‘বাঙালি’ বলতে যে বিশেষ গুণগুলো আমাদের চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়, সেগুলোর উৎপত্তি কোথায়? নিঃসন্দেহে একটি জাতি একদিনে গড়ে ওঠে না, হাজার হাজার বছরের ঘাত-প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে একটি জাতির নিজস্ব স্বরূপ তৈরি হয়, গড়ে ওঠে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। বাঙালি জাতিও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বাঙালির যে বিশেষ সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের সামনে বিদ্যমান, সেগুলোর উৎপত্তি কোথায়? বাঙালি জাতিকে অনন্য মর্যাদায় নিয়ে যাওয়ার পিছনে যে মানুষটির অবদান সব থেকে বেশি বলে ধরা হয়, যে মানুষটিকে ছাড়া বাঙালি জাতির পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যায় সেই মানুষটি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কী ভাবতেন এই বাঙালি জাতির ‘অরিজিন’ সম্পর্কে?

“বর্তমান বঙ্গ সমাজের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছেন রামমোহন রায়। আমরা সমস্ত বঙ্গবাসী তাঁহার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী, তাঁহার নির্মিত ভবনে বাস করিতেছি। তিনি আমাদের জন্য যে কত করিয়াছেন, কত করিতে পারিয়াছেন, তাহা ভাল করিয়া আলোচনা করিয়া দেখিলে তাঁহার প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি ও স্বজাতির প্রতি বিশ্বাস জন্মিবে। আমাদিগকে যদি কেহ বাঙালি বলিয়া অবহেলা করে আমরা বলিব, রামমোহন রায় বাঙালি ছিলেন।” – চরিত্রপূজা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সর্বপ্রথম আধুনিক বাঙালি রাজা রামমোহন রায়, যার সাথে আমাদের বাংলাদেশী জনসাধারণের পরিচয় নিতান্তই সামান্য। অবশ্য যে দেশের মানুষ দেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবকেই ঠিকমত চেনে না, তারা সুদূর অতীতের রামমোহন রায়কে চিনবে, এ আশা আমি করিও না। তবে বাঙালিদের অবস্থা যখন ক্রমাগত পতনশীল ও পচনশীল তখন বিগত দিনের মহাপুরুষদের দিকে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে, খুঁজে নিতে হবে শিকড়। রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই বলা যাক-

“শিশু যেমন সহস্র বলবান ব্যক্তিকে ফেলিয়া বিপদের সময় পিতার কোলে আশ্রয় লইতে যায়, তেমনি আমরা দেশের দুর্গতির দিনে আর সকলকে ফেলিয়া আমাদের স্বদেশীয় মহাপুরুষদিগের অটল আশ্রয় অবলম্বন করিবার জন্য ব্যাকুল হই। যে জাতির মধ্যে স্বদেশীয় মহাপুরুষ জন্মাননাই তাহার কী দুর্দশা। কিন্তু যে জাতির মধ্যে মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করিয়াছেন কিন্তু তথাপিও সে জাতি কল্পনার জড়তা- হৃদয়ের পক্ষাঘাত বশত তাঁহার মহত্ত্ব কোনোমতে অনুভব করিতে পারেনা, তাহার কী দুর্ভাগ্য!”

আমরা সেই দুর্ভাগা জাতি। রামমোহন রায়ের সাথে আমাদের পরিচয় পাঠ্যবইয়ের কল্যাণে। তিনি একজন ‘সমাজসংস্কারক’, ‘সতীদাহ প্রথা রোধ করেছিলেন’ এবং ‘ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা’ – আমাদের জানা এই পর্যন্তই এবং এগুলো নিছক কিছু তথ্য মাত্র। আমরা পাঠ্যবইয়ে মুখস্থ করেছি রামমোহন রায়ের কল্যাণে ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রহিত হয়, কিন্তু আমরা জানি না এই কাজটি করতে রামমোহন রায়কে কী করতে হয়েছে। আমরা সমাজসংস্কার বস্তুটি কী জানি না, ব্রাহ্মসমাজ জিনিসটি সম্পর্কেও আমরা জানি না। কিন্তু পূর্বপুরুষ সম্পর্কে অচেতনা এবং ঔদাসীন্য যে নৈতিক জড়ত্বের জন্ম দেয়, তার ফলে বর্তমান পঙ্গু হতে বাধ্য এবং বলাই বাহুল্য- সেটাই হয়েছে।

