সম্প্রতি একটি ভিন্নধর্মী পেইজ চোখে পড়েছে, যেটি ভাইরাল হয়েছে এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। পেজের মালিক নাবিলা নামের একটি তরুনীর প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি পোস্টার বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে “নাবিলা জানো?” প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছবি তুলেছেন, হাতে লিখে শত শত চিঠির ছবি দিয়েছেন। পোস্ট পড়লে জানতে পারি, নাবিলা নাম্নী তরুনীর কাছে ভালবাসার প্রস্তাব দিয়ে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। মেয়েটির ভালবাসা পেতে তিনি এই কাজগুলো করছেন।

প্রচেষ্টাটি ব্যতিক্রমধর্মী,অভিনব ও চমকপ্রদ এতে সন্দেহ নেই। এমনও হতে পারে নাবিলা একটি কাল্পনিক চরিত্র। তবুও, এই প্রচেষ্টা ব্যাপক সাড়া তুলেছে, হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এই প্রচেষ্টাটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

দু:খের সাথে জানাচ্ছি, পুরো জিনিসটাই খুব বিচ্ছিরি লেভেলের হ্যারাসমেন্ট। ধরুন আপনার বোন কারো প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবার পর প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক হাজার হাজার পোস্টার ছাপালো, ফেসবুকে তার নামে পেজ খুলে প্রচার চালালো নিজের ভালবাসার কথা বলে। কেমন হবে ব্যাপারটা?

কেউ যদি না-ও চিনে, আসল নাবিলা যদি জানে যে তাকে নিয়ে এটা করা হচ্ছে এবং এতে সে হ্যারাস ফিল করে, শি ক্যান ফাইল আ কেইস।

আইনের দৃষ্টিতে এটা এক ধরণের অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য । “নাবিলা” যদি কেস করে বা অভিযোগ দেয়, প্রেমিক সাহেব বিপদে পড়বেন।

“কনসেন্ট” বা সম্মতির ধারণাটি আমাদের সমাজে নেই বললেই চলে। সিনেমাতেও দেখায়, না বলতে বলতে এক সময় হ্যাঁ বলে মেয়েটা। এই পুরো আইডিয়াটাই অপরাধমূলক। When a girl says no, it means no.

দয়া করে এইসব জোরাজুরি মার্কা ধারণাগুলো প্রমোট না করি প্লিজ!

লেখক- মাসরুফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ।

Comments
Spread the love