ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল এগারোটা বেজে নয় মিনিট। আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার রাজধানীতে সূর্যটা তখন মাথার ওপরে উঠেছে, রোদ চড়ছে, বাড়ছে তাপমাত্রা। সাল ১৯৯৬, নভেম্বরের তেইশ তারিখ। আদ্দিস আবাবার এয়ারপোর্ট থেকে নাক বরাবর সোজা আকাশে উঠে গেল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৬৭ বিমানটা, গন্তব্যস্থল আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিদজান। মাঝে কেনিয়ার নাইরোবিতে যাত্রাবিরতি। কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের কারণে খানিকটা দেরীতেই যাত্রা করেছে বিমানটা, যদিও তাতে আপত্তি নেই কারো।

ধীরে ধীরে ছোট হতে হতে দৃষ্টিসীমানা থেকে একসময় মিলিয়ে গেল সাদা রঙের আকাশযানটা। ভেতরে থাকা ১৭৫ জন যাত্রী, বিমানের ক্রু কিংবা পাইলটেরা কেউ তখনও জানেন না, মৃত্যুশীতল এক বিভীষিকার পথে যাত্রা শুরু হয়েছে তাদের!

বিমানের যাত্রীরা সবাই স্বাভাবিক। কেউ কাজ সেরে ঘরে ফিরছেন, কেউবা ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন কাজে, আবার কেউ স্রেফ ঘুরতে যাচ্ছেন। কেনিয়ার ওয়াইল্ড লাইফ সাফারী খুব বিখ্যাত, সেটা উপভোগ করতে দলবেঁধে যাচ্ছেন কয়েকজন। সবার মধ্যেই একটা হাসিখুশী আমেজ। বিমান ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠছে। তবে যাত্রীদের মধ্যে তিন জন একটু আলাদা, খানিকটা অন্যরকম। পাথরের মতো খোদাই করা ভাবলেশহীন মুখ, কিছু একটা নিইয়ে চিন্তাগ্রস্থ। আশেপাশের কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, এই তিনজনের জন্যেই মৃত্যুর ছায়া গ্রাস করবে পুরোটা বিমানকে।

টেক-অফের আধঘন্টা পরেই পাইলট কেবিনের দরজায় টোকা দেয়ার শব্দ শুনতে পেলেন কো-পাইলট ইয়োনেস মেকুরিয়া। কোন এয়ার হোস্টেস এসেছে ভেবে ‘কাম-ইন!’ বলে চেঁচিয়ে উঠলেন তিনি। কিন্ত যাদের দেখলেন, তাদের মোটেও আশা করেননি তিনি। দরজাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘকায় তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ, চোখেমুখে একটা খুনে অভিব্যাক্তি। কি চাই জিজ্ঞেস করতে যাবেন, তখনই মাঝেরজনের হাতে একটা ধারালো কূড়াল দেখতে পেলেন ইয়োনেস। ককপিটের আবছা আলোতেও ঝলসে উঠছে সেটা। গলা দিয়ে স্বর বেরুলো না তার।

প্লেন হাইজ্যাক, বিমান ছিনতাই, হাইজ্যাকার, ইথিওপিয়া, লিউল অ্যাবেট

চিফ পাইলট ক্যাপ্টেন লিউল অ্যাবেট ততক্ষণে পেছনে কারো উপস্থিতি আঁচ করতে পেরেছেন। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই তিন দানবকে চোখে পড়লো তার। ‘জেন্টেলম্যান, ককপিটে যাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ বলতে বলতে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। কিন্ত তাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না তিন যুবক। ধাক্কা দিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হলো, কুড়ালটা ততক্ষণে তিনিও দেখতে পেয়েছেন/ প্লেন হাইজ্যাক! মাথার মধ্যে এই একটা শব্দই তখন ঘুরছে।

তিন যুবক খুলে বললো তাদের পরিকল্পনা। একটা অপরাধ করে ইথিওপিয়াথেকে পালিয়ে যাচ্ছে ওরা, রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবে অস্ট্রেলিয়ায়। এখন যে করেই হোক, প্লেনটাকে অস্ট্রেলিয়ায় নিইয়ে যেতে হবে। শুনতে শুনতে মাথা গরম হয়ে উঠলো অ্যাবেটের। পাগল নাকি! বিমানে ফুয়েল যা আছে, তাতে বড়জোর আর তিন-চার ঘন্টা আকাশে ওরা যাবে। আবিদযান পর্যন্ত ফ্লাই করার মতো জ্বালানীই নেয়া হয়েছে শুধু। অস্ট্রেলিয়া দুনিয়ার আরেক প্রান্তে, সেখানে যেতে কম করে হলেও দশ ঘন্টা উড়তে হবে। এর অর্ধেক ফুয়েলও তো প্লেনে নেই!

