খেলা ও ধুলা

স্পেশাল ওয়ান থেকে ব্যর্থ একনায়ক!

‘দ্য ডার্ক নাইট’ ছবির একটি বহুল-চর্চিত সংলাপ হলো, “You either die a hero or you live long enough to see yourself turn into a villain.” ফুটবল দুনিয়ায় এই কথাটি সবচেয়ে বেশি সঙ্গতিপূর্ণ যে ব্যক্তির সাথে, তিনি কোনো ফুটবলার নন। তিনি একজন ম্যানেজার। তিনি হোসে মরিনহো, এক সময়কার ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’।

প্রথমবার যখন তিনি চেলসির ম্যানেজার হয়ে প্রিমিয়ার লিগে এলেন, তার ভেতর থেকে এমন এক আত্মবিশ্বাসের ফুলকি ঠিকরে বেরোচ্ছিল, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তিনি যখন নিজেই নিজের নামের সাথে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খেতাব জুড়ে দিলেন, অনেকেই তাকে বলেছিল অহংকারী, দাম্ভিক। তবে অহংকার বা দম্ভ যেটিই বলুন না কেন, সেটিকে ব্যাক-আপ দেয়ার মত যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র তখনও তার আর্সেনালে যথেষ্ট পরিমাণে মজুদ ছিল। পোর্তোকে চ্যাম্পিয়নস লিগে জিতিয়ে চেলসিতে এসেছিলেন তিনি, এবং যখন তিনি ব্লুজদের দায়িত্ব ছাড়লেন, তার নামের সাথে ততদিনে যোগ হয়ে গেছে দুইটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও।

তার পরবর্তী গন্তব্য ছিল ইটালি। কেউ যদি ভেবে থাকেন যে ইংল্যান্ডে যে ট্যাকটিকসের জোরে তিনি সফলতা পেয়েছিলেন, ইটালিতে বুঝি তা সম্ভব হবে না, তাহলে তারা নিতান্তই বোকার স্বর্গে বাস করছিলেন। দেখা গেল, মরিনহোর ট্যাকটিকস আসলে ইটালিয়ান ফুটবলের সাথেই সবচেয়ে বেশি মানানসই। আর তাই ইন্টার মিলানের সাথে থাকাকালীনই মরিনহো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন সর্বকালের সেরা ম্যানেজারদের একজন হিসেবে। আর সেক্ষেত্রে জ্বালানীর জোগান দেয় ২০১০ সালে নেরাজুরিদের হয়ে এক অভূতপূর্ব ট্রেবল জয়।

তত দিনে বিশ্ব ফুটবলে এমন মানুষ খুব কমই আছে, যারা মরিনহোর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভিন্নমত পোষণ করবে। বরং ফুটবলে যে চলছে মরিনহোর একাধিপত্য, সে-কথা কায়মনোবাক্যে স্বীকার করে নিতে প্রস্তুত ছিল সকলেই।

কিন্তু এরপরই এলো রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ডাক। ইতিমধ্যেই নিজের সুপ্রতিষ্ঠিত লিগ্যাসিকে আরও ভারি করে তোলার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল মরিনহোর সামনে। কিন্তু কথায় আছে না, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট! মরিনহোর বেলায়ও যেন হলো ঠিক তা-ই। তিনটি বছর গ্যালাকটিকোসদের ম্যানেজার হিসেবে থেকে তিনি জেতেননি কিছুই, সেটি বোধহয় অত্যুক্তি হয়ে যাবে। তবে এ কথা সম্পূর্ণ সত্য যে যা তিনি জিতেছিলেন, হারিয়েছিলেন তার থেকে অনেক দামি একটি জিনিস। সেটি হলো শ্রদ্ধা। ড্রেসিংরুমের প্রভাবশালী সিনিয়র খেলোয়াড় থেকে শুরু করে নামজাঁদা ফুটবলবোদ্ধা, কিংবা নিতান্তই সাধারণ ফুটবলপ্রেমী দর্শক, সকলেরই চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। এবং রিয়ালে থাকাকালীনই প্রমাণ মিলতে শুরু করে, যত গর্জে তত আসলে বর্ষে না।