“বাঙালি জাতি ও সংস্কৃতির যে সামগ্রিক অবয়ব ও অন্তর্লীন চারিত্রিক গুণ আজ আমরা শনাক্ত করে থাকি, তার আদি পিতা রামমোহন রায়। তাঁকে চিনতে পারলে তাই বাঙালি হিসেবে আমার পরিপ্রেক্ষিত ও রূপরেখা আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যায়। বস্তুত আধুনিক বাঙালির যাত্রাবিন্দু রামমোহন।” – ড. হায়াৎ মামুদ।

ষোল বছর বয়সে রামমোহন রায় ঘর ছেড়েছিলেন, পিতামাতার সাথে ঝগড়া করে। এই ঝগড়ার বিষয়বস্তু আদৌ সাংসারিক নয়, ধর্মচিন্তাকে কেন্দ্র করে। পিতামাতার তথা পূর্বপুরুষের ধর্মাচরণ অযৌক্তিক ঠেকেছিল তাঁর কাছে – কলহের সূত্রপাত সেখানেই। জনৈক মিঃ গর্ডনকে লেখা এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন-

“When about the age of sixteen, I composed a manuscript calling in question the validity of the idolatrous Hindoos. This, together with my known sentiments on that subject, having produced a coolness between me and my immediate kindred.”

অর্থাৎ তিনি স্বজাতির পৌত্তলিক হিন্দুধর্মের বিভিন্ন আচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যার ফলে স্বজাতির সাথে তাঁর বিরোধ বাধে এবং তিনি ষোল বছর বয়সে ঘর ছেড়ে দেশ ভ্রমণে বের হন। এর মধ্যেই তিনি সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা শিক্ষা করেন এবং এর ফলে হিন্দু ও ইসলামি ধর্মশাস্ত্র ও দর্শনের সাথে পরিচয় ঘটে তাঁর। ১৮০৪ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যার নাম ছিল ‘তুহ্‌ফত-উল-মুওয়াহিদ্দিনঃ একেশ্বর বিশ্বাসীদিগকে উপহার’। বইটি রচিত হয় ফার্সি ভাষায়। এই বইয়ে তিনি লিখেছেন-

“সর্বশক্তিমান একক ঈশ্বরে বিশ্বাসই প্রত্যেক ধর্মের মূলসূত্র। জাতি,বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের হৃদয় পরস্পরের প্রতি প্রীতি ভালবাসা দিয়ে জয় করাই প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা একমাত্র ঈশ্বরের নিকট গ্রহণীয় বিশুদ্ধ পূজা।”

রামমোহন রায় শুরু করেছিলেন ধর্ম নিয়ে এবং তাঁর মূল জিজ্ঞাসা আবর্তিত হয়েছিল ধর্ম ও মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। সাধারণত যেকোন ধর্ম অনুসারীদের একমাত্র বিবেচ্য ও কর্তব্য হয় ধর্মীয় নির্দেশকে বিচারের ঊর্ধ্বে রেখে তা দ্বিধাহীন ভাবে মান্য করে যাওয়া। কিন্তু রামমোহন রায় পৈর্তৃক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্মকেই শুধু নয়, প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে পড়াশুনা করেছেন, বিচার বিশ্লেষন করেছেন- বিচারের ঊর্ধ্বে রাখেননি। যে সময়ে এবং যে জনপদে বসে রামমোহন এই কাজটি করেছেন,সেটা বিবেচনায় আনলে একথা বলা অত্যুক্তি হবেনা যে রামমোহন রায় প্রথম আধুনিক বাঙালি।

১৮২৭ সালে সুদূর মাদ্রাজ থেকে জনৈক সূর্যনারায়ণ নামে এক হিন্দুপন্ডিত বহু অর্থ ও সময় ব্যয় করে কলকাতায় এসেছিলেন রামমোহন রায়ের সাথে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতে। অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফিরে যান এবং মাদ্রাজের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বি ব্রিটিশ গভর্নরকে লেখেন-

“Ram Mohon’s religion is no religion and his laws are no laws, but a conglomeration of all stiched into singular one. He is neither a Christian, a Mahammedan or a Hindu, but a free-thinking man, abandoned by all religions!”

