একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি: ‘রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড কই?’

আমি খুব সৌভাগ্যবান, আমি সাঁওতালদের সাথে কয়েকদিন কাটিয়েছি।

ইরানী একটা মুভি দেখেছিলাম, এক যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রনায়ক বোমা ফেলে একটা জনপদ ধ্বংস করে দেয়। এরপর আবার সেই যুদ্ধবাজ বিমানে করে খাবার, কৃত্তিম হাত পা ছুঁড়ে দেয়। যুদ্ধে হাত-পা হারানো মানুষেরা সেই কৃত্তিম হাত-পা এর জন্য, অভুক্ত মানুষেরা খাবারের জন্য দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। মানুষের কি প্রতিযোগিতা, যে তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে তার থেকে সামান্য অনুদান নেয়ার জন্য।

আমাদের সাঁওতালরা দেখিয়েছে- যে রাষ্ট্র তাদের ঘর পুড়িয়েছে সেই রাষ্ট্রের সাহায্য তারা নেবে না; যে ম্যাজিস্ট্রেট গুলি করতে নির্দেশ দিয়েছে সেই ম্যাজিস্ট্রেটের থেকে ত্রাণ নেবে না; যে মন্ত্রী গুন্ডা লেলিয়ে দিয়েছে সেই মন্ত্রীর থেকে অনুদান নেবে না।
ভাবুনতো, টানা ১০ দিন প্রচন্ড শীতে গৃহহীন; তারপরও প্রতিটি পরিবার ২ টি করে কম্বল ফিরিয়ে দিয়েছে। অনেকদিন অভুক্ত তারপরও প্রতিটি পরিবার চাল, তেল, ডাল, আলু, লবণ সবই ফিরিয়ে দিয়েছে।

সাঁওতালদের দাবি, ‘আমরা সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো ত্রাণসহায়তা নেব না।’

দেশে সাঁওতাল আছে একলক্ষেরও কম। সবচে প্রান্তিক জনগৌষ্ঠি। গোবিন্দগঞ্জে তাদের সারি বাঁধা প্রায় আড়াই হাজার ঘরের একটিও অবশিষ্ট নেই, আমাদের রাষ্ট্র পুড়ে দিয়েছে। সাঁওতালরা না খেয়ে আছে। কাপড় নেই, ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচে এই কয়েকদিন। তবু তাঁরা মেরুদন্ড দেখিয়েছে, কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র বহু আগেই মেরুদন্ড হারিয়েছে ধর্মানুভূতির কাছে, ক্ষমতাসীনদের কাছে, লুটেরাদের কাছে। মাত্র কয়েক বর্গএকরে বাস করা এই সাঁওতালদের থেকে শেখার আছে একলক্ষ ছাপ্পান্নহাজার বর্গমাইলের এই রাষ্ট্রের। ১ লক্ষেরও কম সাঁওতালদের কাছে শেখার আছে ১৬ কোটি বাঙালীর।

(ছবি কৃতজ্ঞতা- সবাক পাখি )

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-