মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

নিলয় নীল ও একরাশ বিষণ্ণতা

নিলয় নীল ইস্টিশনে লিখতেন। আমিও ওখানেই লিখতাম। আমার অনেক পোস্টে গেলে তার কমেন্ট দেখা যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেগুলো মোটেও আমার স্বপক্ষের কথা নয়। কিছুটা খুঁচিয়ে, কিছুটা মজা করে লেখা। বেশিরভাগ সময় ঝগড়াই চলতো।

তার সাথে আমার কখনো সামনাসামনি কথা হয়নি, দেখা হয়েছিল কয়েকবার, মিছিলে, রাজপথে। অত্যন্ত সুদর্শন এই যুবক বিভিন্ন ইস্যুতেই পথে নামতেন। ফেসবুকের ‘অন দিস ডে’-তে এমন অনেক পোস্ট পাই, যেগুলোতে তার কমেন্ট, আলাপ আলোচনা দেখি। আমি এখনো আছি, এই মানুষটা নেই- ভাবতেই একরাশ বিষণ্ণতা ঘিরে ধরে। 

নীলয় নীল, ব্লগার হত্যা, জঙ্গী

আমরা অনেকে ধর্ম নিয়ে নানা কিছু লিখতাম। অনভিজ্ঞতা আর অল্প বয়সের কারণে সব সময় যে সেগুলো কন্সট্রাক্টিভ কিছু হত তা নয়, অবশ্য কন্সট্রাক্টিভ লেখাও বা এদেশে কে বোঝে? তবে জানেন, নিলয় কিন্তু ইসলাম ধর্ম নিয়ে খুব বেশি ঘাটাতো না, হিন্দু ধর্ম নিয়েও না। সে বেশি লিখতো বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে, যে ধর্মটার প্রতি বরং নাস্তিকদের কিছুটা সফটকর্নার আছে। বৌদ্ধধর্মে নারীদের অবস্থান নিয়ে তার একটা সিরিজ ছিল।

নীলয় নীল, ব্লগার হত্যা, জঙ্গী

এই লোকটাকে তার ঘরে ঢুকে জবাই করে হত্যা করা হয় আজ থেকে তিন বছর আগে। কোরবানির সময় যেভাবে পশু জবাই করে, ঠিক সেভাবে জবাই করা হয়। শুধু তাই না, যে হাত দিয়ে সে লিখতো সেই হাতটা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়।

কী অমানুষিক ক্ষোভ ছিল ওদের এই হাত আর মাথার উপর। কিছুই হয়নি তারপর। কিছু হবেও না জানি। এখন ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা নিয়ে উত্তেজিত অনেককে তখন খুশি হতে দেখেছি। তারা তাদের আনন্দটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি।

নীলয় নীল, ব্লগার হত্যা, জঙ্গী

বাঙালি জাতিগত ভাবে চুতিয়া শ্রেণীর। এভাবেই চলে আসছে, এভাবেই চলবে। নিজে মার না খাওয়া পর্যন্ত সে অন্যের জন্য চিন্তা করেনা কখনোই। ফলে ক্রমাগত ভাবে একেক শাসকের হাতে মার খাওয়াই তার নিয়তি। চলমান ইস্যুও বেশিদিন চলবে বলে মনে হচ্ছেনা, ইতিমধ্যে সাকিব ইস্যু চলে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুলো ছেলে এখনো থানায় আটকে আছে। তাদের কপালে কী আছে জানি না। আমাদের কারো কপালেই ভালো কিছু নেই। খারাপ জাতির কপালে ভালো জিনিস থাকা কীভাবে সম্ভব?

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close