রিডিং রুমলেখালেখি

সবার মনে বিরক্তি জাগিয়েও নিজের কাজে সফল যেই মানুষটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দিনভর বিচিত্র সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষের আনাগোনা চলে যেখানে। এখানে কেউ ব্যক্তিজীবনে অনেক বেশি গোছানো, ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড। কেউ বা আবার প্রচন্ড রকমের উড়নচন্ডী। এখানে কেউ প্রেমিক, কেউ বা আবার নিজেদের জীবন থেকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছে ভালোবাসাকে। এখানে কেউ মনেপ্রাণে ধারণ করে একাত্তরের চেতনাকে, বিশ্বাস করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিতে। কারও কারও ধমনীতে আবার বইছে বিএনপি জামাত শিবিরের রক্ত। বাম ঘরানার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী মানুষেরও কিন্তু অভাব নেই আড়াইশ একরের এই ক্যাম্পাসের বুকে।

সবমিলিয়ে এই ক্যাম্পাস যেন বাংলাদেশের মাঝেই ছোট্ট আরেক টুকরো বাংলাদেশ। ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য, উদ্দেশ্য আর স্বপ্নচারী মানুষের কারণেই প্রতিনিয়ত প্রাণ সঞ্চারিত হয় এই ক্যাম্পাসে। একটা সময় ছিল যখন এই ক্যাম্পাসের প্রতিটা নামযুক্ত ও নামহীন চত্ত্বরে দেখা মিলত দুর্দান্ত সব চরিত্রের। এখন অবশ্য সেরকম উল্লেখযোগ্য চরিত্রের দেখা কিছুটা কমই মেলে। যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র ক্যাম্পাস ভিত্তিক চরিত্রগুলো ক্রমশ যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। তারপরও একটি চরিত্র কিন্তু এখনও ক্যাম্পাসের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে। সেই চরিত্রকে সবাই যে খুব সুনজরে দেখে তা হয়ত নয়। বরং সত্যি কথা বলতে কি, এই বিশেষ চরিত্রটির উপর ক্যাম্পাসের অধিকাংশ মানুষই ত্যাক্ত-বিরক্ত। এই মুহূর্তে চরিত্রটির ভক্ত-অনুরাগীর চেয়ে হেটারের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। 

মিঞা শোভন, পাঠশালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী, বই পড়া

এত ভণিতা করে যার কথা বলছি, তিনি হলেন সাজ্জাদুল ইসলাম মিঞা। অবশ্য এই নামে তাকে খুব কম মানুষই চিনবেন। তাকে বরং আপনারা চিনবেন তার ডাক নামে – মিঞা শোভন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে ফেলেছেন। কিন্তু অন্যান্য টিপিক্যাল গর্বিত ঢাবিয়ানের মত গ্র্যাজুয়েশন শেষেই চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে শুরু করেননি তিনি। বরং চেয়েছেন নিজের প্যাশনকে প্রফেশনে রূপান্তরিত করতে। কী তার সেই প্যাশন? সেটি হলো বই। গতানুগতিক চাকরিতে তার বিশ্বাস নেই। তিনি চান জীবন হবে বইকেন্দ্রিক। তার স্বপ্ন, আজিজ সুপার মার্কেটে বইয়ের দোকান দেবেন। সারাক্ষণ বই পড়বেন, বই মানুষকে পড়াবেন। একদিন নিজেও বই লিখবেন। সে লক্ষ্যে ক্রমাগত কাজ করে চলেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান চত্ত্বরটাকে তিনি ডাকেন মিশোপা চত্ত্বর নামে। মিশোপা মানে হলো মিঞা শোভনের পাঠশালা। প্রতিদিন সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সমাজবিজ্ঞান চত্ত্বর কিংবা টিএসসিতে দেখা মেলে মিঞা শোভনের। তার কাজ হলো বই ধার নেয়া, ধার দেয়া, বই বিক্রি করা। এর বাইরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে বই উপহার হিসেবেও দিয়ে থাকেন তিনি। এভাবেই সাইকেল আর ব্যাগ কাঁধে করে এক ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি চালাচ্ছেন তিনি।

