প্রথম তিনটে বল ডট, মুম্বাইয়ের সমর্থকেরা তখন উদযাপন শুরু করে দিয়েছেন। মুস্তাফিজের নামে দুয়েকটা স্লোগানও উঠছে বোধহয় গ্যালারিতে। কিন্ত চতুর্থ বলেই পাল্টে গেল চিত্রটা। ক্র‍্যাম্প নিয়ে মাঠে নামা কেদার যাদব একটা সুযোগ খুঁজছিলেন শুধু। সেই সুযোগটা চলে এলো চার নম্বর বলটায়। মাঝারি উচ্চতার ডেলিভারিটাকে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে হাওয়ায় ভাসালেন যাদব। বলটা মন্দ ছিল না, কিন্ত যাদব ছিলেন পুরোপুরি প্রস্তত। টাইমিংটাও হলো দুর্দান্ত। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অভিষেকটা স্মরণীয় হলো না ঠিক, পরাজিত দলের সদস্য হয়েই ছাড়তে হলো মাঠ।

আইপিএল নতুন কিছু নয় মুস্তাফিজের জন্যে। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলটা নতুন তার কাছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে এর আগে আইপিএল মাতিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, জিতেছেন শিরোপাও। গত মৌসুমে চোট কাটিয়ে ফেরা মুস্তাফিজ বেশীরভাগ সময় কাটিয়েছেন বেঞ্চে বসেই। এবারের নিলামে তার ঠাঁই হয়েছে শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাইতে। দুই কোটি বিশ ল্কষ রূপিতে তাকে দলে ভীড়িয়েছে মুম্বাই। আইপিএলের একাদশতম আসরের প্রথম ম্যাচেই মুম্বাইয়ের নীল জার্সি গায়ে চেন্নাই সুপারকিংসের বিপক্ষে নতুন দলের হয়ে অভিষেক হয়ে গেল তার।

মুম্বাই প্রথমে ব্যাটিং করায় বল হাতে নেয়ার জন্যে মুস্তাফিজকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত। দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে তিনি, প্রথম বলে চার মেরে তাকে স্বাগত জানালেন ওয়াটসন। শেষ বলে আরও একটা চার হাঁকালেন রাইডু। দুটোই কাভারের ওপর দিয়ে, দুটো বলই ছিল অফস্ট্যাম্পের বাইরে।

দ্বাদশ ওভারে আবার আক্রমণে এলেন, জাদেজার হাতে চারও হজম করলেন। তবে শেষ বলে তাকে আউট করে হিসেবটাও চুকিয়ে নিলেন ভালোভাবে। আইপিএল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো জাদেজাকে আউট করলেন মুস্তাফিজ, কাটার মাস্টার অমীমাংসিত একটা রহস্য হয়েই থেকে গেলেন জাদেজার কাছে।

আইপিএল, মুস্তাফিজুর রহমান, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

নিজের তৃতীয় ওভারটা ভালো যায়নি একদম। দুই চারে তেরো রান এলো এই ওভারে। অবশ্য বাকীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিঙে চেন্নাই তখন মোটামুটি হারের দ্বারপ্রান্তে। মুস্তাফিজকে চতুর্থ ওভারটা আর করতে হবে না বলেই মনে হচ্ছিল তখন। কিন্ত ডোয়াইন ব্রাভোর অতিমানবীয় ব্যাটিং ম্যাচে ফেরালো চেন্নাইকে। বল আর রানের ব্যবধানটা ঝড়ের বেগে কমিয়ে আনলেন ব্রাভো। উনিশতম ওভারের শেষ বলে যখন আউট হলেন, জয়ের জন্যে চেন্নাইয়ের শেষ ওভারে দরকার তখন মাত্র সাত রান!

সেই পটভূমিতেই মুস্তাফিজের আগমণ। রোহিত শর্মা ভরসা রাখলেন মুস্তাফিজে। না রেখেই বা কি করবেন, নিয়মিত বোলারদের সবার ওভারই শেষ ততক্ষণে। একটা উইকেট নিতে পারলেই জিতবে দল, এমন সমীকরণে জাদবের সাবধানী ব্যাটিং মুম্বাইয়ের তরী ভিড়তে দিলো না জয়ের বন্দরে। শেষ বলে কাভারের ওপর দিয়ে চার মেরে ছুটলেন যাদব, মুস্তাফিজ তখন পরাজিতের দলে। মুস্তাফিজের হাত থেকে বেরুনো ডেলিভারিটাও ভালো কিছু ছিল না, ম্যাচের অন্তিম মূহুর্তের বিচারে তো অবশ্যই নয়। ব্যাটের সামনে অমন সোজা একটা বল যাদব নিজেও আশা করেছিলেন কিনা কে জানে!

তিন ওভার পাঁচ বলে উনচল্লিশ রান, ঝুলিতে একটা উইকেট। ইকনোমি রেটটা নামের সঙ্গে মানানসই নয়। তবে শেষ বলটা বাদ দিলে মুস্তাফিজের বোলিং খারাপ হয়নি, অন্তত বোলিং ফিগার সেটা বোঝাতে পারছে না। কাটার ছুঁড়েছেন, স্লোয়ারে বিভ্রান্ত করেছেন ব্যাটসম্যানকে। ভালো বলেও বাউন্ডারি হজম করতে হয়েছে, মিসফিল্ডিঙে এসেছে রান। সবে তো যাত্রা শুরু হলো, পুরোটা টুর্নামেন্ট পড়েই আছে এখনও। মুম্বাইয়ের নীল জার্সি গায়ে আপন আলোয় আইপিএল রাঙাবেন মুস্তাফিজ, এমনটাই কামনা।

Comments
Spread the love