রকমারি

নিয়ন্ত্রণ করুন নিজের ভাবনা আর আবেগকে!

কেমন হয় যদি আপনার ভাবনা এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী করতে পারেন? বিখ্যাত এবং সফল ব্যক্তিদের অনেকেই নানারকম মানসিক চর্চার মাধ্যমে এটা করে থাকেন। যেমন, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন। এর ফলে এন্ড্রোফিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্লান্তি দূর করে একটা হাশি-খুশি; ইউফোরিয়াক মন তৈরি করে। তবে এত কিছু করার সময় আপনার নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে কী করা? এখানে কিছু দারুণ কার্যকরী টিপস আছে, যা স্বল্প সময়ে আপনার মননে, মগজে দারুণ উন্নতি সাধন করতে পারে।

বুঝতে হবে স্মৃতি এবং বাস্তবতার তফাৎ

বেশিরভাগ মানুষ মনে করে স্মৃতি হলো হার্ড ডিস্কে রক্ষিত ভিডিও ফাইলের মত। কোন একটা পুরোনো দৃশ্য মনে পড়লে তা ওপেন করলেই হুবহু সেই স্মৃতিটি দেখা যাবে। মস্তিষ্কের কর্মপদ্ধতি মোটেও এমন না। অদ্ভুত খেয়ালী তার আচরণ। যখন কোন স্মৃতি স্মরণ করার চেষ্টা করেন, তখন বিভিন্ন ঘটনা এবং স্মৃতির টুকরো টুকরো অংশ জোড়া লাগিয়ে সে তা পুনরুদ্ধার করে। এর মাঝে এমন কিছু অংশ থাকতে পারে, যার সাথে মূল স্মৃতির কোন সম্পর্কই নেই!

যেমন ধরুন আপনি কোন একটি দুঃখের স্মৃতি মনে করছেন। ধরে নিলাম, সেটা আপনার প্রিয় কারো চলে যাওয়া। ব্যাপারটা কিন্তু এরকম না, যে প্রতিবার একই জিনিস মনে করছেন, আর একইভাবে দেখছেন। মস্তিষ্ক হয়তো বা আপনাকে এমনভাবে দেখাবে, যাতে আপনার কাছে ব্যাপারটি আরো শোকের মনে হবে। আপনি যতবার মনে করতে চাইবেন, তত বেশি শোক অনুভব করবেন। একসময় দেখবেন যে পুরো ব্যাপারটা যতটা না শোকের তার চেয়েও বেশি শোকের বানিয়ে ফেলেছেন আপনার স্মৃতিচারণের অভ্যেস দিয়ে।

তো আপনি কীভাবে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন? আপনার সুখের দিনগুলির কথা ভাবুন। নিশ্চয়ই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে আপনি সুখী ছিলেন? সেই দিনগুলির কথা ভাবুন। ভাবার চর্চা করুন। দেখবেন, একসময় আপনার সুখের স্মৃতিগুলো আরো সুখময় হয়ে দৈনন্দিন জীবনকে রাঙিয়ে দিচ্ছে!

হ্যাঁ, ব্যাপারটা এতটা সহজ নয় করা, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত!

গল্প নির্মাতা মস্তিষ্ক

আপনার জীবনের গল্পটা কেমন হবে? হরর, কমেডি, না ট্রাজেডি? এই সিদ্ধান্তটা কিন্তু মস্তিষ্কই নিয়ে থাকে। জীবন যাপন এবং অভ্যস্ততার সাথে ভাবনার গড়ন এবং মস্তিষ্কের নিজস্বতা গড়ে ওঠে। প্রতিটি মস্তিষ্কই একটি গল্প নির্মাতা। সবার ভেতরেই অনবরত চলছে নিজের সিনেমা, যার লেখক, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান সবই আপনি। এই গল্পগুলো বাস্তবতার সাথে বিভিন্ন কম্বিনেশনে মিলে মিশে তৈরি করে নিজস্বতা। ভাবনার কারখানার এসব কর্মকাণ্ডই ভবিষ্যতে আপনি কেমন ভাবে গড়ে উঠবেন, মিষ্টি হাসি বা রূঢ় কথায় কেমন রিএ্যাক্ট করবেন তা নির্ধারণ করে।

যেমন ধরুন, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষকে প্রশংসা করলেও সেটাকে বিরূপ মন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেশি। অপর দিকে কোন পজিটিভ মানসিকতার হাস্যোজ্জ্বল তরুণীকে তিরষ্কার করলেও সেটাকে সে সহজেই ঝেড়ে ফেলতে পারবে। এটা নিয়ে তার মস্তিষ্কে নতুন কোন গল্প তৈরি হবার জায়গাই নেই!

