মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি অভিমান করেছেন। অভিমান শব্দটার সাথে আমার অনেক সখ্যতা। প্রিয় পরিচালক হৃষীকেশ মুখার্জির পরিচালিত আমার প্রিয় একটা সিনেমার নাম অভিমান। ১৯৭৩ সালের এই সিনেমাতে অমিতাভ আর জয়ার সে কি অভিনয়! ডুব সিনেমাতে চিরকুটের গাওয়া “অভিমান জমে জমে আমি ব্যথাহীন” লাইনটা আমার অনেক পছন্দের। আর ইদানিং মাথায় ঘুরছে আপকামিং কলকাতার সিনেমা দৃষ্টিকোণের লক্ষ্মীটি গানের “অভিমান আমারও তো হয়” এই লাইনটি। খালি আমার না, অভিমান সবারই কমবেশি হয়। দুইদিন আগে সাংবাদিকেরা অভিমান করলেন, কাল প্রধানমন্ত্রী। অভিমান আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মনে হয়! প্রিয় ভার্সিটি শিক্ষক মাশরুর স্যার ক্লাসে বলতেন- অভিমান সম্ভবত এমন একটা দুর্লভ শব্দ যার একই অর্থ প্রকাশকারী ইংরেজি শব্দ আপনি পাবেন না।

ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাচ্ছি। জাস্ট কয়েকটা পয়েন্ট নিয়ে বলব।

ভিসির বাড়িতে কেন হামলা হল, এটা নিয়ে তিনি অনেক চিন্তিত। স্বাভাবিক। অবশ্যই বাজে কাজ হইসে এটা, কেউ অস্বীকার করবেন না। কিন্তু এই যে এতগুলা ছাত্রদের পেটানো হল, টিয়ারশেল মারা হল, আমার ভার্সিটির এক ছোট ভাই যার নাম আরেফিন- তার চোখে রবারবুলেট লাগার কারণে সে সারাজীবনের জন্য সেই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে- তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটা বাক্যও বললেন না। আর তাদের দেখতে আসা তো বাদই দিলাম। 

কোটা বৈষম্য, কোটাবিরোধী আন্দোলন

মেয়েরা কেন এটা রাতে রাস্তায় নামলো- অনেক চিন্তার ব্যাপার। দিনের পর দিন সাধারণ ছাত্রীদের অত্যাচার করে যাবে, দরজা আটকে তাদের মেরে যাবে, তাদের পায়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করবে- আর তারা বের হবে না?

প্রধানমন্ত্রী বললেন- শিক্ষা নিয়ে সরকার আন্তরিক ছিল। শিক্ষায় আমাদের বরাদ্দ আয় ২% এর মতো। সারাজীবন যে দেশকে উঠতে বসতে গালি দেই, সেই পাকিস্তানেও শিক্ষার জন্য এর চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়। প্রশ্নফাঁসে রেকর্ড, সরকারী স্কুলে চলন্ত সিঁড়ির জন্য ১১০০ কোটি টাকা- এগুলা বাদ দিলাম। “আজকে পর্যন্ত সেশন জট ছিলো না” – এটাও শুনলাম। অথচ আমার মনে পড়ে, সিদ্দিকুর নামের একটা ছেলের কথা যার পরীক্ষার ডেট দিনের পর দিন জানানো হয় নাই দেখে সে আন্দোলন করেছিল আর সেখানে তার উপরে এমনই নির্যাতন করা হয় যে সে তার চোখ হারিয়ে ফেলে! 

ছাত্রদের আন্দোলনের জন্য মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, রাস্তায় এ্যাম্বুলেন্সে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছে- এটাও আজকে জানলাম প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা নতুন জিনিস না আমাদের জন্য। আপনি বা আপনার কোন মন্ত্রি বা বিদেশের কোন ডেলিগেট যখন এইদেশে আসেন, সেদিনও আমাদের সাথে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখনও এ্যাম্বুলেন্সে রোগী কষ্ট পেতে পেতে মারাই যায়। মরে যাওয়াই আমাদের নিয়তি এটা আমরা মেনে নিয়েছি।

লাস্ট বাট নট লিস্ট, বারবার “আমি এনেছি, আমিই করেছি” শুনতে কেন জানি ভালো লাগে না!

আপনার মঙ্গল কামনা করি। আশা করি কোটা সংস্কার করবেন।

Comments
Spread the love