অ্যাবেট সেটা জানালেন তিন হাইজ্যাকারকে। কিন্ত ওরা বিশ্বাস করলো না তার কথা। ওরা ভাবলো, প্লেনের পাইলট ওদের ধোঁকা দিচ্ছে। তিনজনে মিলে তখন ভয় দেখাতে শুরু করলো অ্যাবেট আর ইয়োনেসকে। হাইজ্যাকারেরা দাবী করলো, সংখ্যায় ওরা মোট এগারোজন, পুরো বিমানটাই ওদের কব্জায়। কো-পাইলটের সামনে থাকা মাইক্রোফোনে তাদের একজন ঘোষণা করে দিলো, বিমানে বোম রাখা আছে, যাত্রীরা কেউ যাতে কোন ধরনের ঝামেলা করার চেষ্টা না করে। জানের মায়া ওদের নেই, শুধু কার্যসিদ্ধি হলেই ওরা চলে যাবে, বাকীদেরও নিরাপদে যেতে দেয়া হবে।

অ্যাবেট এর আগেও বিমান হাইজ্যাকারদের খপ্পরে পড়েছেন দু’বার। দুইবারই হাইজ্যাকারদের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, মিথ্যে নয়ছয় বুঝিয়ে বোকা বানিয়েছিলেন তাদের। কিন্ত এবার আর সেটা হলো না। এই তিনজন তার মুখের একটা বর্ণও বিশ্বাস করতে রাজী নয়। ওদের একজন ফ্লাইং হুইলের পাশ থেকে এয়ারলাইন্সের একটা ম্যানুয়াল উল্টেপাল্টে খুঁজে বের করলো, এই বিমানে একতানা এগারো ঘন্টা আকাশে ওড়ার মতো জ্বালানী মজুদ করা যায়। অ্যাবেট রণে ক্ষান্ত দিলেন, এই গর্ধবদের কে বোঝাবে ‘করা যায়’ আর ‘করা হয়েছে’র মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়!

প্লেন হাইজ্যাক, বিমান ছিনতাই, হাইজ্যাকার, ইথিওপিয়া, লিউল অ্যাবেট

অস্ট্রেলিয়া যাওয়া তো সম্ভব নয়, আবার কোথাও অবতরণ করারও কোন উপায় নেই, বিমান তখন মেঘের রাজ্যে, মাটি থেকে প্রায় আট হাজার ফুটেরও বেশী ওপরে। অ্যাবেট বিমানটাকে অনেকটা নামিয়ে আনলেন, চক্কর দিতে লাগলেন আফ্রিকান উপকূলে, চেষ্টা করলেন তার এই চালাকী যাতে হাইজ্যাকারেরা ধরতে না পারে। মাথা কাজ করছিল না তার, ভেবেও কোন কূলকিনারা বের করতে প্রছিলেন না। যাত্রী আর ক্রু মিলিয়ে মোট একশো পঁচাত্তর জন মানুষের জীবনের ভার এখন তার কাঁধে, তাদের সবাইকে নিরাপদে রক্ষা করতে পারবেন তো তিনি?