এবং সেই লাইব্রেরি চালানোর জন্য কী না করছেন তিনি! সাধারণত বইকেন্দ্রিক মানুষদের প্রতি মানুষের সম্মান থাকে, তবে আকর্ষণ থাকে কম। কিন্তু মিঞা শোভনের বেলায় চিরাচরিত সূত্র খাটবে না। কারণ তিনি নিজেই সেই সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন। ক্যাম্পাসের বহু মানুষকে রীতিমত জোর জবরদস্তি করে নিজের লাইব্রেরির সদস্য করেছেন তিনি। ফেসবুকে নিজের ওয়াল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে নিয়মিত বই নিয়ে পোস্ট করে থাকেন তিনি। সেই সাথে চেষ্টা করেন বই পড়ার ব্যাপারে নিজের আদর্শ ও দর্শনের বিকেন্দ্রিকরণেরও। এবং এমনই তার ডেডিকেশন যে, ঈদের সময়ও যখন পুরো ক্যাম্পাস নীরব-নিস্তব্ধ, বই নিয়ে টিএসসি হাজির হয়ে গিয়েছেন তিনি। বাড়ি গিয়ে মা-বাবার সাথে দেখা করার বদলে ঈদের দিনটাতেও মিশোপার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি করেছেন তিনি। তার ব্যাপারে কয়েকটি অতি পরিচিত অভিযোগ হলো, প্রথমত, তিনি যা করেন তার অধিকাংশই শো অফ, লোক দেখানো আরকি; আর দ্বিতীয়ত, শুধু যে বই পড়িয়ে তিনি মানুষের আত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য এত কিছু করছেন তা কিন্তু নয়, এর পাশাপাশি তার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থও জড়িত। 

তবে মজার ব্যাপার হলো, মিঞা শোভন কিন্তু এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে নিজের কোনো অবস্থান দাঁড়া করাননি। বরং অভিযোগগুলোর সত্যতা মানেন তিনি নিজেও। প্রচারেই যে প্রসার, এই চিরন্তন সত্যটি খুব ভালো করেই জানেন তিনি। জানেন যে, ভাইরাল হওয়ার এই যুগে মানুষের নজর কাড়ার মত কোনো কাজ করতে না পারলে নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না কোনোদিনই। তাই বলা যায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাইরাল করার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। এই যেমন গত রোজার ঈদের সময় বাড়ি না গিয়ে টিএসসিতে বই নিয়ে বসে থাকার ব্যাপারটি। তিনি নিজেও কিন্তু জানতেন, একে তো রোজার ঈদ, তার উপর আবার ফুটবল বিশ্বকাপ চলে এসেছে। এমন একটা সময়ে মানুষ আর যাই হোক, টিএসসি এসে তার থেকে বই সংগ্রহ করে বই পড়তে যাবে না। তবু তিনি বই নিয়ে বসে থাকলেন টিএসসি। কেন? কারণ হলো সেই ভাইরাল হওয়ার ইচ্ছা। তিনি আশা করেছেন, ঈদের সময় বই নিয়ে টিএসসি বসে থাকার বিষয়টি অবশ্যই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে কোনো না কোনো মূলধারার গণমাধ্যমের। তার এই ডেডিকেশন নিয়ে নিউজ করবে তারা, ফলে আবারও ভাইরাল হয়ে যাবেন তিনি। আর নিজে ভাইরাল হওয়া মানে তো দিনশেষে তার কার্যক্রমের নামডাকই দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়া, তাই না? 

মিঞা শোভন, পাঠশালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী, বই পড়া

এরকম ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা তিনি ফেসবুকেও নিয়মিত চালিয়ে থাকেন। যেমন গোটা বিশ্ব যখন বুঁদ হয়ে ছিল বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবল উন্মাদনায়, তখন তিনি বিভিন্ন গ্রুপে ফুটবলের জনপ্রিয়তার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে ফুটবল খেলা দেখা সময় নষ্ট, এর বদলে বই পড়ার ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি। আবার দিন দুয়েক আগেও, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার ম্যাচটি নিয়ে যখন উচ্ছ্বসিত ফেসবুকবাসী, ঠিক তখনই ক্রিকেট খেলার অসারতা নিয়ে পোস্ট করেছেন তিনি। বলাই বাহুল্য, বর্তমান সময়ের প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসমাজ উল্লিখিত দুই ক্ষেত্রেই লুফে নিয়েছিল তার পোস্টগুলি, এবং তাকে গালাগাল করে পৈশাচিক আনন্দ লুটেছে তারা। তবে একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, জয় আসলে হয়েছে মিঞা শোভনেরই। তাকে যারা যাচ্ছেনাতাই বলে গালি দিয়েছে, তারা আসলে মিঞা শোভনের পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছে। মিঞা শোভন চেয়েছেন পাবলিক সেন্টিমেন্টে আঘাত করে ভাইরাল হতে। প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসমাজ তার পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই চাওয়াটাকেই ত্বরান্বিত করেছে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, যে মানুষটিকে আমরা বেশিরভাগ মানুষই খ্যাপাটে, পাগলাটে মনে করি, তিনি আসলে গড়পড়তা সাধারণ ঢাবিয়ানদের চেয়ে কত বেশি বুদ্ধি ধরেন ঘটে। তিনি জানেন মানুষের গালাগালিতে কিছুই যায় আসে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিজের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে, অর্থাৎ তিনি ভাইরাল হচ্ছেন, অনেক বেশি মানুষ তার সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারছে।

