নেইলকাটার

আজাদ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। গত রাতে এ খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। অতি উৎসাহী লোকজন নিজেকে শান্তিপ্রিয় প্রমাণ করার জন্য মিষ্টি বিতরণও করেছে শোনা গেছে। আজাদকে নিয়ে কৌতূহলের যথেষ্ট কারণ আছে। সন্ত্রাসী আজাদ অসম্ভব বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং স্মার্ট। সেই আজাদ ধরা পড়েছে। আজাদ। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী আজাদ।

সকালবেলায় পত্রপত্রিকার দোকানগুলোতে অসম্ভব ভিড়। আজাদের ধরা পড়ার খবর জাতীয় দৈনিকগুলোতে কোথাও ছোট, কোথাও বড় করে এসেছে। আর স্থানীয় দৈনিকগুলোতে বিশাল শিরোনাম। সঙ্গে ছোট ছোট করে ‘কে এই আজাদ?’ ‘নষ্ট রাজনীতির শিকার মেধাবী আজাদ’ ‘কলেজ জীবনে অনেক সুন্দরী পছন্দ করত আজাদকে’-এ জাতীয় অনেক রিপোর্ট। ভালোভাবে সকাল হবার আগেই পত্রিকা শেষ। ভালো ব্যবসা হওয়ার কারণে মন ভালো হকারদের। মন ভালো অনেক পুলিশ কর্মকর্তারও। পত্রপত্রিকায় তাদের বীরত্বগাথা আর ছবি ছাপা হয়েছে। অন্যদিকে যারা কষ্ট করেও ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকতে পারেনি তাদের দেখে মনে হচ্ছে তাদের মন আজাদের চেয়েও খারাপ।

আজাদকে সদর থানায় হাজির করা হবে। জেলা সদরে থানা। প্রায় বাইশ কিলোমিটার পথ। সকাল দশটা এগারোটার মধ্যে থানায় পৌঁছাতে হবে। মহাপ্রস্তুতি চলছে। পুলিশের বিশেষ ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও একটু আগে খবর এসেছে, ভ্যান পথে নষ্ট হয়ে গেছে। মুহূর্তেই তোলপাড় পড়ে গেল পুরো থানায়। কীভাবে নেয়া যায় আজাদকে? ভ্যান ছাড়া আজাদকে নিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হবে। আজাদের যে বাহিনী, সেখানে কয়েকজন আছে যারা আজাদের মতোই অসম্ভব বুদ্ধিমান। সে বিবেচনায় ভ্যান নষ্ট হয়ে ব্যাপারটাকে আরো জটিল করে দিল। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কারণ, ভ্যান ছাড়া যে বাহন অবশিষ্ট আছে তা হচ্ছে, টেম্পু। কিন্তু টেম্পু জাতীয় বাহনের ব্যাপারে আজাদের কঠিন অসম্মতি। সে এসবে চড়ে যাবে না। পুলিশ পড়েছে মহাবিপদে। একরোখা ও সৌখিন হিসেবেও আজাদের বেশ নাম। আজাদকে কোনোভাবেই রাজি করানো যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কী করা যায় সেটা নিয়েই চলছে আলোচনা। এদিকে সময়ও যাচ্ছে দ্রুত।

