হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন সৌম্য, ফাইন লেগের ওপর দিয়ে দারুণ একটা ছক্কার মারে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্ত শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়ে চৌদ্দ রানেই শেষ হলো তার ইনিংসটা, একদম সুপরিকল্পিত একটা উইকেট যাকে বলে। ফাঁদে ফেলে তাকে আউট করলো ভারতীয় দল। বাকীদের উইকেটের জন্যে অবশ্য এতটা কষ্ট করতে হয়নি উনাদকাট-চাহাল-শঙ্করদের, বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানেরাই বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন উইকেট। বেশ কয়েকটা ক্যাচ মিস করেও ভারতীয় দল অনায়াসে জিতে নিলো ম্যাচটা। নিদহাস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল হেরেছে ছয় উইকেটে।

ওয়ানডে স্টাইলে টি-২০ খেললে জেতার আশাটা দুরাশাতেই পরিণত হয় সবসময়। স্কোরবোর্ডে ১৩৯ রান জড়ো করে জয়ের আশা করাটাও বোধহয় বাড়াবাড়ি। বাংলাদেশের ব্যাটিং শেষ হবার পরে সেড়া কেউ করেছিলেন কিনা কে জানে! একটার পর একটা ক্যাচ উঠলো আকাশে, কোনটা মিস হয়েছে, কোনটা পড়েছে নো-ম্যানস ল্যান্ডে। তবুও সেগুলোর ফায়দা তুলে নিতে পারেননি ব্যাটসম্যানেরা। অকাতরে দান করে এসেছেন উইকেট, খেলেছেন অদ্ভুতুড়ে সব শট। টি-২০ তে রান তোলার তাড়াটা থাকে সবচেয়ে বেশী, আর আমাদের ব্যাটসম্যানেরা দেখালেন ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়া!

একশো বিশ বলের খেলা, সেখানে ৫৭টা বল ডট দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। লিটন আর সাব্বির ছাড়া বলার মতো সংগ্রহ নেই কারোরই। সেই ইনিংস দুটোও টি-২০ সুলভ নয় মোটেও, বাকীদেরগুলো তথৈবচ। তামিম বা সৌম্য ছন্দ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না, বাজে শট খেলে আউট হলেন একে একে। মুশফিকের ব্যাটে ঝড়ের আভাস ছিল, কিন্ত ঝড়টা ওঠেনি শেষমেশ। অধিনায়ক রিয়াদ আট বল খরচায় স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারলেন একটা মাত্র রান! ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মার খেয়েছেন জয়দেব উনাদকাট, সর্বোচ্চ উইকেটও তার দখলেই। বাকী চারজন দারুণ মিতব্যায়ী, ছয়ের ঘরে রানরেট ওঠেনি কারোই।

১৪০ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ম্যাচটা কখন শেষ হবে, এটারই অপেক্ষা ছিল বোধহয়। ভারত বোধহয় বেশ খানিকটা দেরী করেই জিতেছে ম্যাচ। শেখর ধাওয়ানের ইনিংসেই মরে গেছে শতাংশের ব্যবধানে বেঁচে থাকা আশাটুকুও। ধাওয়ান পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরী, রায়না আর মনীশ পাণ্ডের দুটো ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে তরী ভিড়িয়েছে নীল জার্সিধারীরা। বাংলাদেশের হয়ে হাত ঘুরিয়েছেন সাতজন বোলার, দুটো উইকেট গেছে রুবেলের ঝুলিতে, মুস্তাফিজ আর তাসকিনের সংগ্রহ একটা করে।

টি-২০’র ধরণটা ব্যাটসম্যানেরা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না বলেই মনে হয়। রান তোলার তাড়াটা সেভাবে দেখা যায় না কারো মধ্যে। একশো চল্লিশ তো ম্যাচ উইনিং স্কোর নয়। কলম্বোতে বাংলাদেশ দল যেটা করেছে, সেটাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংই বলা চলে। কমপক্ষে পাঁচটা ক্যাচ পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিঙের সময়, কিন্ত সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর প্রবণতা দেখা যায়নি কারো মধ্যেই। উল্টো বারবার আকাশেই বল তুলে মেরেছেন ব্যাটসম্যানেরা। এতগুলো ক্যাচ মিসের পরেও তাই বাংলাদেশের আউট হওয়া আট ব্যাটসম্যানের সাতজনই ক্যাচে আউট হয়েছেন!

দেশ ছাড়ার সময় এক সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছিলেন, এই টুর্নামেন্টে তারাই শিরোপার বড় দাবীদার। নিদহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচটা অন্তত মিরাজের দাবীকে ভুল প্রমাণীত করলো। এভাবে তো আসলে টি-২০ জেতা যায় না। টি-২০ তে ব্যাটিংটা এভাবে করতে হয় না।

Comments
Spread the love