আপনি-ই সাংবাদিক

আমাদের সহজলভ্য পুষ্টির নিশ্চয়তা কে দেবে?

১৯৪৫ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর আজকের হুন্দাই কোম্পানির মালিক একদিন সমুদ্রতটে একাকী বিশাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, জাহাজ বানাবেন। সমুদ্র চড়ে বেড়ানো জাহাজ। আজ কোরিয়ান হুন্দাই পৃথিবীর বৃহত্তম শিপ বিল্ডিং কারখানা।

২০১৭ সালে আমার দাঁড়িয়ে ইচ্ছা পোষণ করি কি করে লুটেপুটে খাব।

১৯৬২ সালে কোরিয়ার সামরিক প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং হী ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, একজন ভিক্ষুক দিনে ভিক্ষা করলেও রাতে তাকে গাছ লাগাতে হবে। এখনও তাদের গাছ কাটার কোনো রেকর্ড নেই। সেখানে কি পরিমাণ বনায়ন তা চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না।
২০১৭ সালে আমাদের বাপ দাদারা যে কয়টি গাছ লাগিয়ে গিয়েছিল, তা কি উপায়ে ফেলে দেয়া যাবে, তার প্রজেক্ট খাড়া করি।

প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং হী (দঃ কোরিয়ার উন্নয়নের জনক) ক্ষমতায় বসেই দুইটি বিষয় নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, একটি শিক্ষা, অপরটি যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি মনে করতেন, জাতিকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে, উন্নয়নের সোপান তারা নিজেরাই তৈরি করে নেবে। তিনি রাস্তা খুলে দিলেন সবার জন্য। আমেরিকা যাও, উচ্চ শিক্ষা নাও আর দেশে ফিরে এসে তা কাজে লাগাও। সে দেশের জনগণ কথা রেখেছিল। ফিরে এসেছিল তারা।

২০১৭ সালে আমাদের এখানে বাচ্চা বসে থাকে ফাঁস করা প্রশ্নের অপেক্ষায়। মা তা জোগাড় করে সন্তানের হাতে তুলে দেয়।

আমাদের এখানে কোনো বেকুব ফিরে এলে কাঁদতে কাঁদতে আবার ফিরে চলে যায়।

আপনি বার্মায় যান। মালয়েশিয়া কিংবা চীন কোরিয়া জাপান। অথবা শ্রীলংকা বা নেপাল ভুটান ভারত। ইউএই, সৌদি আরব, কুয়েত কাতার। ইউরোপ আমেরিকা কিংবা ঘানা সিয়েরালিওন বা দক্ষিণমেরু কিংবা উত্তরমেরু। পৃথিবীর সবখানেই ফলমূল পাবেন খুব সস্তা। কেন সস্তা? সবাই কি প্রচুর উৎপাদন করে?

না, তা নয়। অনেকেই আমদানিও করে। কিন্তু সব দেশের সরকার তা সস্তা রাখে জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধানের জন্য। প্রয়োজনে তারা ভর্তুকি দেয়। একটি রোগাক্রান্ত আর অপুষ্ট জাতিকে নিতে উন্নয়নের মহীসোপানে উঠবেন কিভাবে?

কোরিয়ায় এক সিজনে ফল হয়, অন্য সিজনে হয় না। সে সিজনে হয় না, সে সিজনে সেই সব ফল হয় পেরুতে। পেরুতে আবার যে সিজনে ফল হয় না, তখন তা হয় কোরিয়ায়। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ বিনাশুল্কে ফল আমদানি ও রফতানি করে।

আমলকী, গাব, চালতা, বড়ই কদবেল আর আমড়া যদি সব হত, তাহলে সব দেশ তা এখান থেকে আমদানি করা শুরু করত। বড় বড় মিয়াঁদের টেবিলে আঙ্গুর, আপেল, নাশপাতি, মাল্টার পরিবর্তে আমলকী, গাব, চালতা দেখা যেত।

বড় বড় মিয়াঁদের জিজ্ঞাস করি, ক্র্যানবেরি ফলের রস বা জুস শরীরে কি উপকারে লাগে তা কি জানেন? পাকস্থলি এবং ডিওডেনাম আলসার থেকে শুরু করে ক্রনিক ইউরিন ইনফেকশনের কি পরিমাণ উপকার হয় তা শুনেছেন কখনো? পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ফল বা জুস খেতে হবে না, বড় ঔষধের দোকান থেকে ক্র্যানবেরি সফট জেল ক্যাপসুল কিনে খেয়ে দেখুন।

একজন অসুস্থ এবং বৃদ্ধ মানুষ পুষ্টির জন্য আমলকী, গাব, চালতা, বড়ই কদবেল আর আমড়া খাবে? হাসপাতালে আমলকী, গাব, চালতা, বড়ই কদবেল আর আমড়া নিয়ে যাবেন?

আম যেটুকু উৎপাদন হত, সেটাও এখন রফতানি শুরু হয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের চাহিদা কি যথাযথভাবে পূরণ হয়েছে? অতিরিক্ত পরিমাণ কি রফতানি হচ্ছে?

পুষ্টি নিরাপত্তায় মানুষ খাবে কি? যা খাচ্ছি তা তো দলা দলা বিষ।

এবারও আমদানিকৃত ফলমূলের উপর ডিউটি বাড়িয়ে দেয়া হলো!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close