ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডুগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান অবতরণের আগমুহূর্তে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যজনিত জটিলতার ফলে বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত দাবি করে আসা হচ্ছিল যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবতরণ প্রসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা দিতে থাকার ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তি থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত, এবং তাতে বিমানটি কেবল আগুনে পুড়ে ছাই-ই হয়ে যায়নি, পাশাপাশি এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৪৯ জন।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধাণ নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের দোষারোপ করে বলেছিলেন, তারাই নাকি বারবার ‘ভুল সংকেত’ দিচ্ছিল। কিন্তু ত্রিভূবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রী সে দায় অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যেসব মন্তব্য আসছে যে নেপালের বিমানবন্দর থেকে ভুল সংকেত দেয়া হয়েছিল, আমরা তার কঠোর বিরোধিতা করছি।’ তিনি বলেন, বিমানটিকে রানওয়ের দক্ষিণ দিকে অবতরণ করতে বলা হলেও বিমানটি শেষ পর্যন্ত অবতরণ করতে গিয়েছিল উত্তর দিকে। ছেত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল স্টাফরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমরা প্রতিটি বিষয়ই পাইলটদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলাম। আমরা বারবার পাইলটদেরকে বলছিলাম রানওয়ের সঠিক দিক থেকে অবতরণ করতে।’

এই বিমান দুর্ঘটনাটির ফলে সকলের নজরে আসছে নেপালের আকাশ নিরাপত্তার আগের রেকর্ডগুলিও। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক প্রণীত এক পরিসংখ্যান অনুসারে, সোমবারের ঘটনার আগে গত পাঁচ বছরে পৃথক চারটি ঘটনায় ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জিব গৌতম বলেছেন, এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ভুল সংকেত দিয়েছিল, এমন দাবি সম্পূর্ণরূপে অসত্য।

আবহাওয়া একদমই পরিষ্কার ছিল। পাইলটরা পাঁচ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত দেখতে পারছিলেন। তারা এটিও নিশ্চিত করেছিলেন যে রানওয়ে তাদের সামনে দৃশ্যমান। তারা যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন, সে প্রমাণও আমাদের কাছে আছে। কিন্তু পাইলটেরা ঠিকভাবে আমাদের নির্দেশনা অনুসরণ করছিলেন না। এয়ারক্রাফটটি অবতরণের সময়ে অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া প্রদর্শন করছিল। এলাইনমেন্টও ঠিক ছিল না, এটি একদিকে কাৎ হয়ে ছিল।

তিনি আরও জানান যে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল যখন ফ্লাইট বিএস ২১১ এর অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি আন্দাজ করতে পারে, তারপর থেকে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে থাকা প্রতিটি বিমানকে তারা থামিয়ে দেন।

এয়ারক্রাফটটির যে দুইটি রেকর্ডার ছিল- ককপিট ভয়েস রেকর্ডার আর ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার; দুইটিই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এবং নেপাল কর্তৃপক্ষ বলছে তারা প্রাথমিক তদন্তের পর এক মাসের মধ্যেই সবকিছু প্রকাশ করবে। 

দোষ আসলে কার, এমন প্রশ্নের জবাবে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম। ‘কন্ট্রোলার আর পাইলটদের মধ্যে কনফিউশন ছিল। তবে ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, আর আমরা অপেক্ষা করছি এটি কী দেখায় তার জন্য। দোষ তো যেকোন এক পক্ষের আছেই। কিন্তু আমরা এই মুহূর্তে অপেক্ষা করছি তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার।’

সিএনএন অবলম্বনে

Comments
Spread the love