ইতালিতে জন্মগ্রহণের পর থেকে পিৎজার অসংখ্য রূপান্তর পরিলক্ষিত হয়েছে, যেগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এখন তো বিভিন্ন দেশের নিজস্বতা মিশে গেছে খাবারটিতে। আপনার রেস্টুরেন্টে বা বাসায় যদি পিৎজা তৈরি করতে চান, সেক্ষেত্রে পিৎজার রেসিপি জানার আগে জেনে নিন পিৎজার রকমফের।

নেয়াপোলিটান পিৎজা

নেয়াপোলিটান পিৎজার জন্ম ১৮শ শতাব্দীতে ইতালির নেপলসে। এটাকেই বলা হয় আদি ও আসল পিৎজা। এই সময়ে এই এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে এই খাবারের প্রচলন শুরু হয়। পাতলা রুটির(বা ক্রাস্ট) উপর টমেটো, পনির, তেল এবং রসুন দিয়ে এটি তৈরি করা হতো। তখন খুব স্বল্প মূল্যে রাস্তার পাশে এটি বিক্রি হতো। কালের বিবর্তনে সেই পিৎজাই এখন পৃথিবীর অন্যতম মুখরোচক খাবারে পরিণত হয়েছে!
বর্তমানে তিন ধরণের নেয়াপোলিটান পিৎজা পাওয়া যায়- মারিনারা, মারগারিটা, মারগারিটা এক্সট্রা। নেয়াপোলিটান পিৎজা খুব পাতলা হওয়ায় এর টপিং খুব বেশি দেয়া যায় না। সাধারণত ৮০০ থেকে ১০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ৭০-৯০ মিনিট সময় লাগে এটি তৈরি হতে।

শিকাগো পিৎজা

১৯০০ শতকে যখন ইতালিয়ান প্রবাসীরা শিকাগোতে অবস্থান করছিল, তখন এরা এই নতুন ধরণের পিৎজার প্রচলন করে। শহরের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়। এটি নেয়াপোলিটান পিৎজার মতো পাতলা নয়, বেশ পুরু এবং পাই এর মতো দেখতে। অন্যান্য পিৎজার মতো এর টপিংগুলো এর উপরে না দিয়ে এর ভেতরে পরতে পরতে দেয়া হয়। টপিং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, যেমন- বীফ, সসেজ, পেপারনি, পেয়াজ, মাশরুম, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি। একটি প্যানে তেল দিয়ে সেটা ৩০-৩৫ মিনিট বেক করতে হয়।

নিউইয়র্ক স্টাইল পিৎজা

আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত পিৎজা নিউ ইয়র্ক পিৎজা। নেয়াপোলিটান এবং নিউইয়র্ক পিৎজার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। এগুলোর ক্রাস্ট খুব পাতলা হয়। নেয়াপোলিটান পিৎজার সাথে এর তফাৎ হচ্ছে, এর টপিং অনেক ধরণের হতে পারে, যেমন- পেপারনি, সসেজ, মাশরুম ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি আপনার ইচ্ছামতো টপিং দিতে পারেন। সাধারণত কাঠ বা কয়লার চুলায় এটিকে বেক করা হয়।

সিসিলিয়ান পিৎজা

সিসিলিয়ান পিৎজাকে শিকাগো পিৎজার নিকট আত্মীয় বললে ভুল হবে না। এটি চৌকো আকৃতির এবং এর ক্রাস্ট মোটা হয়। এতে সাধারণত টমেটো সস, পেয়াজ, হার্ব ও শুঁকনো মাছ(বা এঞ্চভি) ব্যবহার করা হয়। এটি ওভেনে ৪২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ১৫-২০ মিনিট বেক করতে হয়।

গ্রীক পিৎজা

গ্রীক পিৎজায় গ্রীক কোন উপাদান দেয়া হয় না, গ্রীসেও এর জন্ম হয়নি। তবে গ্রীক প্রবাসীরা আমেরিকায় এই পিৎজার প্রচলন ঘটায়। শিকাগো বা নিউইয়র্ক স্টাইল পিৎজার মতো এর কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এর ক্রাস্ট মোটা এবং ফোলানো হয়। এর টপিং হিসেবে মোজারেলা ও চেডার চিজ ব্যবহার করা হয়, যার সাথে আপনার ইচ্ছেমতো টপিং যোগ করতে পারেন। ফেটা চিজ, কালো জলপাই, লাল পেঁয়াজ ইত্যাদি।

ক্যালিফোর্নিয়া পিৎজা

ক্যালিফোর্নিয়া পিৎজা এর লক্ষণীয় উপাদানের জন্য পরিচিত। ৭০ এর দশকে শেফ এড লাদও প্রথম এই পিৎজা উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২৫০ রকমের পিৎজা তৈরি করেন।

টমেটো পাই পিৎজা 

সিসিলিয়ান পিৎজার আদলে তৈরি ইতালিয়ান টমেটো পাই মোটা ক্রাস্টের চৌকো আকৃতির পিৎজা। এতে মিষ্টি স্বাদের ও শক্তিশালী ফ্লেভারের টমেটো সস ব্যবহার করা হয়। ক্রাস্টের সাথে সসের হাল্কা মিশ্রণের মাধ্যমে এই খাবারটি তৈরি করা হয়। এটাকে পিৎজা হিসেবে আপনি নাও মেনে নিতে পারেন। তৈরির জন্য প্রথমে ক্রাস্ট অংশটি ওভেনে বেক করে, তারপর সস মিশ্রিত করতে হবে, আর ৫৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ১৫ মিনিট বেক করতে হবে।
সাধারণত যেসকল টপিং ব্যবহার করা হয়- এঞ্চভি, বীফ, কালো জলপাই, চিকেন, বিভিন্ন ধরণের চিজ, মাশরুম, পেয়াজ, পেপারনি, মরিচ, সসেফ ইত্যাদি।

দারুণ সব পিৎজা নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা তো পেলেন। এবার যে ধরণের পিৎজা খেতে চান, তার রেসিপি ইউটিউব দেখে রান্না করে ফেলুন ঝটপট! 

তথ্যসূত্র- www.webstaurantstore.com

Comments
Spread the love