থানা হাজত থেকে আজাদকে বের করে আনা হচ্ছে। অবশেষে টেম্পু করেই নিয়ে যাওয়া হবে। উপর থেকে কড়া নির্দেশ। আজাদ অনিচ্ছা সত্ত্বেই বের হয়েছে। টেম্পুতেই যেতে হবে। আজাদের নামে সব ধরনের মামলাই আছে। হত্যাও আছে দুতিনটা। অপরাধের সব ক্ষেত্রেই বিচরণ তার। তাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। অনেক কষ্টে টেম্পুতে ওঠানো হলো। তার সঙ্গে পুলিশ আছে চারজন। ড্রাইভারের সঙ্গে বসেছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। সাব ইন্সপেক্টর। জহির। আজাদের সঙ্গে থাকা চারজনই কঠিন সতর্কতায় তার পাশে বসে আছে। টেম্পু চলতে শুরু করেছে। আজাদ মাথা নিচু করে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। বাইরের দৃশ্য দেখার চেষ্টা করছে। এই রাস্তায় তার অনেক স্মৃতি। কত সময় কত কাজে, সে এই রাস্তা দিয়ে গেছে। কখনো সাফল্যে, কখনো ব্যর্থতায়। কখনো পুলিশের তাড়া খেয়ে। কত স্মৃতি। টেম্পু তার সর্বোচ্চ গতি নিয়ে চলছে। কিন্তু খুব বেশি এগুতে পারছে না। আজাদ তার পাশে বসা পুলিশের দিকে তাকাল, ভাই কি থানায় নতুন? পুলিশ হাবিলদার হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। আজাদ বলল, এ জন্যই চিনতে পারছি না। অনেকদিন ধরে পলাতক ছিলাম তো। আজাদ আবার অন্যমনস্কভাবে বাইরে তাকাল। পুলিশগুলো এত সতর্ক অবস্থায় আছে যে আজাদ বাইরে যা দেখছে তারাও সেগুলোর দিকে তাকাচ্ছে ব্যাপক পর্যবেক্ষণী দৃষ্টি নিয়ে।

টেম্পু চলছে আগের গতিতেই। আজাদ আবার বাইরে তাকাল। বেশ আগ্রহ নিয়ে কী যেন খুঁজছে। বিষয়টা লক্ষ্য করে পাশের পুলিশ হাবিলদার বেশ বিব্রত। আজাদের সঙ্গীরা কী এদিকে আছে নাকি?

আজাদের চেহারায় হঠাৎ আনন্দের ঝলকানি দেখা দিল। সে মোটামুটি চিৎকার করে টেম্পু থামাতে বলল। বলতেই পুলিশদের মধ্যে চাঞ্চল্য শুরু হলো। হাবিলদাররা আতঙ্কিত চোখে নিজেদের অস্ত্র গোছানো শুরু করে দিল। সাব ইন্সপেক্টর জহির গাড়ি থামাতে বললেন। গাড়ি থেকে নেমে পেছনে আসলেন। রাগী চেহারা নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, গাড়ি থামাবে কেন?

আজাদ স্ফীত হাসি দিয়ে বলল, একটা গাছ দেখব।

জহির সাহেব বিরক্তি নিয়ে বললেন, গাছ দেখব মানে? এটা কি আমরা শিক্ষা সফরে এসেছি? না উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্র্যাকটিকাল ক্লাস করতে নিয়ে যাচ্ছি?

আজাদের পাশ থেকে এক হাবিলদার চেঁচিয়ে উঠল, না স্যার আজাদ এর আগেও এমন নাটক করে পালিয়েছিল। ও অনেক চালাক। বুঝবেনও না, সে কীভাবে কী করবে?

জহির সাহেব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন নামতে দেবেন না। কিন্তু হাবিলদারের কথা শুনে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ অনুভব করলেন। আমার সাথে চালাকি? এত চালাক সে? ঠিক আছে, দেখা যাক।

তিনি আজাদকে নামাতে বললেন। ডাণ্ডাবেড়ি পরা আজাদ খুড়িয়ে খুড়িয়ে একটা গাছের কাছে গেল। পরম মমতা নিয়ে গাছটাকে ছুঁয়ে দেখল। হঠাৎ কী মনে করে সাব ইন্সপেক্টর জহিরকে ডাক দিল, জহির সাহেব দেখে যান একটা জিনিস। সাব ইন্সপেক্টর জহির আবারো অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন? মনে হলো কিছুটা অপমানিত বোধ করলেন। তারপরও তিনি কী দেখব, কী দেখব বলে এগিয়ে গেলেন। আজাদ বলল, দেখেন তো কী লেখা আছে? সাব ইন্সপেক্টর অনেকগুলো অগোছালো অক্ষর ছাড়া আর কিছুই দেখলেন না। বললেন, কই অক্ষর ছাড়া আর কিছুই তো দেখছি না। আজাদ বলল, সেটাই তো দেখালাম। দেখেন। ‘এন’ প্লাস ‘এ’ লেখা আছে না?