তবে তার এই চালাকি খুব বেশীক্ষণ টিকলো না। ঘন্টা দুয়েক পরেই বিমানের বাইরে তাকিয়ে সন্দেহ হলো এক হাইজ্যাকারের। বিমানের নীচে সাগর দেখা যাচ্ছে, খানিক দূরে আবছাভাবে চোখে পড়ছে উপকূল। মাটির অস্তিত্ব তো থাকার কথা নয়! তাহলে কি পাইলট ধোঁকা দিচ্ছে ওদের! একজন পাহারায় রইলো, বাকী দুজনে মিলে চড়াও হলো দুই পাইলটের ওপরে। নির্দয়ভাবে পেটানো হলো তাদের। অ্যাবেট তখন মানসিকভাবে প্রস্ততি নিচ্ছিলেন চুপিসারে গ্রান্ডে কমোরো দ্বীপের প্রিন্স সাঈদ ইব্রাহীম এয়ারপোর্টে জরুরী অবতরণ করবেন বলে। কিন্ত সেই সুযোগ পেলেন না তিনি, ওদের পিটিয়ে একপাশে বসিয়ে রেখে হাইজ্যাকারদের মধ্যে দুজন এবার নিজেরাই বসে গেল পাইলটের আসনে! পাইলটের কেবিনের এক কোণে তখন দলা পাকিয়ে পড়ে আছে অ্যাবেট আর ইয়োনেসের দেহ, রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়।

খানিক পরেই ফুয়েল গেজে লাল বাতি জ্বলে উঠলো, দুই পাইলটই সেটা দেখতে পেলেন। হাইজ্যাকারদের জানানো হলো সেটা, কিন্ত ওরা পাত্তা দিলো না একদমই। মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা তখন। ফুয়েল শেষ হতেই প্রথমে একটা ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল, তার খানিক পরে আরেকটা। ঠিক সেই সময়ে ওদের অসতর্কতার সুযোগে আচমকা পেছন থেকে তিনজকে আক্রমণ করে বসলেন অ্যাবেট আর ইয়োনেস। একজনকে দেয়ালে লাগানো ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিলেন, বাকী দুজনও ভালো রকমের মার খেলো দুই পাইলটের হাতে। সময় নষ্ট না করে কন্ট্রোল প্যানেলে হাত চালালেন অ্যাবেট। যা করার, আগামী কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই করতে হবে।

প্লেন হাইজ্যাক, বিমান ছিনতাই, হাইজ্যাকার, ইথিওপিয়া, লিউল অ্যাবেট

বেয়াল্লিশ বছর বয়স্ক লিউল অ্যাবেটের অতীত রেকর্ড খুব ভালো। প্রায় বারো হাজার ঘন্টা আকাশে উড়েছেন তিনি, নিজের ব্যাচের অন্যতম মেধাবী পাইলট হিসেবে নামডাক রয়েছে তার। ইয়োনেস মেকুরিয়াও প্রায় সাত হাজার ঘন্টা ফ্লাই করেছেন ক্যারিয়ারে। অগ্ণিপরীক্ষার সামনে পড়ে গেছেন দুজনে হুট করে, কোনরকমের প্রস্ততি ছাড়াই। সময় সমাগত, নীচে সমুদ্র, দূরে উঁকি দিচ্ছে তীর। জায়গাটা আফ্রিকান উপকূল আর মাদাগাস্কারের মাঝে, নাম কমোরো আইল্যান্ড। অ্যাবেট কি পারবেন শেষমেশ যাত্রীদের নিয়ে নিরাপদে কোথাও অবতরণ করতে?

অভিজ্ঞ অ্যবেট জানতেন, ‘ডু অর ডাই’ অবস্থায় ঝুঁকি তাকে নিতেই হবে। ক্ষয়ক্ষতি হবে, সেটা তিনি ভালোভাবেই জানতেন, মৃত্যু এড়ানোর ক্ষমতা তার নেই, সেই সময়টাও তিনি পাচ্ছেন না। এখন আহত আর নিহতের সংখ্যা যতোটা সম্ভব কমানো যায়, সেই চেষ্টাটাই করলেন তিনি। ইন্টারকমে যাত্রীরা পাইলটের কণ্ঠস্বর শুনতে পেল- “আমরা এখন সাগরে জরুরী অবতরণ করতে যাচ্ছি, সবাই দয়া করে লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন!”