সুতরাং, আপনার গল্পগুলোকে যদি কঠিন বাস্তবতা এবং রূঢ়তায় বিলীন হতে দেন, সে দায় একান্তই আপনার। গল্পগুলো অন্য কাউকে তৈরি করার সুযোগ দেবেন না। মস্তিষ্ককে পরিচালিত করুন নিজের মত করে।

স্মৃতি সম্পাদনা করুন

মনে করুন একজন যুবকের কথা। ক্যারিয়ারের শুরুতে সে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলো। মোটা অংকের চাকুরি। কিন্তু কোন এক কারণে সে কাজটি নেয় নি। এ কারণে তার আফসোসের সীমা নেই। কিন্তু সে এখন যে কাজ করছে, সেটাও খারাপ নয়। তবুও তার চিন্তায় সেই আক্ষেপ থেকেই যায়। সে যখনই তার জীবন নিয়ে চিন্তা করে, অবশ্যম্ভাবী রূপে সেই আফসোসটা এসেই পড়ে। চিন্তার এই প্যাটার্ন পরিবর্তন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র তারই আছে। কিন্তু সে পারছে না। যদি সে জীবনে এর চেয়ে অনেক বেশি সফলও হয়, তবুও এই আফসোসটা তার থেকেই যাবে। এভাবেই স্মৃতি সম্পাদনার অভাবে মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়।

সেই ছেলেটির জীবনে নিশ্চয়ই ভালো ঘটনাও ঘটেছে। চিন্তার চেইন থেকে সেগুলো ছিটকে যাচ্ছে শুধুমাত্র একটি ঘটনার কারণে! হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো সুযোগ নষ্ট করা কষ্টের ব্যাপার। সেক্ষেত্রে মনের আলাদা একটি খোপে সেই স্মৃতিটাকে সংরক্ষিত করা যেতে পারে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, সামগ্রিক শুভ চিন্তায় যেন তা ব্যাঘাত না ঘটায়। এরকম করে ভাবা হয়তো বা কিছুটা কঠিন, তবে চর্চা করে আয়ত্ত করা সম্ভব। এভাবেই চিন্তার শক্তিতে আপনি হবেন বলীয়ান, এবং নিজের মত করে স্মৃতি গড়ে নিতে শিখবেন। উদ্ভাসিত হবেন নিজেকে চেনার আনন্দে, গড়ার অভিযানে।

যেভাবে শুরু করতে পারেন

নিজের জীবনের আগাগোড়া একটা বায়োগ্রাফি বানিয়ে ফেলুন মনে মনে। সিনেমার মত। গল্পের মত। স্মৃতিগুলোকে সাজান। কী ঘটবে, জানেন? দেখবেন আপনার মস্তিষ্ক বেছে বেছে গল্প বানানোর উপযোগী যুক্তিগ্রাহ্য এবং সুসংহত ব্যাপারগুলিই শুধু রেখেছে। বাকিগুলো সব ফেলে দিয়েছে। এই যেমন আপনি কবে কোন কাজিনের সাথে রাগ করে দু বছর কথা বন্ধ রেখেছিলেন, কিংবা কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজে বোরহানি খেয়ে পেট খারাপ হয়েছিলো, এগুলো সে গ্রাহ্যই করবে না। এতে কী ঘটবে জানেন? আপনার নানা চিন্তায় আক্রান্ত জবুথবু মস্তিষ্কটিকে একদম ঝরঝরে করে ফেলতে পারবেন। ব্রাউজারের মেমরি ভরে গেলে ক্যাশ এবং অপ্রয়োজনীয় এ্যাড অনস ফেলে দিলে যেমন হয়, অনেকটা সেরকমই ব্যাপারটা।

এবার আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি আসলে কোথায় আছেন, আপনি আসলে কী, এবং আপনি কোথায় যেতে চান। প্রতিদিন এগুলো চর্চা করুন, দেখবেন জীবন সহজ এবং চনমনে হয়ে উঠবে অনেক। এখন সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি নিজেকে সে সময়টা দেবেন কি না!

তথ্যসূত্র- https://www.inc.com/geoffrey-james/this-neuroscience-hack-can-make-you-unstoppable.html

Comments

Tags

Related Articles