অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

আমাদের হবে কবে?

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার ট্রাফিক ব্যবস্থা দুনিয়ার মধ্যে সবথেকে খারাপ। তাই ধোঁয়া, ধুলা আর যানবাহনে পরিপূর্ণ শহরটির এই ভয়ঙ্কর অবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য ফিলিপাইনের সরকার এক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এই প্রকল্প অনুসারে, ম্যানিলা থেকে ৭৫ মাইল দূরে গড়ে তোলা হবে এক নতুন শহর। যে শহরে থাকবে চালকবিহীন গাড়ি, ড্রোন এবং সবুজ শ্যামলিমার আধিক্য, স্বল্পমূল্যের বাসস্থান এবং খেলার জন্য বিস্তীর্ণ প্রান্তর। শহরটির নাম হবে ‘নিউ ক্লার্ক সিটি’ বা ‘ক্লার্ক গ্রিন সিটি’। বলা হচ্ছে এই শহরটিই হবে পৃথিবীর প্রথম পরিকল্পিত স্মার্ট, সবুজ এবং টেকসই শহর।

পৃথিবীর আধুনিকতম শহরগুলোর মত, সব সুযোগ-সুবিধা’ই রাখা হবে ফিলিপাইনের এই ক্লার্ক নামক শহরটিতে। বিশ্বমানের বিমানবন্দর, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, আবাসন…সবই থাকবে। বোনাস হিসেবে থাকবে প্রকৃতির সান্নিধ্য।

নিউ ক্লার্ক শহরটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে দুটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে। ম্যানিলার উপর জনসংখ্যার চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ একটা শহর গড়ে তোলা।

নতুন এ শহরটিকে গড়ে তোলা হবে দুই মিলিয়ন লোকের আবাস রুপে। এই শহর গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার। শহরটিকে দূষণমুক্ত রাখতে এর দুই-তৃতীয়াংশে বনায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমণের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে শহরটি।

ফিলিপাইনের একটি সরকারী এজেন্সি, “বাসেস কনভারশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এনেন্সি”র (বিসিসিএ) তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের অর্থ সরবরাহ করা হবে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে।

নতুন এই শহরটি ম্যানিলার উপর জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ কমিয়ে সেখানে সুষ্ঠু অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারীরা মনে করছেন। আশা করা হচ্ছে নিউ ক্লার্ক শহরটি হবে, “সিটি অব দ্য ফিউচার” বা “ভবিষ্যতের শহর”।

শহরটিকে যে শুধু দূষণমুক্ত করে বানানো হবে তাই নয়, শহরটিকে যথাসম্ভব টেকসই করেও গড়ে তোলা হবে। শহরটি যাতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হবে। পর্যাপ্ত বনায়নের ব্যবস্থা থাকার কারণে, গাছপালা ই বন্যা এবং ঝড়-বাদল থেকে রক্ষা করবে শহরের দালান-কোঠা আর ঘর-বাড়ি এমনভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২৩,৩৫০ একর জায়গার উপর নির্মিত নিউ ক্লার্ক শহরটি গড়ে তুলতে ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লাগবে বলে স্থাপত্যবিদরা মনে করছেন। ম্যানিলার নিকটবর্তী এই নতুন শহর নিখুঁতভাবে তৈরি করতেই এই দীর্ঘ সময় প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। তবু, এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক এজেন্সি, যত দ্রুত সম্ভব শহরটি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আধুনিকতম প্রযুক্তির সমন্বয়ে, যতদূর সম্ভব সবুজের সমারোহে গড়ে তোলা হচ্ছে নিউ ক্লার্ক নামক শহরটি।

পৃথিবীর প্রধান শহরগুলোর মধ্যে ম্যানিলায়ই জনসংখ্যার ঘনত্ব সব থেকে বেশি। প্রতি বর্গ মাইলে এক লক্ষ সাত হাজার লোক বাস করে এই শহরটিতে। তাই এ শহরের জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে কাজ করবে নিউ ক্লার্ক শহরটি। ম্যানিলার শহর এলাকার ১৩ মিলিয়ন লোকের চাপ কমিয়ে এ শহর নতুন দিনের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রকল্পটি ফিলিপাইনের উন্নয়নে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবু দেখার মত ব্যাপার হলো, কতটা কার্যকরীভাবে আর দক্ষতার সাথে ফিলিপাইন এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারে।

আমাদের দেশেও এমন পরিকল্পিত শহর-নগর গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। আমাদের রাজধানী ঢাকার যে করুণ অবস্থা তা থেকে মুক্তি পেতে হলে, বিকল্প একটা ব্যবস্থা তো লাগবেই। জানি না কত দিনে আমাদের দেশেও এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পূর্বাচল থেকে শুরু করে কাগজেকলমে এরকম অনেক প্রকল্পের কথাই আমরা শুনি। সেগুলো আলোর মুখ দেখবে কবে, কে জানে! তবে আশা করি আমাদের দেশেও একদিন গড়ে উঠবে এমন আধুনিকতম শহর, যে শহর ঢাকার উপর মানুষ আর যানবাহনের চাপ কমাবে। প্রাণের শহর ঢাকাকে আবারও বাসযোগ্য করতে সহায়তা করবে।

Comments

Tags

Related Articles