কিন্ত যাত্রীরা প্রস্তত হবার সময়টাই পায়নি, সময় ছিল না অ্যাবেটের হাতেও। অকেজো ইঞ্জিন নিইয়ে তো আর ওড়া যায় না। গতি কমে আসছিল বিমানের, তবুও তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, বিমানটাকে আর কয়েকটা সেকেন্ড ভাসিয়ে রাখার, চেষ্টা করেছিলেন, সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর বিমানটাকে নামানোর। খানিকটা সফলও হয়েছিলেন তিনি, ঢেউয়ের তোড় বেশী না থাকলে বোধহয় বিপদটাও কম হতো। শেষমেশ বিমানের শরীর স্পর্শ করলো নীল সমুদ্রের জল।

একপাশের ডানা ভেঙে গেল পানির তোড়ে বানের জলের মতো সমুদের ঢেউ ঢুকলো বিমানের ভেতরে, ডানার ভাঙা অংশটায় আগুন ধরে গেল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। বিমানের ভেতরে থাকাদের মধ্যে ১২৪ জন মারা গেলেন সঙ্গে সঙ্গেই। বিমানের ভাঙা টুকরাগুলো ভাসতে লাগলো তীর থেকে খানিক দূরে। আগেই বিপদসঙ্কেত পাঠানো হয়েছিল, দমকল কর্মীদের গাড়ি ছুটে আসতে দেরী হলো না। ততক্ষণে স্থানীয় লোকজন নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে গেছে।

প্লেন হাইজ্যাক, বিমান ছিনতাই, হাইজ্যাকার, ইথিওপিয়া, লিউল অ্যাবেট

এই দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছিলেন মাত্র পঞ্চাশ জন, এদের মধ্যে যাত্রী ছিলেন ৪৪ জন, বাকী ছয়জন ছিলেন ক্রু। নিহত যাত্রীদের মধ্যে চব্বিশজন ছিলেন ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার অধিবাসী। বিমানের দুই পাইলট অ্যাবেট আর ইয়োনেসও বেঁচে গিয়েছিলেন, মৃত্যু হয়েছিল তিন হাইজ্যাকারের প্রত্যেকের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন আরও এক যাত্রী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছিল ১২৫-এ। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার আগে এটাই ছিল বিমান হাইজ্যাকে সবচেয়ে বেশী হতাহতের ঘটনা। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া সবার দেহাবশেষই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময় দ্বীপে কোন মর্গ ছিল না, একারণে ১২৪টা মৃতদেহ রাখা হয়েছিল হিমাগারে।

যাত্রীদের মধ্যে অনেক হোমরাচোমরা ব্যক্তিদের নামও ছিল। ইথিওপিয়ায় কর্মরত সিআইএ এজেন্ট লেসলিন শেড ছিলেন সেই বিমানে, প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। মুম্বাইতে আমেরিকার কনসাল জেনারেল ফ্রাঙ্কলিন হাডল সস্ত্রীক সেই বিমানে চড়েছিলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তদন্তে পরে জানা গিয়েছিল, হাইজ্যাকারেরা যে বোমের কথা বলেছিল, সেই ব্যাগে পানির বোতল ছাড়া কিছুই ছিল না! যযে তিনজন বিমান ছিনতাই করেছিলেন, তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন বেকার, আরেকজন নার্সের কাজ করতেন একটা ক্লিনিকে।

দুই পাইলটই নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছিলেন যাত্রীদের সবার প্রাণ বাঁচানোর জন্যে, সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে। দুজনের বীরত্বেই রক্ষা পেয়েছিল পঞ্চাশটা প্রাণ, নইলে এই সামান্য সময়ের মধ্যে কিছু না করতে পারাটাই স্বাভাবিক। বিমান চলাচলের ইতিহাসে সাগরে স্বেচ্ছায় অবতরনের ঘটনা একদমই হাতেগোনা অল্প কয়েকটা, সেগুলোর মধ্যে একদম ওপরের দিকেই আছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের এই ঘটনাটা। অ্যাবেট আর ইয়োনেস এমন সাহসিকতা না দেখালে হয়তো একটা মানুষও বেঁচে ফিরতেন না সেদিন। দুজনের বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদেরকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেয়া হয়েছিল, অ্যাভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনও তাদের পুরস্কৃত করেছিল।

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে, গুডরিপোর্টস ডটকম, এয়ারলাইভ ডটকম। 

Comments
Spread the love