প্রাপ্তি কেবল ‘ব্যাটসম্যান’ নুরুল হাসান সোহান

প্রায় আড়াই বছর পরে একটা সত্যিকার দুঃস্বপ্নের মতো সিরিজ গেল বাংলাদেশের। ‘হতাশার মাঝেও প্রাপ্তি’ খুঁজতে গেলেও প্রাপ্তি মিলছে খুবই নগণ্য। এই সিরিজে প্রাপ্তি বললে একমাত্র বলা যায় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান!

মুশফিকের পর দেশসেরা কিপার, এটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে ছিল। দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে নেমে বেশকিছু রান করতে পারেন, সেই ক্ষমতার কথাও জানা ছিল। সেই বরাতেই মুশফিকের হাতের ইনজুরির কারণে এই বছরের শুরুর দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে শুধুমাত্র “স্পেশালিস্ট কীপার” হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর এশিয়া কাপ পর্যন্ত ৬টি টি২০তে খেলেছেন। কীপিং গ্লাভস হাতে তরতাজা সুবাতাস বইয়ে দিয়েছেন, অনেকের মতেই বাংলাদেশের কিপিং ইতিহাসে একটা নতুন ডাইমেনশনই যোগ করেছেন নুরুল! উইকেটের পেছনে মুশফিকও নাকি এতো ইন্টারেকটিভ কখনো ছিলেন না। তাঁর রিফ্লেক্স, আথলেটিসিজম দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে ম্যাচের পর ম্যাচ।

মুশফিক ফিরে আসার পর দল থেকে অবধারিতভাবে বাদ পড়েন। কিন্তু নির্বাচকদের ভাবনায় নুরুলের এই কিপিং এক্সফ্যাক্টরটি খুব ভালভাবেই ঢুকে পড়েছিল। নিউজিল্যান্ড সফরের ২২ সদস্যের দলেও মুশফিকের বিকল্প কিপার হিসেবে ছিলেন। প্রথম ম্যাচে মুশফিকের অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারনে পরবর্তী দুই ওয়ানডে ও তিন টি-২০ এর জন্য মোটামুটিভাবে অবধারিতও হয়ে যান!

কিন্তু দর্শকেরা তাও সন্দিহান ছিলেন। কারণ আগের ম্যাচ যতগুলিতে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেসবে তিনি শুধুই উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলেছিলেন! মুশফিক কিপিংগ্লাভস হস্তান্তর করলেও স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। তাই ব্যাট হাতে তেমন কিছু করার তাড়না বা চাপ ছিল না নুরুলের উপর। কিন্তু এবার মুশফিক একেবারে মাঠেই নামতে পারবেন না দুই সপ্তাহ! তাই কিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলকে কিছু দেবার বাড়তি একটা প্রত্যাশা নুরুলের কাছে ছিল।

এবং এই দফায় সুযোগ পেয়ে নুরুল দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ব্যাট হাতেও তিনি সমান পারফর্ম করতে জানেন! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টেইলএন্ডারদের সাথে নিয়ে ৩১ বলে ২৪ টা যদি মনে রাখতে নাও চান কেউ, ৩য় ওয়ানডেতে ১৬৮ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরে ৩৯ বলে করা নুরুলের ৪৪ রান অবশ্যই মনে রাখার মতো একটা ইনিংস! মাঠের চারদিকে বেশ সাবলীনভাবেই ব্যাট চালিয়েছেন। পুল করে মারা একমাত্র ছক্কাটা টাইমিং আর হ্যান্ড আই কো অরডিনেশনের চমৎকার মিশেল.

আর গ্লাভস হাতে তো সেই পুরনো রিফ্লেক্স বিদ্যমান আছেই! ২য় ওয়ানডেতে দুইটি ক্যাচ একটি স্টাম্পিং ছাড়াও দুই ম্যাচ জুড়েই অসাধারন সব ডাইভ, লেগসাইডে ওয়াইড হয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলও চিতাবাঘের লাফ দিয়ে ধরে ফেলা, এছাড়াও উইকেটের পেছন থেকে তাঁর ক্রমাগত বাক্যব্যায়, সজোর আপিল দলকে মোটিভেট করেছে তো অবশ্যই, দর্শকমনকেও করেছে তুষ্ট।  

“কিপিংটা মেইন, ব্যাটিংটা বোনাস”- জাতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের যুগ শেষ হয়ে গেছে মার্ক বাউচারের অবসরের সাথে। এখন ধোনি, সাঙ্গাকারা, ডি ভিলিয়ার্স, ডি কক, জস বাটলার বা মুশফিকুর রহিমদের যুগ যারা শুধু কীপার নন, বলতে গেলে দলের মূল ব্যাটসম্যানই হয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান-কিপাররা আবার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় তুলে রাখেন কিপিং গ্লাভস (যেমন সাঙ্গা, ডিভিলিয়ারস)। বাংলাদেশ জাতীয় দলেও হয়তো একদিন মুশফিক তাঁর কিপিং-গ্লাভস তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন। এভাবে পারফর্ম করতে থাকলে নুরুল যে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে চলেছেন, তাই নিয়ে সন্দেহ কমই আছে বৈকি!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-