সাব ইন্সপেক্টর জহির হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। আজাদ মাথা নাড়ল। বলল, ঠিক আছে চলেন। সময় নষ্ট হচ্ছে। আপনার আবার চাকরি নিয়ে সমস্যা শুরু হবে। আমি চাই না আপনার চাকরির সমস্যা হোক। আপনি আমার দিকটা দেখেছেন। আমার একটা সাধ পূরণ করেছেন, আমি আপনারটা দেখব না এমন তো হবে না। আমি ভালো ঘরের সন্তান। কৃতজ্ঞতাবোধ প্রবল। চলেন, গাড়িতে বসে গল্পটা বলি। আবার গাড়ি চলতে শুরু করল। আজাদ বলল, ইন্সপেক্টর সাহেব আমি কখনো এসব বিষয় নিয়ে কাউকে কিছু বলিনি। আজ কেন জানি বলতে ইচ্ছে করছে। ওই যে ‘এন’ দেখলেন না। ওটা একটা মেয়ের নামের প্রথম অক্ষর। ওর নাম নন্দিতা। অসম্ভব ভালো একটা মেয়ে। এই যে আমি এমন হলাম তার মূলে সে। মূলে মানে, সে দায়ী না। তাকে ঘিরেই আমার এই পাল্টে যাওয়া।

আজাদ কিছুটা থামল। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শুরু আবার করল, নন্দিতার একটা অভ্যাস ছিল। দাঁত দিয়ে নখ কাটত। দাঁত দিয়ে নখ কাটা অভ্যাস হিসেবে যত খারাপ ছিল, বিশ্বাস করবেন না তাকে ওই দাঁত দিয়ে নখ কাটা অবস্থায় দেখতে তত ভালো লাগত। আমি তাকে ওপরে ওপরে বলতাম, প্লিজ এটা করো না, এটা ভালো অভ্যাস না। কিন্তু মন থেকে চাইতাম এই অভ্যাস আরো দীর্ঘদিন থাকুক। তাকে বলতাম, দাঁড়াও আমি কালই একটা নেইলকাটার কিনছি। তোমার সব নখ কেটে ছোট করে দেব। আমি পরদিন নেইলকাটার কিনেছিলাম ঠিকই, তাকে আর বলিনি। পকেটে নিয়ে ঘুরতাম। প্রায় মাসখানেক সেটা পকেটে নিয়ে ঘুরেছি। পকেটে থাকতেও প্রতিদিন একই কথা বলতাম, দাঁড়াও আমি কালই একটা নেইলকাটার কিনছি। তোমার সব নখ কেটে ছোট করে দেব। তারপর ঘটনা একই রকম। তার দাঁতে নখ। আমার পকেটে নেইলকাটার। আর মুখে একই কথা, দাঁড়াও কালই একটা নেইলকাটার…।

একদিন, এই এখানে এসেছিলাম। গোপনে লুকিয়ে রাখা নেইলকাটার নিয়ে নন্দিতাকে সব বললাম। কবে নেইলকাটার কিনেছি? কেন বের করিনি? সব বললাম।

