সিনেমা হলের গলিহেঁশেলের খোঁজ-খবরাদি

যে সিনেমাগুলো ভোজনরসিকদের ভীষণ আনন্দ দেবে!

আমাদের দেশে খেতে ভালবাসেন এমন মানুষের সংখ্যা জানতে চাইলে শুধু ফুড সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে একটু ঢুঁ মারলেই বোঝা যায়। মাশাআল্লাহ্‌ রুচিও আছে আমাদের! প্রতিদিন কয়েকশ রিভিউ জমা পড়ে গ্রুপগুলোতে। তাছাড়া, শুধুমাত্র স্ট্রিট ফুড বিজনেস করে অনেক ছেলে-মেয়ে আজ অনেক সফলও বটে। এমন কি ক্লোজআপ কাছে আসার গল্পে এবার প্রেমের সাথে স্ট্রিট ফুডের কানেকশন জড়িয়ে তাহসান-মিমের করা নাটক সুপারহিটও হয়েছে!

আমাদের মধ্যে খাবার ভালবাসেন না, এমন মানুষ কি কেউ আছেন? মনে হয় না! আচ্ছা, এমন কে কে আছেন, যারা খেতে যেমন ভালোবাসেন, ঠিক তেমনি মুভি দেখতেও ভালোবাসেন? ভাবছেন এই দুটোর মাঝে সম্পর্ক কি? সম্পর্ক আছে। সেই অসাধারণ ‘রসায়ন’ নিয়েই তো এই লেখাটা! আজ আমি সেই মুভিগুলোর নাম বলব যেগুলো খাদ্যরসিক মানুষদের ভীষণ আনন্দ দেবে। কে জানে এই মুভিগুলো দেখার পর আপনার মাঝেই নতুন কোন পরিকল্পনা ঢুকে গেলেও যেতে পারে!

Chocolat

এই মুভিটার মধ্যে যেই বিষয়টি আমার সব চেয়ে বেশি ভাল লেগেছিল, তা হলো চকলেট হতে পারে একটি অস্ত্র। জি, ঠিক ধরেছেন যুদ্ধের নতুন এক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল চকলেটকে। আর সেই যুদ্ধতে জয়ী হয়েছিল তারাই, যাদের কাছে চকলেট ছিল অস্ত্র হিসেবে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের বলতে চাই, ‘সাথে চকলেট রাখুন, অনেক যুদ্ধ হয়েও হবে না হয়তো’! মুভিটা দেখে বাকিটা বুঝে নিবেন। অল্প বাজেটের এই মুভি আয় করেছিল ইনভেস্টমেন্টের প্রায় ৫ গুণ। জনি ডেপের দুর্দান্ত অভিনয় তো সবসময়ই বরাদ্দ। 

Chef

আমার খুব ভালো লাগতো যদি আমি শুধু এই মুভিটা নিয়েই একটি পোস্ট লিখতে পারতাম। মুভিটার নাম শুনে আপনি হয়তো ভাবছেন, কোন বাবুর্চি যে কিনা রান্নাবান্না করে, এই নিয়েই মনে হয় মুভিটি। এটা ঠিক একজন শেফকে নিয়েই এই মুভি। নতুন নতুন রান্না একজন মানুষের প্যাশন, আর সেই মানুষ কীভাবে প্যাশনকে পুঁজি করে নিজের স্বপ্নের দিকে ছুটে চলেছিলেন তার ছেলেকে নিয়ে, তাই দেখবেন এই সিনেমায়। আর বাকিটুকু না হয় দেখেই জেনে নেবেন! তবে ভয় হচ্ছে ভোজনরসিকেরা এই মুভি দেখার পর চাকুরী ছেড়ে দিয়ে না জানি খাবারের ব্যবসায় নেমে যান! নামতে পারেন, তবে আমাকে ফ্রি খাওয়াতে হবে ভাই!

