ইনসাইড বাংলাদেশরক্তাক্ত একাত্তর

যে ছবিগুলো প্রমাণ করে দিয়েছিল যে নিজামী আলবদর কমান্ডার ছিল!

গত ১১ই মে ছিল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নরপিশাচ আলবদর কমান্ডার জামায়াতের নায়েবে আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসীতে ঝোলানোর দ্বিতীয় বর্ষপুর্তি! ৪৭ বছর আগে ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্রোতের বিনিময়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম আমরা, অনেক দেরী হলেও শেষপর্যন্ত একে একে সেই শহীদদের রক্তের দায় মেটাচ্ছি আমরা রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীতে ঝুলিয়ে! বিচার হচ্ছে শেষ পর্যন্ত, ২০১৬ সালের ১০ই মে দিবাগত রাত অর্থাৎ ১১ই মে প্রথম প্রহরে ১২ টা ১০ মিনিটে নির্লজ্জ যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে তার প্রাপ্য সাজা বুঝিয়ে দিয়ে সেটা প্রমাণ করেছিল বাংলাদেশ। এই নিজামী নাকি যুদ্ধাপরাধী না, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, সে নাকি একাত্তরে নিতান্তই নিরীহ তেল জবজবে পরিপাটি চুল আঁচড়ানো তরুণ ছিল, কারো গায়ে একটা ফুলের টোকাও দেয়নি। আজো ঠিক এই ধরণের মিথ্যাচার করে ছাত্রশিবির ও জামায়াতের বেইমানেরা… অথচ নিজামী মুক্তিযুদ্ধের আগেই ছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংঘের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা, যার প্রমাণ এখনো আছে তাদের ওয়েবসাইটে। নিজামীর ফাঁসীতে ঝোলার দুই বছর পুর্তিতে চলুন এক নজরে দেখে আসা যাক সেই অনন্য প্রমাণগুলোঃ

//১//

চার দশক আগে তিনি ছিলেন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপাতি, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর এই সহযোগী সংগঠনটি এখনও স্মরণ করে মতিউর রহমান নিজামীকে। আর তার ফাঁসির প্রতিবাদে রীতিমত মাতম চলছে পাকিস্তানে।

মওদুদী প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান ভিত্তিক এই ছাত্র সংগঠনটির ওয়েবসাইটে সাবেক ‘নাজিমে আলা’ অর্থাৎ সভাপতিদের তালিকায় এখনও রয়েছে তার নাম।

বাংলাদেশে ছাত্রসংঘ নামে পরিচিত একাত্তরে আলবদর বাহিনী গঠনকারী এই সংগঠনের মূল নাম জমিয়তে তালাবা। পাকিস্তানে এখনও ওই নামে চলে তাদের কার্যক্রম।

জমিয়তে তালাবার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে বার্ষিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো নিজামীকে নাজিমে আলা নির্বাচিত করা হয়। লাহোরে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ২৩৪০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃতুদণ্ড কার্যকর হওয়া এই বদর প্রধান মাদ্রাসায় স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৬১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৭১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে নিজামী দ্বিতীয় মেয়াদে জমিয়তে তালাবার সভাপতি নির্বাচিত হন বলে সংগঠনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে মূলত জমিয়তে তালাবা বা ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় আল বদর বাহিনী…

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জামায়াতের রাজধানী নিষিদ্ধ হলেও জাতির জনকের হত্যার পর জিয়ার আমলে সেই ছাত্রসংঘ ইসলামী ছাত্রশিবির নামে ফিরে আসে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে পাবনার বাউশগাড়ি, ডেমরা ও রূপসী গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ; পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৫২ জনকে হত্যা এবং পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মূল পরিকল্পনা এবং সক্রিয় বাস্তবায়নের অপরাধে বুধবার প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

//২//
বাংলাদেশের জামায়াত আমিরের একমাত্র অপরাধ ছিল, তিনি ‘পাকিস্তানের সংবিধান ও আইন সমুন্নত’ রাখতে চেয়েছিলেন।”

–নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

//৩//
একাত্তরে আমাদের ভূমিকা ‘ভুল ছিল না’।

— জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান

//৪//
শেখ মুজিবের মেয়ে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কে কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছেন।

— পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী

//৫// “পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাকে (নিজামী) ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।”

— সিরাজ-উল হক,পাকিস্তানী জামায়েতের আমির

//৬//
এ ধরনের পদ্ধতিতে অতীতের ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়, বরং তা আমাদের বাংলাদেশি ভাইদের মধ্যে ঘৃণা ও শত্রুতা আরও বাড়িয়ে দেবে।”

— তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়

মোরাল অফ দ্যা স্টোরিঃ এই নিজামী সেই নিজামী নন। ইনি একজন নিরীহ নিষ্পাপ বৃদ্ধ, ইসলামের বাগানের প্রস্ফুটিত গ্লাডিওলাস। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে এই জালেম নাস্তেক সরকার তাকে নির্মমভাবে ঝুলায়ে দিল। এরও প্রতিশোধ নেওয়া হবে। হার মারখোর ছাগল কা দিন আতা হ্যায়… ফাঁসির মঞ্চ ঠিকই থাকবে, অ্যাম্বুলেন্সও রেডি থাকবে বাইরে, সবকিছু থাকবে আগের মতই, শুধু মানুষগুলোই পাল্টে যাবে এনশাল্লাহ…

ম্যা ম্যা ম্যা ভ্যাএএএএএ…

পরিশিষ্টঃ দুটো ছবিই জমিয়তে তালাবার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। একটা নিজামীর তরুন বয়স, আরেকটা যৌবন বয়সের… যে কেউ গুগলে সার্চ দিয়ে ওদের ওয়েবসাইটে গেলেই পাবেন ছবি দুটো!

চলুন এবার আপনাদের দেখিয়ে আনি আরেকটি অসাধারণ ছবি। নিজামীর ফাঁসীর পর তাকে পাকিস্তানের বীর সৈনিক উল্লেখ করে একাত্তরে নিজামীর নেতৃত্বে আলবদর কর্মীদের চালানো অত্যাচার-নির্যাতন আর গণহত্যার জন্য গর্বিত বলে জানিয়েছে, নিজামীর জন্য  প্রতিবাদ আর মিছিল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মানববন্ধনে পাকিস্তানী তরুণেরা নিজেদের নিজামী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।

এই ছবিখান দেখার পর এক ভাই মন্তব্য করছে,

“আমরা তো এই কথাই যুগের পর যুগ চিল্লায় চিল্লায় কইতাসি যে, নিজামী তগোর লোক, তরাই নিজামী। না করছি কোনদিন?”

সরাসরি পাকিস্তান থেকে সার্টিফাই করার পরেও আজো) কাদের কাদের মনে হয় যে এই নিজামী সেই নিজামী না? কাদের মনে হয় মতিউর রহমান নিজামীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসীতে ঝোলানো হয়েছে?

 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close