নেইলকাটার দিয়ে গাছে খোদাই করে তখনই ওইটা লিখেছিলাম। নন্দিতাকে শেষ কথাটা বলেছিলাম, দেখো কি আশ্চর্য পৃথিবী! তোমার সৌন্দর্যের জন্য একটা নেইলকাটার অকার্যকর হয়ে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই সেটা ভুল প্রমাণিত হলো। কোথা থেকে হঠাৎ দুতিনজন ছেলে এলো। এসেই আমাকে ধাক্কা মারল। আমি বিষয়টায় অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। কিছু বলতে পারলাম না। তারা আবারো ধাক্কা দিয়ে বলল, কিরে ব্যাটা প্রেম করার আর জায়গা পাস না? এই চিপায় চাপায়…। তারপর আর কী কী বলল আমার মনে নেই। কথাটা শুনে জীবনে প্রথমবারের মতো আমার মাথায় রক্ত উঠে গেল। পৃথিবীর সব ভাবনা ভুলে গেলাম। নেইলকাটারের ভেতরে থাকা চাকুটা বের করে প্রচণ্ড ক্রোধে একজনকে মারলাম। সাথে সাথে তার শার্ট রক্তে ভরে গেল। ঘটনার অস্বাভাবিকতায় বাকিরা পালিয়ে গেল। আমার হাত কাঁপছিল। আর নন্দিতার কাঁপছিল পুরো শরীরই। আমার এই নির্মম পুরো চেহারাটা সে মেনে নিতে পারেনি। তাকে বাসা পর্যন্ত সেদিন দিয়ে এসেছিলাম কোনো কথা ছাড়াই।

বিশ্বাস করেন জহির সাহেব, এরপর বহুদিন অযথাই আমার হাত কেঁপেছে। আর কেঁপেছে আমার চোখ। কষ্টে। কারণ, এরপর নন্দিতা কেন জানি আমার আর খোঁজ নেয়নি। তার বাবা ছিল ভয়ানক রাগী মানুষ। হয়তো তিনি জেনে গিয়েছিলেন সব।

নন্দিতা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল। আর আমি কেমন যেন জীবনে জেগে উঠতে শুরু করলাম। নেইলকাটার দিয়ে মারার ঘটনার জের বহুদিন চলল। এর মধ্যে আমার অনেক শত্র“ হলো। হলো বন্ধুও। তারা যেমন আমার কাজে এসেছিল। আমি যেতাম তাদের কাজে। অপরাধটা রুটিনওয়ার্কে পরিণত হয়ে গেল। বিভিন্ন থানায় পুলিশের তালিকায় নাম উঠতে শুরু করল। তবে বাবা যখন আমাকে বাসা থেকে বের করে দিল মনে করেন তারপর থেকেই মোটামুটি আপনাদের ভাষায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে উঠলাম।

জহির সাহেব, অনেকদিন হয়ে গেল হাত কাঁপে না। এখন কাউকে আঘাত করতে আর আগের মতো হাত কাঁপে না। আর বহুদিন হয়ে গেল নন্দিতাকে দেখি না। তার নখ দেখি না। দাঁত দিয়ে নখ কাটা দেখি না। ইচ্ছে করলে অবশ্য আমি নন্দিতাকে তুলে নিয়ে আসতে পারতাম। চাইনি। ভালোবাসাকে তুলে আনা যায় না। সেটা আসলে, এমনিই আসে। সেই ঘটনার অনেকদিন পর একবার মাত্র তার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। তাকে শুধু বলেছিলাম, তুমি আসো বা নাই আসো সমস্যা নাই। তবে যেদিন দেখা হবে, সেদিন ঠিক ঠিক তোমার নখ কেটে দেব। আমার কাছে সবসময়ই নেইলকাটারটা থাকে। তোমার জন্যই সাথে সাথে নিয়ে ঘুরি।

হঠাৎ টেম্পু থেমে গেল। গন্তব্য এসে গেছে। সাব ইন্সপেক্টর জহির নেমে এসে হাত ধরে আজাদকে নামালেন। আজাদ জহির সাহেবের দিকে তাকাল। তার চোখে পানি। জহির সাহেব বললেন, আজাদ কেন জানি খুব ইচ্ছে করছে তোমার নন্দিতাকে দেখতে।

