অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

এবার মানিব্যাগ চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলো পাকিস্তানী সচিব!

জাতিগতভাবে ভয়ংকর নৃশংস এবং নির্দয় পাকিস্তানীরা দুর্নীতি ও চুরিতেও সিদ্ধহস্ত। নৈতিকভাবে চরম অধঃপতিত পাকিস্তানীদের মধ্যে সততা, নৈতিক মূল্যবোধ কিংবা ন্যুনতম শুভবুদ্ধি খুবই বিরল ব্যাপার। সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও নানা সময়ে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে উদ্ভটভাবে ধরা পড়েছে। এমনকি তাদের আমলারাও যে এইসব চুরি-চামারিতে পিছিয়ে নেই, তা আরেকবার প্রমাণ করে দিল পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ এক সচিব।

খুব হাস্যকর এবং ছ্যাচড়া এক চুরি করতে গিয়ে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়েছে সে।কুয়েত থেকে বৈদেশিক বিনিয়োগ  বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আসা এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের মানিব্যাগ মেরে দিয়েছে এক পাকিস্তানী আমলা! ঘটনাটা ঘটেছে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রণালয়ের ভবনে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সভার সময়। সেটা একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়! এই কেলেংকারী নিয়ে আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান,আরেকবার মাথা হেঁট হয়েছে তাদের।

পাকিস্তানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিল কুয়েতের প্রতিনিধি দলটি। পাকিস্তানের শীর্ষ ২০ জন আমলা আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। আলোচনা শেষে কুয়েতি প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ভুল করে দিনার ভর্তি মানিব্যাগ আলোচনার টেবিলে ফেলে চলে যান। একটু পর মানিব্যাগ খুঁজে না পেয়ে নানা জায়গায় খোঁজার এক পর্যায়ে  সরকারিভাবে তা নিয়ে অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। এরপরই আসরে নামে পাকিস্তান সরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের যে হলে চলছিল বৈঠক, সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। হলে উপস্থিত অধস্তন কর্মীদেরও জেরা করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু মানিব্যাগের কোনও খোঁজ মেলেনি। তখন খতিয়ে দেখা হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ। ব্যস, সবার ছানাবড়া চোখের সামনে ফাঁস হয় বিচিত্র আর উদ্ভট এই চুরি!

ছয় সেকেন্ড ঐ ভিডিও ফুটেজটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে অনলাইনে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জনশূন্য রুমে ঢুকে পাকিস্তানী ঐ সচিব টেবিলে পড়ে থাকা মানিব্যাগটি সাবধানে পকেটে ঢূকিয়ে ফেললো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই আমলা পাকিস্তান অর্থমন্ত্রণালয়ের গ্রেড ২০ পর্যায়ের সচিব জারার হায়দর খান। যদিও নির্ভরযোগ্য ভিডিও ডকুমেন্টস থাকার পরেও সচিব প্রথমে চুরির কথা স্বীকার করেনি। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত সে মানিব্যাগটি ফেরত দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় উচ্চপদস্থ এই আমলার এ হেন কেলেঙ্কারির ছবি সামনে আসায় মাথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাথা হেঁট হয়েছে পাকিস্তানের। নিন্দার ঝড় উঠেছে পাকিস্তান জুড়ে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দোষী সাব্যস্ত হলে, ওই আমলাকে শাস্তি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশের নাম ডোবানো এই আমলার শাস্তি আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে!

ভারতীয় জিনিউজ পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে মজা করে লিখেছে যে, যদিও কুয়েতি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে গিয়েছিল বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে, কিন্তু ওই আমলাকে দেখে মনে হলো, তিনি ধৈর্য্য ধরতে পারছেন না, কুয়েতিদের কাছ থেকে কিছু দিনার খসিয়ে নিতে হবে তাকে! পাকিস্তানী ডন পত্রিকার খবুর অনুযায়ী জানা যায়, মানিব্যাগ হারাবার খবর শুনেই কুয়েতি ডেলিগেশন টিম প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অপরাধীকে অবিলম্বে চিহ্নিত করা দাবী প্রত্যাখাত হয়। অর্থাৎ পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ শুরুতে মানিব্যাগটি খুঁজে বের করে দিতে আগ্রহী ছিল না। খুঁজে বের করে দেওয়ার বদলে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ বারবার বলছিল যে তারা এই ব্যাপারে তদন্ত করে পরে জানাবে। কিন্তু পরবর্তীতে কুয়েতি প্রতিনিধি দলের চাপে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করতে বাধ্য হয় এবং সেখানে বেরিয়ে আসে পাকিস্তানী শীর্ষপর্যায়ের আমলার এই হাস্যকর এবং চরম লজ্জাজনক চুরির চিত্র!

আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানী ইনফরমেশন মিনিস্টার ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান ব্যাচের আমলারা আসলে গত সরকারের আমলেই এই চুরির শিক্ষা পেয়েছে। অর্থাৎ এই চুরির দায় ইমরানের বর্তমান সরকারের না। ওই ঘটনায় জড়িত আমলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার এই বক্তব্যও সমালোচিত হয়েছে নানা জায়গায়।

তবে এই পুরো ব্যাপারে আমার সবচেয়ে বেশি উদ্ভট লাগছে এই আমলার চিন্তাভাবনা দেখে। কতটা আহাম্মক ছাগল হলে পুরো মন্ত্রণালয় সিসিটিভির আওতায় আছে জানার পরেও নির্বিকার চিত্তে সে এই চুরিটা করতে পারলো? সে কি ভুলে গিয়েছিল যে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে? নাকি কুয়েতি দিনারের লোভে সে ন্যুনতম কমনসেন্সটাও হারিয়ে ফেলেছিল? কি জানি, পাকিস্তানী মারখোরদের নিখাদ ছাগলামী বোঝা বড় দায়!

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close