স্পেনে সুবিধা করতে না পারলে কী হয়েছে, ইংল্যান্ডে চেলসির হয়ে তো মরিনহোর সাফল্য প্রমাণিত সত্য। এখানে এলে সাফল্য যেমন অবধারিত, তেমনি সুযোগ রয়েছে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার – এমন চিন্তা থেকেই বুঝি আবারও চেলসিতে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার লাভ হয়নি কোনো। তৃতীয় মৌসুমেই দেখা গেল দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের সাথেই তার সমস্যা, কারও সাথেই ঠিকঠাক বনিবনা হয় না, ড্রেসিংরুমের অবস্থা উত্তপ্ত। এবং পরিশেষে মৌসুমের মাঝপথেই বহিষ্কৃত হতে হলো তাকে।

২০১৬ সালে, লুই ফন গালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মরিনহো আসেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ঠিক সেই দলটিতেই, যাদের সাথে ইতিপূর্বে তার ছিল সাপে-নেউলে সম্পর্ক। এবং এখানেও, দুইটি মৌসুম পুরোপুরি পার করার আগেই, তার সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে আরও একবার বহিষ্কৃত হওয়া তার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র!

খুব গভীরভাবে না, মরিনহোর কোচিং ক্যারিয়ারকে নিতান্তই ভাসাভাসাভাবে বিশ্লেষণ করলেও কারও বুঝে নিতে অসুবিধা হবে না যে, গ্যালাকটিকোদের ম্যানেজার হওয়াই কাল হয়েছিল তার জন্য। এবং সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় এতটাই প্রভাব ফেলেছিল তার জীবনে যে, তার গোটা জীবনকেই এখন চাইলে দুইটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ রিয়াল মাদ্রিদের আগে এবং রিয়াল মাদ্রিদের পরে।

রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের পূর্বে তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসে টগটগ করতে থাকা এমন একজন ম্যানেজার, যিনি খুব সহজেই তার দলের অস্থিমজ্জায় জয়ের ইতিবাচক মানসিকতা গেঁথে দিতে পারতেন। একদিকে তার ট্যাকটিকাল মুনশিয়ানা তো ছিলই, সেই সাথে দলের সব খেলোয়াড়কে একাট্টা করে খেলার মাঠে সেইসব ট্যাকটিকসের সফল প্রয়োগ সুনিশ্চিত করে জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকেই এই সত্য দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, মরিনহো কোনো ‘মিডাস’ নন, তিনি ছুঁয়ে দিলেই যেকোনো বস্তু সোনায় রূপান্তরিত হবে না।

এবার চলুন, একটু গভীরে গিয়েই বিষয়গুলোর সার্বিক পর্যালোচনা করে দেখি। মরিনহো তার ‘প্রথম’ ও ‘সফল’ জীবনে যেসব দলের সাথে সাফল্য পেয়েছেন, খেয়াল করে দেখবেন, সেগুলোর কোনোটিই কিন্তু হয় ঐতিহাসিকভাবে খুব বেশি ঐতিহ্যশালী ছিল না, কিংবা সাম্প্রতিক অতীতে সেসব দলকে খুব একটা প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হতো না।

হতে পারে এফসি পোর্তো পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্লাব, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় ফুটবলের মানচিত্রে তাদের অবস্থান কখনোই আহামরি কিছু ছিল না। অন্যদিকে মরিনহো দায়িত্ব নেয়ার আগে, চেলসিও ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে মাত্র একবারই শিরোপা জিততে সমর্থ হয়েছিল।

এবং এরপর যদি ধরেন ইন্টার মিলানের কথা, তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই ঠিকই, পাশাপাশি এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে মরিনহো যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তারাও ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর একটি ছিল না। কালপিওচলি (২০০৬ সালে ইটালির ফুটবল স্ক্যান্ডাল) পূর্ববর্তী সময়ে তাদের অবস্থা বেশ খারাপ ছিল, এবং মরিনহোর আগমনের পূর্বে তিন মৌসুম তারা ঘরোয়া শিরোপা জিতেছিল কেবলই কালপিওচলির কারণে জুভেন্টাসের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায়। এবং সেই সময়েও, রবার্তো মানচিনি কোনোরকমে তাদেরকে ২০০৭-০৮ মৌসুমের সিরি-এ জিতিয়েছিলেন, আর তা সত্ত্বেও মৌসুম শেষে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সর্বশেষ তারা ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বও জিতেছিল সেই ১৯৬৫ সালে।

