ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

কেন আমাদেরই ভর্তুকি দিতে হবে?

গতকাল রাতে অনেকদিন পর খেলা ছাড়া টিভির অনুষ্ঠান দেখতে বসলাম। একটা টক শো। নবনীতা চৌধুরীর সাথে বিটিআরসি এবং অন্যান্য মোবাইল ফোন কোম্পানির হর্তাকর্তারা এসেছেন ৪৫ পয়সা কলরেট নিয়ে আলোচনা করতে। আমার বেশ কৌতূহল হলো কলরেট বাড়ানোর পক্ষে তারা কী কী যুক্তি দেবেন, বা কেন এটা করা হলো তা জানতে। আলোচনা থেকে জানতে পারলাম নিম্নলিখিত বিষয়গুলো-

১। পৃথিবীর আর কোথাও অন নেট/অফ নেট আলাদা কলরেট নেই। অর্থাৎ জিপি টু জিপি এক কলরেট, জিপি টু অন্য নেটওয়ার্ক বেশি কলরেট, এটা নেই। এজন্যে একটা ইউনিফাইড কলরেট খুব দরকার ছিলো।

ভালো কথা। ইউনিফাইড করেন, কিন্তু ২৫ পয়সা সর্বনিম্ন কলরেট থেকে একলাফে সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা করে ফেললেন?

২। এই প্রশ্নের জবাবে তারা বললেন যে অনেক হিসেব নিকেশ করে একটি মধ্যবর্তী কলরেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

ও আচ্ছা। তো এতে গ্রাহকের লাভ কী? গ্রাহক কেন কলরেট বৃদ্ধি মেনে নেবে? পৃথিবীর সবখানে কলরেট কমানোর প্রতিযোগিতা চলে, আমাদের এখানে বাড়বে কেন?

৩। তাদের উত্তর, দেখুন সবকিছুরই দাম বাড়ে। গ্যাসের দাম বাড়ে, কারেন্টের দাম বাড়ে, একটা সময় কলরেট ভ্যাটসহ ১০ টাকার বেশি ছিলো।

তাদের এ অকাট্য যুক্তি শুনে বাকহারা হয়ে গেলাম। সবকিছুর দাম বাড়ে, কারেন্টের দাম বাড়ে, গ্যাসের দাম বাড়ে, গরুর মাংসের দাম বাড়ে, তাই মোবাইল কলরেটও বাড়বে? তার মানে কি এটা বাড়তেই থাকবে? পরের বছর আরো বাড়বে? তাদের যুক্তি অনুযায়ী তো তাই হওয়ার কথা!

৪। তারা বললেন যে বাংলাদেশের মত এত কম কলরেট না কি বিশ্বের আর কোথাও নেই।

নবনীতা আপার মনে হয় এ ব্যাপারে স্টাডি করা ছিলো না। তিনি তেমন কিছু বলতে পারেননি কাউন্টারে। তবে কলরেট, ডাটা, এস এম এস সব মিলিয়ে ইন্ডিয়ায় এয়ারটেলের প্যাকেজগুলি একটু দেখতে বলতে পারতেন।

৫। সবচেয়ে মজার অংশ, দেশে না কি ৭ কোটি মোবাইল গ্রাহকসম্পন্ন একটি কোম্পানি এই অন নেট/অফ নেটের ফায়দা তুলে মনোপোলি বিজনেস করছে। তাই দূর্বল অপারেটরদের সাহায্য করতে, তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এই ইউনিফায়েড কলরেট, যাতে ভর্তুকি দিতে হবে গ্রাহকদেরই।

আচ্ছা তাই? বাংলালিংকের গ্রাহক তিন কোটির বেশি। রবির গ্রাহক দুই কোটির বেশি। এরা কি ছোট কোম্পানি? পিছিয়ে আছে এয়ারটেল এবং টেলিটক। একটা ভারতের, আরেকটা বাংলাদেশ সরকারের। তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা চলছে না কি?

৬। নবনীতা একটি দারুণ প্রশ্ন করেছিলেন। এই যে ৭ কোটি গ্রাহক গ্রামীনফোনের, এত বেশি গ্রাহক তাদের কেন হলো? নিশ্চয়ই সার্ভিস ভালো বলে? নিশ্চয়ই নেটওয়ার্ক সেরা বলে? তাহলে অন্যরা কেন নেটওয়ার্ক ঠিক করছে না?

বিটিআরসির প্রাজ্ঞ কর্মকর্তা উত্তর দিলেন, এই যে কলরেট বাড়ানো হলো, এতে করে ‘ছোট’ কোম্পানিগুলোর রেভিনিউ বাড়বে, তা দিয়ে তারা নেটওয়ার্ক ভালো করার কাজে মনোযোগী হবে।

উত্তর শুনে মন জুড়িয়ে গেলো। আমরা টাকা দিবো, তারা লাভ করবে, তারপর নেটওয়ার্ক ভালো করবে, কেন আমাদেরই ভর্তুকি দিতে হবে? এতই যদি মায়া থাকে তাদের ওপর, সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে না কেন?

৭। নবনীতা আরেকটি দারুণ প্রশ্ন করলেন। গ্রামীন ফোনের নেটওয়ার্ক ভালো বলে সবাই গ্রামীনফোন নেয়, আবার অন্য কোম্পানিগুলোর সুবিধাজনক কলরেট সুবিধামত সময়ে পাওয়ার জন্যে অন্য সিমও রাখে। তো এখন ইউনিফায়েড কলরেটে এতগুলি সিম রাখার প্রয়োজন কারো পড়বে না। সেক্ষেত্রে সবাই যদি অন্য সব সিম রেখে শুধু জিপি রাখে? যেহেতু জিপির নেট সবচেয়ে ভালো। তাহলে কী হবে? মনোপলি বাড়বে, না কমবে?

এই প্রশ্নের উত্তর আর শোনা হয়নি। যথেষ্ট পরিচয় দিয়েছি ধৈর্য্যের, আর কত! আপনাদের যদি এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকে, তাহলে একটু জানিয়েন আমাকে।

আরও পড়ুন-

Comments

Tags

Related Articles