিন্তু কালই ভেঙে যেতে পারে টাইপ মনোভাব, এজন্যই ইনসিকিউরিটি দেখা যায় বেশি। প্রেমিকের তার প্রেমিকাকে ট্যুরে যেতে না দেয়ার মূল কারণও এই ইনসিকিউরিটি। সে মনে করছে, কয়েকদিনের জন্য তার প্রেমিকা বাইরে কোথাও গেল ঠিকই, কিন্তু সেখানে গিয়ে সে যদি অন্য কারও প্রেমে পড়ে যায়? ঠিক একই ধরণের ইনসিকিউরিটি দেখা যায় প্রেমিকাকে অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে দেখলে, বা ফেসবুকে প্রেমিকাকে অনেক বেশি সময় কাটাতে দেখলে। কিছু প্রেমিকের মনে একটি সার্বক্ষণিক ভয় কাজ করতে থাকে যে তার প্রেমিকা বুঝি অন্য কাউকে ভালোবেসে ফেলল, তাকে ছেড়ে চলে গেল। আর এই ভয় বা ইনসিকিউরিটিরই বহিঃপ্রকাশ হলো তার পজেসিভ আচরণ।

আবার জেলাসি জিনিসটি বেশি দেখা যায় বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। স্বামী, স্ত্রী দুইজনই হয়ত চাকরিজীবী। নিঃসন্দেহে বিষয়টি যেকোনো দম্পতির জন্যই পরম প্রার্থিত বিষয় হওয়ার কথা। জীবনটাকে সুন্দর করতে অর্থের কোনো বিকল্প নেই। আর সংসারে সেই অর্থের উৎস যদি একটির বদলে দুইটি হয়, তাহলে তো খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু ঝামেলাটা বাধে যখন স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করতে থাকে। সেই সময়ই প্রফেশনাল জেলাসিটা চলে আসে। মুখে যতই নারীবাদের বুলি আউড়াক না কেন, এমন পুরুষ খুব কমই আছে, স্ত্রীর বেশি আয়ে যাদের আঁতে ঘা লাগে না। এই জেলাসিটাকে ঢাকতে তখন অনেক স্বামী হয়ে পড়ে পজেসিভ। তারা বলতে শুরু করে, ‘কী দরকার তোমার এত কষ্ট করে চাকরি করার! তুমি হলে এই সংসারের রাণী। তোমার কি রোজ নয়টা-পাঁচটা চাকরি করা মানায়! আমি তো তোমার গায়ে ফুলের আঁচড়টুকুও লাগতে দিতে চাই না!’ তাদের এইসব মধুর কথায় ভুলে যায় অনেক স্ত্রী। স্বামীর পজেসিভনেসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জেলাসিটাকে তারা ধরতে পারে না। বরং সেটিকে ভালোবাসা মনে করে, আহ্লাদে গদগদ হয়ে ছেড়ে দেয় নিজের সাধের চাকরিটি।

এইভাবে পজেসিভনেসের সাথে সাথে সম্পর্কে চলে আসে স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজের মত বিষয়গুলো। অবশ্যই সম্পর্কে এগুলোর দরকার আছে। কিন্তু সেগুলো হতে হবে দ্বিপাক্ষিক। খালি একপক্ষই স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজ করে যাবে, আর আরেক পক্ষ ভালোবাসার মুখোশের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখে মানসিক নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করে যাবে, এমনটি হতে পারে না।

এ ব্যাপারে পুরুষের চেয়ে নারীর সচেতনতাই বেশি জরুরি। তাদের বোঝা উচিৎ, সন্দেহ আর অবিশ্বাসের উপর ভর করে কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না। আপনি দুইদিনের জন্য কোথাও গেলেই অন্য কারও প্রেমে পড়ে যাবেন, বা আপনি ফেসবুকে একটু বেশি সময় কাটালেই অন্য পুরুষের সাথে প্রেমালাপে মত্ত রয়েছেন, আপনার প্রেমিক বা স্বামীর মনে যদি এ জাতীয় ধারণার উদ্ভব ঘটে, তাহলে কি আপনাদের সম্পর্কে বিশ্বাসের জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে পড়েনি? এমন সন্দেহ আর অবিশ্বাস নিয়ে কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন আপনাদের এই সম্পর্ক? একটা মানুষের তো সহ্যের সীমা আছে। যখন আপনাদের সহ্যের সীমা পার হয়ে যাবে, আর নিজের ওপর অন্য কারও অযাচিত কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারবেন না, তখন কিন্তু আপনাদের প্রতিক্রিয়া হবে খুবই ভয়াবহ। আর সেই ভয়াবহতার জের ধরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনাও অমূলক নয়।

আরেকটি বিষয় হলো, পজেসিভনেস কখনোই ভালোবাসার পরিমাপক হতে পারে না। হ্যাঁ, আপনাদের প্রেমিক বা স্বামী আপনাদেরকে নিজের বলে মনে করবে ঠিকই, যেমনটা আপনারাও করবেন। এবং সবসময় পরস্পরের ভালোমন্দের প্রতিও আপনারা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমা যেন লঙ্ঘন না করেন। যতই আপনারা দুইয়ে মিলে এক হয়ে যান না কেন, তবু সবারই কিছুটা পারসোনাল স্পেস জরুরি, যেখানে অন্য কারোই প্রবেশাধিকার থাকা কাম্য নয়।

ধরুন আপনার প্রেমিক বা স্বামী আপনার ব্যাপারে অনেক বেশি উদারমনা। আপনি যা’ই করতে চান, না পারতে সে বাধা দেয় না। বরং আপনাকে উৎসাহ দেয় কাজটি করার। আপনি কয়েকদিনের জন্য অন্যদের সাথে বাইরে যাবেন শুনেও সে ইনসিকিউরিটিতে ভোগে না। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কী করেন না করেন তা জানার জন্য সে আপনার কাছে আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দাবি করে না। নিজের কোনো সিদ্ধান্ত আপনার উপর চাপিয়ে দিতে চায় না। এর মানে কি সে আপনাকে ভালোবাসে না? আপনার প্রতি সে কেয়ারিং না? বিষয়গুলি একদমই তা নয়। বরং হতে পারে সে আপনাকে আপনার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসে। সে আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না। এবং তার কাছে আপনার সুখ, আপনার সাফল্য মানেই তার নিজের সুখ, নিজের সাফল্য। অর্থাৎ সে’ই হলো প্রকৃত পজেসিভ।

মনে রাখবেন, প্রতি পদে পদে আপনার পায়ে শিকল পরিয়ে রাখার নাম পজেসিভনেস নয়। বরং আপনাকে এত বেশি আপন ভাবা যে আপনার সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা সকল ক্ষেত্রে নিজেকে সামিল করার নামই হলো পজেসিভনেস। কেবল এ ধরণের পজেসিভ প্রেমিক বা স্বামীকেই মেনে নিন, আর নিজেও ঠিক এমনই পজেসিভ হোন। তাহলেই কেবল সম্ভব একটি চিরস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা। নইলে সামাজিকতার চাপে সরাসরি বিচ্ছেদ হয়ত ঘটাতে পারবেন না, কিন্তু নেতিবাচক পজেসিভনেসের চাপে আপনাদের সম্পর্ক এক পর্যায়ে এতটাই তিক্ততায় ভরে উঠবে যে আর কখনোই আপনাদের মাঝে মনের মিল হবে না।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close