সুতরাং এই পর্তুগিজ এমন একটা সময়ে ইন্টারে এসে হাজির হয়েছিলেন যখন ঘরোয়া ফুটবলে তাদের কোনো প্রতিযোগিতাই ছিল না, আর ইউরোপীয় ফুটবলে ছিল না সম্মান।

যখন একটি দলকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট মাত্রার উন্মাদনা থাকে না, তখন তাদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদও খুব বেশি উর্ধ্বমুখী থাকে না, আর সে-কারণে সেই দলের খেলোয়াড়দের ম্যানেজ করতে খুব একটা চাপে পড়তে হয় না। বিশেষত, বড় দলের খেলোয়াড়দের ইগোও অনেক বড় থাকে বলে, তাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে ম্যানেজারদের একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে হয়। কিন্তু ছোট দলগুলোতে ম্যানেজারই সর্বেসর্বা, তার উপরে কোনো কথা হবে না। পোর্তো, চেলসি বা ইন্টার মিলানের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এই স্বাধীনতাটাই মরিনহো পেয়েছিলেন, এবং সেই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহারও তিনি করেছিলেন।

মরিনহোর দুঃসময় উপনীত হয় লস ব্লাংকোসে গিয়েই। মাদ্রিদ ওই সময় হয়ত দীর্ঘ আট বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা খরায় ভুগছিল। কিন্তু তারপরও তাদের সম্মান কখনও এতটুকুও ম্লান হয়নি, এবং একটানা ব্যর্থতার পরও প্রতি বছর তাদেরকেই শিরোপার যোগ্য দাবিদার বলে মনে করা হতো।

বার্নাব্যুতে মরিনহো এমন একটি ড্রেসিংরুমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন যেখানে ছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস, যিনি মরিনহোর আগমনের পূর্বেই মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন; সার্জিও রামোস, যিনি যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১০ সালে ইকার ক্যাসিয়াসের নেতৃত্বেই স্পেনের হয়ে ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতেছিলেন; এবং আরও ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যার ব্যাপারে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজনই নেই।

অল্প কথায় বলতে গেলে, মাদ্রিদ ছিল অসংখ্য বড় বড় নামের ভারে ন্যুব্জ একটি দল। এবং সেখানে নিজের তৃতীয় মৌসুমে এসেই বড় অসহায় হয়ে পড়েন মরিনহো। দলের সেই সময়কার অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক, ক্যাসিয়াস ও রামোস দুইজন তার বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন। তিনি পাশে পান না দলের সবচেয়ে বড় তারকা রোনালদোকেও।

চেলসিতে দ্বিতীয়বার ম্যানেজার হয়ে এসেও অভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হন মরিনহো। প্রথম দফায় যখন তিনি ব্লুজদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি নিজ হাতেই একেবারে আনাড়ি একটি দলকে নিজের মত করে ঢেলে সাজিয়েছিলেন, ঠিক যেভাবে মাটির মূর্তি গড়ে তোলেন কুমোরটুলির শিল্পীরা। কিন্তু ২০১৩ সালে যখন দ্বিতীয়বার সেই ক্লাবের দায়িত্ব নিলেন তিনি, ততদিনে বদলে গেছে তাদের পৃথিবী। লন্ডনের দলটি ইতিমধ্যেই একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয় করে ফেলেছিল, আর এখন তাদের জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড়ও। তাই এখানেও খেলোয়াড়দের সাথে মনস্তুত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তৃতীয় মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যায়েই বিদায় বলতে বাধ্য হন তিনি।