সত্যিকার অর্থে কোন বিশেষ ধর্ম নয়, সব ধর্মের তত্ত্বগুলো ছেঁকে তুলে নিয়ে তাদের সংশ্লেষণ ঘটাতে চেয়েছেন নিজের জ্ঞান- বুদ্ধি ও প্রখর যুক্তিবোধ প্রয়োগ করে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- “মানব সমাজের সর্বপ্রধান তত্ত্ব মানুষের ঐক্য। সভ্যতার অর্থই হচ্ছে মানুষের একত্র হবার অনুশীলন।

রামমোহন রায় ইসলামি মুতাজিলা সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যারা অন্ধ অনুসরণ না করে যুক্তি দিয়ে যাচাই বাছাই করার পক্ষপাতি ছিলেন। হিন্দু- বৈদ্ধ- জৈন- ইহুদি- খ্রিস্টান- ইসলাম প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রামমোহন। কিন্তু কোন ধর্মই তাঁর কাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিবেচিত হয়নি। বিবেচিত না হওয়ার কারণ সব ধর্মের উৎপত্তির মূল লক্ষ্য এবং হাজার বছরের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সমাজে তার যে আচরিত রূপ- এ দুইয়ের মধ্যে তিনি পার্থক্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের জন্যই যেখানে ধর্মের সৃষ্টি সেখানে ধর্ম মানুষকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করছে অহেতুক বিভাজন। তাঁর ধর্মচিন্তা ও সৃষ্টিকর্তাচিন্তার মূল বিষয় ছিল – ‘মানুষ’।

রামমোহন রায়ের অসামান্য কৃতী- সতীদাহ প্রথা রোধ। পৃথবীর বিভিন্ন সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিধায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর সময়ে বাঙালি সমাজে নারীর অবস্থান এতই মর্যাদাহীন, অসভ্য ও গ্লানিময় যে তার পরিবর্তন না ঘটালে সভ্য সমাজে দেশ তথা জাতি কখনই স্থান করে নিতে পারবেনা। শুধু সতীদাহ প্রথা নিবারন করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিলনা, তিনি এর মূল কারণটি সনাক্ত করতে পেরেছিলেন। “স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার না থাকা বিধবা নারীর আমৃত্যু লাঞ্ছনার বিনিময়ে আত্মহননের মূল প্ররোচক”। তাই আইনগতভাবে নারীরা যেন স্বামীর সম্পত্তির ভাগ পায় সেই যুদ্ধেও তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন।

বিষয়টি কতটা জটিল সেটা অনুধাবন করার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট যে তিনি বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক কে দিয়ে সতীদাহ প্রথার বিরূদ্ধে আইন করিয়ে নিয়েছিলেন কিন্তু হিন্দু সম্পত্তি আইন পাল্টেছে এই ১৯৫৬ সালে, নেহরুর সময়ে। একই বহুবিবাহ প্রথাও নারীর সম্পত্তি না পাওয়ার সাথেই জড়িত। নারীর কোন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই বলেই তাদের যাবতীয় দুর্দশা এই সত্যটি রামমোহন রায়-ই প্রথম অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।

সতীদাহ প্রথা বিরোধী আইন চালু হবার পর ইংল্যান্ডে প্রিভি কাউন্সিলে এই আইনের বিরূদ্ধে জনমত সংগ্রহ করে অ্যাপ্লিকেশন পাঠিয়েছিল প্রাচীনপন্থি হিন্দু সমাজ। রামমোহন নিজে বিলেতে থেকে সেখানকার জনমত সংগ্রহ করে ঐ অ্যাপ্লিকেশনের প্রতিবাদী আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে আইনি লড়াই করেছিলেন। তিনি লিখেছেন-

“As we can be no longer guilty of female murder, we now deserve every improvement, temporal and spiritual.”

রাজনীতিবিদ বিপিনচন্দ্র পাল যথার্থই লিখেছেন-

“হিন্দুকে তিনি হিন্দু রাখিয়া বড় করিতে চাহিয়াছিলেন, মুসলমানকে মুসলমান রাখিয়াই বিশ্বমানবের অভিমুখী করিতে চাহিয়াছেন। নিজেদের সাম্প্রদায়িক ধর্মকে উদার বিশ্বধর্মের প্রতি উন্মুখ করিতে চাহিয়াছিলেন।”

বাংলায় মিশ্র ধর্মাবলম্বি মানুষদের অনুসৃত ধর্ম সমূহের মধ্যে বিরোধের যে সম্ভাবনা (যা বর্তমানে আমরা প্রত্যক্ষ করছি) সেটা তাঁর দূরদৃষ্টিতে প্রতিভাত হয়েছিল। এই সম্ভাব্য সংঘাতের বীজ তিনি নষ্ট করতে চেয়েছিলেন সর্ব ধর্ম সম্মিলনে মানবধর্মের প্রতিষ্ঠায়। আর এই মানবধর্মে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও তিনি স্বগৌরবে আসীন করতে চেয়েছিলেন। পৃথিবীর আর কোথাও রামমোহনের আগে নারীর জন্য কোন পুরুষ লড়াইয়ে নামেননি। তিনি লিখেছেন-

