ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার নামে নিজের চার বছর বয়সী মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। ভারতের যোধপুরের বাসিন্দা, নবাব আলী কুরেশী নামের সেই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে যোধপুর পুলিশ গ্রেফতার করেছে গত শনিবার। এরপর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে, নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, সন্তানকে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানী করেছে বলে দাবী করে, নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে সেই ব্যক্তি।

পুলিশি সূত্রে জানা যায়, নওয়াব আলী কুরেশী নামের লোকটি শহরে একটি মাংসের দোকান চালায়। গত শুক্রবার, নিজের বাড়িতেই চার বছর বয়সী মেয়ে রিজওয়ানাকে গলা কেটে হত্যা করেছে সে। কীভাবে এই অমানবিক কাজটি সে করতে পারলো? সেটিও জানিয়েছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে- রিজওয়ানা গত কিছুদিন যাবত তার নানার বাড়িতে ছিল। সেখান থেকে গত বৃহঃস্পতিবার বাড়িতে ফিরে আসে। সেই দিনই দুপুরে মেয়েকে বাজারে নিয়ে গিয়ে প্রচুর খেলনা, মিষ্টান্ন এবং ফলমূল কিনে দেয় নবাব। এবং মেয়েকে জানায়, সে তাকে অনেক ভালবাসে। এরপর মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে সে।

রাতে খাওয়ার পর গরমের কারণে সবাই ছাদে গিয়ে ঘুমিয়ে ছিল, সে সময় চুপিচুপি মেয়েকে নিয়ে নিচের উঠানে নেমে আসে নবাব। সেখানে কালেমা পাঠ করার পরে, গলা কেটে হত্যা করে ঘুমন্ত মেয়ে, রেজওয়ানাকে। হত্যা করা শেষে, চুপচাপ উপরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে নবাব আলী কুরেশি।

ভোর পাঁচটার দিকে ঘুম ভেঙে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে নবাবের স্ত্রী শাবানা, নীচে নেমে আসেন। সেখানে মেয়ের প্রাণহীন দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করলে বাড়ির অন্য সদস্যরা জেগে ওঠে। সবাই নবাবের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে সে জানায়, বাড়িতে অনেক বিড়ালের উৎপাত। হয়তো কোন বিড়াল এ কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু নবাবের এ খোঁড়া যুক্তি কেউই মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশের জেরার মুখে পরে বের হয়ে আসে আসল ঘটনা। নবাব পুলিশকে জানায়, রমজান মাসে আল্লাহ্ কে খুশি করতে, সে তার উদ্দেশ্যে মেয়েকে কোরবানী করেছে। সে নিজেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম দাবী করে বলে, সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করা ছাড়া, মেয়েকে হত্যা করার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না তার।

হত্যা এবং তথ্যপ্রমাণ লুকানোর চেষ্টার অভিযোগে তার নামে থানার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কি নিষ্ঠুর আর হৃদয়বিদারক একটা ঘটনা! কি অন্ধ ধর্মবিশ্বাস। আমি নিজেও একজন মুসলিম। ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলেও, সৃষ্টিকর্তাকে মানি এবং বিশ্বাস করি। এভাবে যে কোন ধর্মের সৃষ্টিকর্তাকেই খুশি করা সম্ভব নয়, সেটা বোঝার জন্য কি ধর্ম বিশারদ হওয়ার কোন দরকার আছে! বিবেক-বিবেচনা আর মানবিকতা থাকলেই কি বোঝা যায় না এটা কোন কোরবাণী নয়, এটা কেবল নিষ্ঠুরতা? কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কিভাবে এমন নিষ্ঠুরতা দেখাতে পারে!

এমন ধর্মান্ধরাই কি দিন দিন ধর্মের প্রতি মানুষের ভক্তি কমিয়ে দিচ্ছে না! এটা কি সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার কোন উপায় হলো! সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার তো কত-শত সহজ ও সুন্দর পন্থা আছে ধর্মগ্রন্থে, সেগুলো কেন মানুষের মাথায় আসে না! এমন ধর্মান্ধদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে অন্যদের কাছে তা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কেউ যেন কোনদিন সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার নামে, মানুষ আর ধর্মের উপর আঘাত আনতে না পারে।

সৃষ্টিকর্তা সবার মন এবং মস্তিষ্কে শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটাক। এই রমজানে এটিই আমাদের সকলের চাওয়া।

Comments
Spread the love