এবং ঠিক এই মুহুর্তেও, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তার তৃতীয় মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যায়ে, মরিনহোর সাথে বিবাদের গুঞ্জন রয়েছে বেশ কিছু বড় বড় খেলোয়াড়ের। যে দলে ম্যানেজার আর খেলোয়াড়দের মাঝেই একটি দূরত্ব থেকে যায়, খেলার মাঠেও সেই দূরত্বের প্রতিফলন দেখা যায়। ঠিক যেমনটি দেখা যাচ্ছে রেড ডেভিলদের খেলায়ও।

এখন মরিনহোর উপর্যুপরি সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গেলে যে জিনিসটি প্রতীয়মান হয় তা হলো, তার অত্যধিক পরিমাণের ইগো। খেলার মাঠে পারফর্ম করেন যেইসব খেলোয়াড়রা, তাদের মাঝে যে কিছুটা ইগো থাকবেই, সেটি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন প্রকৃত ম্যানেজারের কাজই তো হলো খেলোয়াড়দের সেইসব জিনিসগুলোকে নিজের মত করে ‘ম্যানেজ’ করা। কিন্তু যেখানে ম্যানেজারের নিজের ইগোই সবচেয়ে বেশি, সেই দল কি কখনও সাফল্য লাভ করতে পারে?

আরেকটি ব্যাপার হলো, মরিনহোর অতিরিক্ত নার্সিসিস্টিক মনোভাব। খুব বেশি পরিমাণে আত্মপ্রেমে মগ্ন থাকেন তিনি। মনে করেন পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই সঠিক। তার উপরে আর কারও অবস্থান থাকতে পারে না। অর্থাৎ একাধারে তিনি সুপেরিয়রিটি কমপ্লেক্সেও ভোগেন। যতদিন পর্যন্ত নিজেকে ‘স্পেশাল ওয়ান’ বলে কাজেও সেটির সাক্ষর রাখতে পেরেছেন, ততদিন এগুলো কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন যেহেতু তিনি কাজে নিজের স্পেশালিটি বজায় রাখতে পারছেন না, তাই সংবাদমাধ্যমে এসে বলা তার আত্মম্ভরি কথাগুলো সবই কৌতুকের মত শোনাচ্ছে।

তাই ভবিষ্যতেও সফল ম্যানেজার হিসেবে নিজের রেপুটেশন অক্ষুণ্ণ রাখার আগে, মরিনহোর প্রয়োজন নিজের মানসিক সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে ওঠা। অন্যের উপর ছড়ি ঘোরানোর নামই যে কর্তৃত্বপরায়ণতা নয়, এই সত্যটি অনুধাবন করা। আর সেক্ষেত্রে তিনি অনুসরণ করতে পারেন স্বয়ং স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দৃষ্টান্ত। স্যার অ্যালেক্স ডেভিড বেকহাম ও রুড ফন নিস্টলরয়ের সাথে বিবাদ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। তাই তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিলেন রোনালদো ও ওয়েইন রুনিকে সামলানোর ক্ষেত্রে। এবং তাতে সফলও হয়েছিলেন। বিশ্বকাপে প্রচন্ড বিবাদে জড়িয়ে পড়া রোনালদো ও রুনি স্যার অ্যালেক্সের অধীনে ঠিকই পাশাপাশি খেলে যেতে পেরেছেন।

মরিনহোর বুঝতে হবে, এমনকি স্যার অ্যালেক্সও দুই যুগের বেশি ওল্ড ট্রাফোর্ডের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে থাকার পরও, স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি। তাই তো তারকা খেলোয়াড়রা কোনোপ্রকার ব্যক্তি-সংঘাত ছাড়াই খেলেছেন তার অধীনে। এবং এই একই কাজে সফল হয়েছেন জিনেদিন জিদানও। টেকনিক্যালি জিদানকে সাউন্ড বলবে না কেউই। কিন্তু তারপরও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পেরেছেন কেবল এজন্যই যে তারকা খেলোয়াড়রা সবাই তার প্রতি অনুগত ছিলেন, আর সবার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে পেরেছিলেন তিনি।

এইসব উদাহরণ মেনে, এখনই মরিনহোর জন্যও উপযুক্ত সময় নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু অতি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার। নতুবা একসময় তিনি নায়ক থাকলেও, ফুটবল থেকে তার প্রস্থানটি হবে খলনায়ক হিসেবেই।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close