“স্ত্রীলোকের বুদ্ধির পরীক্ষা কোন কালে লইয়াছেন যে অনায়াসেই তাহাদিগকে অল্পবুদ্ধি কহেন? কারন বিদ্যা শিক্ষা এবং জ্ঞান শিক্ষা দিলে পরে ব্যক্তি যদি অনুভব ও গ্রহণ করিতে না পারে, তখন তাহাকে অল্পবুদ্ধি কহা সম্ভব হয়। আপনারা বিদ্যা শিক্ষা জ্ঞানোপদেশ স্ত্রীলোককে দেন নাই,তবে তাহারা বুদ্ধিহীন হয় ইহা কিরূপে নিশ্চয় করেন?”

হুমায়ুন আজাদ তাঁর বিখ্যাত ‘নারী’ গ্রন্থে রামমোহন রায়কে বলেছেন ভারতিয় নারীদের ‘প্রাণদাতা’। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন- “রামমোহন রায়ের মনে বাঙালি জাতি ইচ্ছা করলে তার নিজের মনের ছবি দেখতে পারে। বাঙালি জাতির মনে যে সকল শক্তি প্রচ্ছন্ন ও বিক্ষিপ্ত ছিল,রামমোহনের অন্তরে সেই শক্তি সংহত ও প্রকট হয়ে উঠেছিল।”

আমাদের জীবনে তাঁর বড় শিক্ষা ,যা এখন চর্চা করা খুবই জরুরি- প্রথাসিদ্ধ ধর্মাচারকে বড় করে না দেখে হৃদয়ের মনুষ্যধর্মের চর্চা করা। সবার উপরে মানুষ সত্য- জাতি,ধর্ম নির্বিশেষ এই বোধ লালন করা। তবে আজকের বাঙালি এই শিক্ষা থেকে যে অনেক অনেক দূরে, সে তো আমাদের ইদানীংকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী থেকেই বোঝা যায়। এ প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগরের কথা মনে পড়ে গেল। না, এই আরেকজন অসাধারন বাঙালিকে নিয়ে লিখতে গেলে আর একটি পৃথক লেখা দরকার হবে, সে হবে অন্যদিন। আজ শুধু তাঁর একটি উক্তিই স্মরণ করছি-

“আমাদের দেশের লোক এত অসার ও অপদার্থ বলিয়া পূর্বে জানিলে আমি কখনই এদেশে বিধবা বিবাহ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করিতাম না।”

শেষ জীবনে বিদ্যাসাগর বাঙালিদের পরিত্যাগ করে সাঁওতাল পল্লীতে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। রামমোহন রায়ও কি একই কথা বলতেন? তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মত এত আবেগী ছিলেন না। কিন্তু বাঙ্গালি জাতির এহেন অবস্থা থেকে তিনি নিঃসন্দেহে মনোকষ্টে ভুগতেন। ভাবছি আজ যদি বিদ্যাসাগর আমাদের দেখতেন তাহলে কী বলতেন? শ্রদ্ধেয় ড. হায়াৎ মামুদ এই উত্তরটি দিয়েছেন- “আমাদের দেশের লোক এত অসার ও অপদার্থ বলিয়া পূর্বে জানিলে আমি কখনই এদেশে জন্মিতাম না।”

রামমোহন রায়, সর্বপ্রথম আধুনিক বাঙালি, বাঙালিদের আলো ও মুক্তির পথ দেখানো বিশ্বনাগরিক। সে তো প্রকান্ড সূর্য ,তাঁর সমান হবার চিন্তা করা তো যোজন যোজন দূরের ব্যাপার। আমাদের এখানে সূর্যটিতে গ্রহণ লেগেছে। সূর্যটি আমরা দেখতে পর্যন্ত পাচ্ছি না। সূর্য হতে না পারি, সেই আলোতে অবগাহন করতে পারলেও বর্তমানের এই অন্ধকার থেকে মুক্তি লাভ হবে। বিষাক্ত বর্তমান থেকে রক্ষা পেতে তাই অতীত অমৃত পানে যাত্রা হোক আমাদের।

তথ্যসূত্র-

  • ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি- ড.হায়াৎ মামুদ
  • চরিত্রপূজা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • প্রবন্ধ সংগ্রহ- প্রমথ চৌধুরী
  • নারী – হুমায়ুন আজাদ
Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-