Ustad Hotel 

ওস্তাদ হোটেল মুভিটা দেখার আগে আমি আসলে একটু দ্বিধান্বিত ছিলাম এই সাউথ ইন্ডিয়ান (মালায়ালাম) মুভি কীভাবে বুঝব, যার কোন সাবটাইটেলই নেই। কিন্তু এক বন্ধু বলল, ‘তোর ভালো না লাগলে আমি তোরে নান্নার বিরিয়ানি খাওয়াব’! ভাবলাম বেচারা যখন বললোই, তাহলে দেখি। আর ভালো লাগলেও ‘ভালো লাগে নাই, এখন খাওয়া’ বলে  চালিয়ে দেব। মুভিটা দেখতে বসে ১৫ মিনিট পর থেকেই আর উঠতে পারলাম না। শেষের কিছু দৃশ্য দেখে আপনার চোখ ভিজে যাবেই। আর পুরো মুভিতে একটু পরপরই জিভে জল আসবে কথা দিচ্ছি। পুরো মুভিতে আমার মনে হয়েছে ইন্ডিয়ান ট্র্যাডিশনাল ফুডকে একটি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাই হোক, সব কিছু বলে দিলে আর মুভি দেখে মজা পাবেন না। আজই দেখে ফেলুন ওস্তাদ হোটেল। আর হ্যাঁ, আমার আর আমার বন্ধুর খাওয়া দাওয়া হয়েছিল মুভি দেখার পর,  বিলটা আমি দিয়েছিলাম এই যা।

Big Night

দুই ভাইকে নিয়ে তৈরি মুভি বিগ নাইট। দুই ভাইয়ের দুটি গুণ; একজন প্রিমো যে কিনা আমেরিকান মশলা দিয়ে ইটালিয়ান খাবার তৈরি করতে পারে, আর আরেক ভাই সেকেন্ডো যে কিনা ব্যবসা বোঝায় বেশ পটু। তাদের খাবারের একটা সুন্দর নাম ছিল, ‘Americanized Italian Food’। তাদের এই প্রতিভা দেখে তাদের আঙ্কেল রোমে একটা রেস্টুরেন্ট খুলে দিলো দুই ভাইকে। কিন্তু কেন জানি রোমে তাদের এই খাবার কেউ ভালোভাবে নিলো না। ব্যবসা ফ্লপ। কী করবে দুই ভাই? বাকিটা না হয় মুভিতেই দেখলেন! 

Un Samayal Arayil

দক্ষিণ ভারতের কাঁপানো মানুষ, যাকে বলিউডের সবাই চেনে ভিলেন হিসেবে- সেই প্রকাশ রাজ নিজে এই ছবির পরিচালক। ছবিটি দেখতে হলে আপনাকে খুব ঠাণ্ডা মাথায় বসতে হবে। এই ছবিটি একই সাথে রোম্যান্টিক, প্লাস কিছুটা কমেডিকও বটে। এক কথায় রোম্যান্টিক কমেডি উইথ খানাপিনা! ভাবছেন রান্নার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? এই মুভি দেখে একটা জিনিস শিখবেন- মানুষ রুপ ভালোবাসে, গুণ দেখে ভালবাসে; কিন্তু খাওয়ার রুচি বা পছন্দও ভালো লাগার একটা কারণ হতে পারে! কথা দিচ্ছি ভালো লাগবে।

অনেকেই হয়তো বলবেন, “আরে ভাই, এই ৫টা মুভির চেয়েও ভালো মুভি ছিল। কিন্তু দিলেন এই ৫টা, নিশ্চয় টাকা খাইছেন!” তাদের জন্যে বলছি, “ভাই, আমি এই কয়টায় দেখেছি। আপনিও যদি দেখে থাকেন, তাহলে কমেন্ট করেন, আমরাও দেখি। ৩০০ ফিট, ধানমণ্ডি, শ্যামলী স্কয়ার বা খিলগাঁও গিয়ে খাবার খেলেই হবে না, খাবার রান্না করে খাওয়াতে হবে। যারা যারা এই পোস্ট পড়ে মজা পাবেন, আমার জন্য চকলেট পাঠাবেন। আর খারাপ লাগলে লেখাটা শেয়ার করে সবাইকে বলবেন, “কী ফালতু লিখা, জীবনেও এমন ফালতু লেখা দেখি নাই!”

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close