আজাদ এর জবাব কী দেবে খুঁজে পেল না। চুপ করে রইল।

দিনটা আজাদের ভীষণ ছোটাছুটিতে কাটল। থানার এ বিল্ডিং থেকে ও বিল্ডিং। এ ঘর থেকে ও ঘর। অনেকদিন পর আজ আজাদের মনটা ভীষণ খারাপ। কী জন্য সেটা আজাদ জানে। আবার জানেও না। জানতে চায় না। দুপুরের পর জহির সাহেব এলেন। অনেক কষ্টে একটা কথা বলে গেলেন, আজ রাতে আপনাকে এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর আর কিছুই বলতে পারলেন না। আজাদ তাকে বলল, সকালের কান্নাটা কি এজন্যই ছিল? আরে মিয়া আমি কাঁদি না, আপনে কেঁদে হয়রান। চোখ মোছেন। শোনেন, আপনাকে একটা মজার তথ্য দেই। মন ভালো হয়ে যাবে। আপনি কি জানেন, আমার কাছে সেই নেইলকাটারটা সবসময় থাকে? বহু বছর ধরে সেটা নিয়ে চলি। এখন সেটা আমার জুতার ভেতরে একটা জায়গা করে রাখা আছে। দেখবেন জহির সাহেব? ইন্সপেক্টর জহির কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেলেন।

রাতে আবার আজাদকে সেই টেম্পুতে তুলে নেয়া হলো। আজাদ বুঝতে পারছে এ যাত্রা কোথায়? আজাদ জানে এ পথটা মিশেছে কোথায় গিয়ে? সে ভালোভাবেই জানে এ পথটা ওয়ানওয়ে। ফেরার বাহন নেই। গাড়ি আজাদকে নিয়ে চলছে। তার আশপাশে যারা আছে আজাদ কাউকেই চেনে না। শহরে আজাদ কম আসত। এলাকায়ই বেশি থাকত। তাই তাদের সাথে খুব একটা জানাশোনা হয়নি। আজাদকে নিয়ে গাড়ি চলছে। সেই রাস্তা ধরেই। অন্ধকারে পথঘাট খুব একটা চেনা যাচ্ছে না। সে বোঝার চেষ্টা করছে কোথায় আছে। গাড়ি চলছেই বাছবিচারহীন এক যাত্রায়।

সকালবেলায় পত্রপত্রিকার দোকানগুলোতে অসম্ভব ভিড়। রাতের খবর সকালবেলাতেই পত্রিকাতে আসার কথা না। তারপরও যদি থাকে এই বিবেচনায় বহু লোক ভিড় করে আছে পত্রিকার দোকানের সামনে। তবে তার চেয়ে বেশি ভিড় আজাদের লাশের সামনে। আজাদের রক্তাক্ত শরীর পড়ে আছে মাটিতে। শার্ট ছেঁড়া। পায়ে জুতা নেই। ধীরে ধীরে মানুষের এই ভিড় বাড়ছে। আজাদকে শেষবার দেখতে এই ভিড়। এই ভিড়ে শরিক অনেকেই। ভিড়ে শরিক সাব ইন্সপেক্টর জহিরও। তবে তিনি তার ডিউটির বাইরে একটা কাজ করছেন। কী যেন খুঁজছেন? যদিও খোঁজার কিছু নেই। সব অস্ত্র উদ্ধার হয়ে গেছে বলে টিভির খবরে বলা হয়েছে। তবুও তিনি খুঁজছেন। হঠাৎ অবাক হলেন। তার ঠিক কিছুটা উল্টো দিকে এক তরুণী। আশ্চর্য! মনে হচ্ছে সেও যেন কিছু খুঁজছে। সাব ইন্সপেক্টর জহির খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে সন্দেহভাজন মেয়েটার দিকে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ম্যাডাম কী কিছু খুঁজছেন?

মেয়েটি তার দিকে তাকাল না। দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে অন্যমনস্কভাবেই বলল, হ্যাঁ খুঁজছি। একটা নেইলকাটার।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-