“অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ। কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না। যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্য আটকাতো না। আমার নিজস্ব একটা নদী আছে, সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে। কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।”

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা অনেকেরই আছে। বাংলাদেশে খুব কম মানুষ রয়েছে যারা হয়তো পাহাড় ভালোবাসে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ পাহাড়, ট্রেকিং, হাইকিং- এসব করতে খুব বেশী আনন্দ পায়। মাসে একবার পাহাড়ে না গেলে যেন তাদের হয়ই না। কিন্তু একদমই যারা পাহাড় চড়েনি, তারা কি কখনোই পাহাড় দেখতে যাবে না? অবশ্যই না। তাদের জন্য আজকের লেখা- পাহাড়ে চড়ার আগে কী কী প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হবে।

পাহাড় চড়া খুব সহজ কাজ নয়। এতে প্রয়োজন হয় অনেক সাহস, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও সাহস। তাই যদি ভেবে থাকেন যে পাহাড় দেখতে যাবেন, তাহলে আগের থেকেই মনে অনেক কেজি শক্তিধারণ করে রাখবেন! কারণ আমরা সমতল ভুমির মানুষদের জন্য বড় বড় পাহাড় চড়া চাট্টিখানি কথা নয় যে, বললাম আর উঠে গেলাম। তাই পূর্ব প্রস্তুতি আবশ্যক।

১। প্রথমেই যা করতে হবে তা হচ্ছে বেশী বেশী হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ ট্রেকিং ও হাইকিংয়ে সবচে বেশী হাঁটতে হয়। আর হাঁটার রাস্তাও খুব একটা সহজ নয়। আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু পথ পেড়িয়েই আপনি দেখতে পারবেন সবচে আকর্ষণীয় দৃশ্য। পাহাড়ের উপর থেকে সূর্য ওঠা বা সূর্য ডোবা দেখতে চান, কিন্তু একটু কষ্ট করবেন না তা কি হয়?

২। হাঁটার সাথে সাথে কিছুদিন একটু অতিরিক্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার অভ্যাসটিও করে ফেলুন। সঙ্গে যদি একটু ওজন নিয়ে চেষ্টাটা করেন, তাহলে আরও ভালো।

৩। যেকোনো ট্যুরেই ব্যাগ নেয়া আবশ্যক বিষয়। কিন্তু পাহাড় চড়ার ক্ষেত্রে ব্যাগ নির্বাচন করাটা অন্য সব ট্যুরের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনাকে পানি, শুঁকনো খাবার সঙ্গে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্যাগপ্যাক নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে আপনার দুহাত খালি থাকবে।

৪। ভালো গ্রিপ হয় এমন জুতা কিনে নিবেন আগেই। এতে পাহাড়ে উঠতে অনেক সুবিধা হবে। একটা সময় আসে যখন পা একদমই সঙ্গ দিতে চায় না। তখন গ্রিপওয়ালা জুতা জোর করে হলেও আপনার পা টেনে ওঠাবে।

৫। ওডোমোস, গ্লুকোজ, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে রাখবেন। কারণ পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ খুব বেশী। অবশ্যই নখ কেটে যাবেন।


ছবিঃ সংগৃহীত

৬। আমরা যখন চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়েছিলাম তখন সঙ্গে খেজুর নিয়েছিলাম। কারণ খেজুরে রয়েছে অনেক শক্তি, যা নিমিষেই আপনার দুর্বলতা কমিয়ে দিবে। দুইটি খেজুর খেয়ে আপনি সারাদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন।

৭। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি নেবেন। আরও ভালো হয় যদি স্যালাইন নিয়ে যান। পাহাড়ের ওঠার সময় অনেক দুর্বল লাগে, মাথা ঘুরায়- তখন স্যালাইন খেলে ভালো লাগবে। কিন্তু অল্প করে পানি খাবেন। বেশী পানি খেলে শরীর ছেড়ে দিবে, তখন আর উপরে উঠতে পারবেন না।

৮। পাহাড় ওঠার টাইম অবশ্যই লাঠি কিনে নেবেন। এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করবেন না। বিপদআপদ এড়াতে লাঠি অনেক কাজে আসে। এরই সাথে উপরে ওঠার একটা সাপোর্টও পাওয়া যায়।

৯। আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক সঙ্গে নেবেন।

১০। যতটা সম্ভব হয় ব্যাগ ততটা হালকা রাখবেন। এবং ওঠার সময় খুব দ্রুত ওঠার চেষ্টা করবেন না এবং নামার সময়ও দ্রুত নামার চেষ্টা করবেন না। এতে করে বিপদ হতে পারে। জীবনের চাইতে বড় আর কিছু হতে পারে না।

পরিশেষে বলবো পাহাড় চড়া একটা নেশা। একবার যে ব্যক্তি পাহাড় চড়বে তাকে আর কেউ থামাতে পারবে না আরেকটি পাহাড় চড়তে। এটি অনেকটাই ভাত খাওয়ার ক্ষুধার মতো। যে ব্যক্তি পাহাড় দেখলো না তার যেন এই পৃথিবীর মায়াটাই জানা হলো না!

Memories made in mountains stay in our hearts forever.

হ্যাপি ট্রাভেলিং!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-