ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 387

এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-১

বাঙালি নিজের ইতিহাস জানে না। তবে বাঙালির উচিৎ নিজের ইতিহাসটা জানা। ইতিহাস পাঠে মানুষের মূল অনিহার কারণ ইতিহাসে রস নাই। এই সিরিজের লেখাগুলো আমাদের পড়া উচিত এজন্যই। একটাই লক্ষ্য, সহজ সরল সাধারণের ভাষায় বাংলার ইতিহাসের পাঠ। লেখক নিজের স্বভাব-সুলভ কথোপকথন আর রসবোধের ভেতর দিয়ে ইতিহাসটাকে উপভোগ্য করে তুলেছেন। আসুন ঘুরে আসি ইতিহাসের গলি ঘুপচিতে…

Ad

২৩ শে জুন ১৯৪৯ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সম্মেলন শেষ হয়। সভাপতি হলেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারন সম্পাদক শামসুল হক আর শেখ মুজিব হল একমাত্র যুগ্ম সম্পাদক!

খেলা কিন্তু শুরু!

এদিকে পুরান ঢাকার প্রভাবশালী মানুষ ইয়ার মোহাম্মদ খান, যার এক ডাকে মুহুর্তের ভেতর কয়েক’শ মানুষ জড়ো হয়ে যায়, সেই তিনিও আওয়ামি লীগে যোগ দিলেন। নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান সাহেব ১১ই অক্টোবর পূর্ব বাংলায় আসবেন! শেখ মুজিব ভাবেন, ওইদিন কিছু একটা করতে হইবোই!

শেখ মুজিব আলোচনা করে সভাপতি ভাসানীর সাথে, সাধারণ সম্পাদক শামসুল সাবের সাথে, কিন্তু সমর্থক তো খুব বেশী নাই! এইসব চিন্তা করতে করতে মুজিবের আর ঘুম হয় না, কিছু একটা করতে হবে, কিছু একটা করতেই হবে! ইয়ার মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মুজিব। কখনও বংশাল, কখনও নদীর ওপারে কামরংগীর চর।

ঘাম ঝরে যায় মুজিবের! না সে তবুও হাল ছাড়ে না, মুজিব যে হাল ছাড়ার পাত্র না। এই তো সকালে গেলেন সমসাবাদ, তো দুপুরে গেলেন গুলিস্থান, তারপর আবার রাত্রে যায় পলাশীর ওদিকে! হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্টে-শিষ্টে পুরান ঢাকার অনেকগুলো লোক এসে যোগ দেয় আওয়ামী লীগে, যারা বয়সে ব্যাপক তরুণ, তবে জীবন দিয়ে কাজ করতে চায়।

মুজিবও তাদের নিয়েই চোখবন্ধ করে ঢাকা শহর চাষাবাদ করে ফেলে।

মুজিবের কোন ভয়ডর নেই, ওস্তাদ ভাসানী তার পিছে আছে না!!

১১ই অক্টোবর ১৯৪৯, ভাসানী- হক-মুজিবের মিটিং।

আরমানিটোলায় কি সেদিন ভাসানীর কবিতা ফুটবে? নাকি হক সাবের যুক্তি উড়বে? নাকি মুজিবের ডাকে উড়তে শুরু করবে পূর্ব বাংলার প্রথম বলাকা!! প্রবল উত্তেজনার একটা সময়। আরমানিটোলায় মঞ্চ রেডি! অসংখ্য মানুষ! রাস্তায় মানুষ, ময়দান ভর্তি মানুষ, জায়গা না পেয়ে কিশোর ছেলেরা উঠেছে গাছের ডালে! পুরান ঢাকার সব ঘোড়ার গাড়ি গূলো চলে এসেছে।

এত্ত মানুষ ঢাকায়!!

তবে কি নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, বিক্রমপুর থেকেও মানুষ এসেছে?

ভাসানী- মুজিবরা জানেনা! ওরা বসে আছে মঞ্চে… বিকেলের সূর্য রশ্মি এসে প্রতিফলিত হচ্ছে ভাসানীর টুপিতে, আর দাড়িগুলো কইছে নানা স্বপ্ন! হক সাবের টুপিটাও আজ বুঝি একটু বেশীই চকচক করছে! মুজিবের চশমায় প্রতিফলিত আলো ছড়িয়ে পড়ছে সকল জনসভায়!! ভাসানী বললেন! শামছুল সাহেব বললেন! এবার পালা মুজিবের!! মুজিব মাইক্রোফোন ধরার আগে ভাসানী কইলেন-

“মজিবর শোভাযাত্রা করতে হইব, সেইভাবে বক্তৃতা দাও”

মুজিব বাধ্য ছাত্রের মত কইলেন জী হুজুর!! মুজিব মাইক হাতে নিয়া কয়-

“যদি কোন লোককে কেউ হত্যা করে, তার বিচার কি হবে?”

জনগনে কয়-

“ফাসী হবে!”

মুজিবে কয়-

” যারা হাজার হাজার লোকের মৃত্যুর কারন,তাদের কি হবে?”

জনগনে কয়-

“তাদেরও ফাসী হবে!”

মুজিবে কয়-

“না, তাদের গুলি করে হত্যা করা উচিত!!”

মুজিব বক্তৃতা শেষ করে বললেন-

“চলুন আমরা মিছিল করি এবং লিয়াকত আলী খান দেখুক পূর্ব বাংলার লোক কি চায়!!!!”

 

(চলবে…)

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad