‘কাহানি’ সিনেমাতে তিনি ছিলেন ডাকাবুকো এক পুলিশ কর্মকর্তা। গতবছর ‘রইস’ সিনেমাতেও পুলিশ চরিত্রে তিনি টক্কর দিয়েছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের সঙ্গে। কিন্ত এবার বোধহয় নিজেই পুলিশি চক্করে পড়তে যাচ্ছেন বলিউডি অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড স্ক্যামের অভিযোগ এনেছে মুম্বাইয়ের থানে এলাকার পুলিশ। তবে ভারতীয় পত্র-পত্রিকাগুলো যে দাবীটা করছে, সেটা শুনলে খানিকটা অবাকই হতে হয়! নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি নাকি তার স্ত্রীর পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছিলেন! সেই গোয়েন্দাই তাকে তার স্ত্রীর ফোন রেকর্ডগুলো দিয়েছিলেন!

মুম্বাই পুলিশ গত কিছুদিন ধরে অভিযান চালিয়ে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড যারা পাচার করে, এমন একটা দলের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেফতার করে। এদের মুখ থেকে এমন কিছু লোকজনের নাম বেরিয়ে আসে, যারা ব্যক্তিগত গোয়েন্দা হিসেবে বিভিন্ন মানুষের হয়ে ভারায় কাজ করে থাকেন। পরে পুলিশ এদের অনেককেও থানায় ডেকেছে, জবানবন্দী নিয়েছে, কাউকে কাউকে গ্রেফতারও করেছে। এরকমই একজন দাবী করেছেন, তাকে নওয়াজউদ্দিন ভাড়া করেছিলেন নিজের স্ত্রীর পেছনে গুপ্তচরগিরি করার জন্যে। ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া-টুডে সহ শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর প্রকাশ করেছে।

পুলিশের কাছে জবানবন্দীতে আটক ওই ব্যক্তিগত গোয়েন্দা জানিয়েছেন, স্ত্রী অঞ্জলী নওয়াজের পেছনে তাকে নিয়োগ করেছিলেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। অঞ্জলী কোথায় যান, কি করেন, কার সঙ্গে দেখা করে, তার মোবাইলে কার কার নম্বর থেকে ফোন আসে, সেখানে কি কি কথাবার্তা হয়- এসব নিয়মিতভাবে নওয়াজকে জানানোই ছিল সেই গোয়েন্দার কাজ। এই কল রেকর্ডগুলো যোগাড় করার জন্যে নওয়াজের নিযুক্ত সেই গোয়েন্দা সাহায্য নিয়েছিলেন কল স্ক্যামকারীদের। আর এভাবেই পুলিশের নজরে এসেছেন তিনি।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, বলিউড, কল স্ক্যাম কেলেঙ্কারী

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে তথ্য পেয়ে পুলিশ নওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্ত তার তরফ থেকে কোনরকমের সাড়া বা সাহায্যের আশ্বাস মেলেনি। তিনি এই বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতেই রাজী হননি, ফোনেও তাকে পায়নি পুলিশ। পরপর তিনবার তাকে ডাকা হিয়েছিল অপরাধ দমন বিভাগের তদন্তের শুনানীতে। কিন্ত নওয়াজ হাজিরা দেননি, কোনরকমের যোগাযোগও করেননি। একারনে গত শুক্রবার নওয়াজের বিরুদ্ধে সমন পাঠানো হয়েছে।

বেআইনীভাবে কল রেকর্ডগুলো কেনাবেচায় প্রচুর অর্থের যোগসাজোশ আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দারা। প্রতিটা ফোনকল বিক্রির জন্যে ত্রিশ-পঞ্চাশ হাজার রুপী পর্যন্ত খরচ করতে হতো ক্রেতাদের। ক্রেতারা যে সমাজের এলিট সোসাইটির লোকজন ছাড়া কেই নন, সেটা বোঝাই যায়।

গতকাল জানা গিয়েছিল, নওয়াজের স্ত্রী নাকি এই ঘটনায় ‘ব্যক্তিগত জীবনে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগে’ স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। কিন্ত আজ নওয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার কথাটা সংবাদমাধ্যমের গুজব ছাড়া কিছুই নয়। নওয়াজের ভাই মিডিয়াকে বলেছেন, তারা কোন পুলিশি সমনই পাননি এখনও। তার ভাই-ভাবী একসঙ্গেই আছেন, তাদের মধ্যে সামান্য মনোমালিন্যের লক্ষণও দেখেননি তিনি। দুজনেই একসঙ্গে নিজেদের মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন গতকালও।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, বলিউড, কল স্ক্যাম কেলেঙ্কারী

টুইটারে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী অবশ্য পুরো ঘটনাটাকেই ফালতু গুজব বলে আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল সকালে তিনি লিখেছেন- “গত শুক্রবার রাতে আমি আমার মেয়েকে ওর স্কুলের একটা প্রজেক্ট তৈরিতে সাহায্য করছিলাম। আজ সকালে মেয়ের প্রোজেক্ট প্রেজেন্টেশন দেখতে ওর স্কুলে গিয়েছি। তারপর এই ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যম আমাকে প্রশ্ন করেছে। সব শুনে আমি অবাক! এগুলো খুবই বিরক্তিকর।”

নওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তার আত্মজীবনী রচয়িতা তার বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিলেন। অনলাইনে বইটা প্রকাশের এক সপ্তাহের মাথায় সেটা প্রত্যাহার করে নেন লেখক। তার অভিযোগ ছিল, আত্মিজীবনীতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন নওয়াজ। নিজের জীবনটাকে রংচঙে মুড়িয়ে সিন্যাম্যাটিক স্টাইলে উপস্থাপন করেছেন মিডিয়ার সামনে। আর এই অভিযোগটার পেছনে তিনি নাম নিয়েছিলেন নওয়াজের সাবেক দুই প্রেমিকা সুনিতা রাজওয়ার আর নীহারিকা সিং। টুইটারে নওয়াজও পক্ষান্তরে স্বীকার করে নিয়েছিলেন এই অভিযোগ, ক্ষমা চেয়েছিলেন সবার কাছে।

দেখা যাক, এবার এই পুলিশি ঝামেলার নিস্পত্তি কোথায় হয়, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!

তথ্যসুত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া-টুডে, প্রথম আলো।

Comments
Spread the love