তাই স্বীকার করতেই হবে, বিজনেস স্ট্র্যাটেজিতে মিঞা শোভনের কোনো জুড়ি নেই। আসলেই তো, নাচতে নেমে ঘোমটা দিয়ে কোনো লাভ আছে কি! তারচেয়ে বরং নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ আত্মবিসর্জন দেয়াই কি শ্রেয় নয়! যাইহোক, বিজনেস স্ট্র্যাটেজির কথা যখন এলোই, তখন মিঞা শোভনের নামে আসা অপর অভিযোগটি নিয়েও কিছু বলা যাক। বেশিরভাগ মানুষই বলেন, মিঞা শোভনের এইসব পাগলামি কর্মকান্ড যতটা না সমাজসেবার জন্য, তারচেয়ে বেশি নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে। এই কথারও কিন্তু কখনোই বিরোধিতা করেন না তিনি। বরং নিজ মুখেই স্বীকার করেন, বইকেন্দ্রিক পেশাতেই তিনি থাকতে চান আজীবন। বইয়ের মাধ্যমেই করতে চান জীবিকা নির্বাহ। তাই মানুষকে বই পড়ানোর মাধ্যমে তিনি টাকা আদায় করতেই পারেন। ঢাবির শিক্ষার্থীরা যদি ঝালমুড়ি, পানিপুরি খেয়ে বা টিএসসিতে কাপের পর কাপ চা শেষ করে নিজেদের পকেট উজাড় করতে পারে, তাহলে মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে মিশোপার সদস্য হয়ে বইপ্রতি মাত্র দশটা টাকা মিঞা শোভনকে দিতে তাদের এত কার্পণ্য কেন!

মিঞা শোভনের নামে শেষ আরেকটি যে অভিযোগ প্রায়সই শোনা যায় তা হলো, তিনি অনলাইনে-অফলাইনে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিষয়টিকে এতটাই তিক্ততার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যে, নতুন কোনো মানুষের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বা ভালোবাসা জন্মানো তো দূরে থাক, বরং অনেক সত্যিকারের বইপড়ুয়াই নাকি আজকাল বই পড়ার অভ্যাস হারাতে বসেছে! আমি জানি না, এরচেয়ে হাস্যকর যুক্তি আর কিছু হতে পারে কি না। হ্যাঁ, এ কথা অবশ্যই সত্যি যে বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিঞা শোভন বেশিরভাগ সময়ই মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এমন সব কথা বলেন যা শুনলে সচেতন কারও মনে আসলে বই পড়ার প্রতি নতুন করে আগ্রহ জন্মানোর কথা না। তবে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, ইতিমধ্যেই যারা নিজেদেরকে ‘সচেতন’ বলে মনে করছেন, তারা কিন্তু মিঞা শোভনের টার্গেট অডিয়েন্স নয়। কারণ বই পড়া যে আদতে খুবই জরুরি একটি বিষয়, এ ব্যাপারে তো সবারই কমবেশি ধারণা রয়েছে। তাই যারা ইতিমধ্যেই সচেতন, আমরা ধরে নিতেই পারি যে তারা বইপড়ুয়াও বটে। তাই তাদের বই পড়া শুরু করতে আর যাই হোক, মিঞা শোভনের মোটিভেশনের প্রয়োজন পড়বে না। আর কোনো বইপড়ুয়ার যদি মিঞা শোভনের কথা শুনে বই পড়ার প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়, তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তারা বইপড়ুয়াও নয়, সচেতনও নয়। অন্তত মিঞা শোভনের জন্য এখন তাদের মানসিক অন্তঃসারশূন্যতা প্রকাশ পাচ্ছে। 

মিঞা শোভন, পাঠশালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী, বই পড়া

তাহলে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সচেতন মানুষ যদি মিঞা শোভনের টার্গেট অডিয়েন্স না হয়, তাহলে কারা তার টার্গেট অডিয়েন্স? তারা হলো একদমই ‘অসচেতন’ সেইসব মানুষজন, যাদের নিজেদের চিন্তার গভীরতা নেই, ফলে যাদেরকে কোনো বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হলে চটকদার বিজ্ঞাপনের বিকল্প নেই। আমি বলছি সেইসব মানুষের কথা, যারা গুণগত মান দেখে কোনো পণ্য ক্রয় করে না, দেখে টিভিতে কোন পণ্যটির বিজ্ঞাপন বেশি আকর্ষণীয়। সচেতন মানুষ মাত্রই হয়ত বুঝে যাবে মিঞা শোভন বই পড়া নিয়ে বলতে গিয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অসচেতন মানুষের জন্য ওই মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়াটাই বেশি দরকার। একটা মানুষ প্রতিনিয়ত মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বলেই প্রথম ওই অসচেতন মানুসেরা তার ব্যাপারে জানতে পারবে, এবং সামান্য হলেও সম্ভাবনা রয়েছে যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হলেও হতে পারে। অর্থাৎ বই পড়ার প্রতি মিঞা শোভনের যে পাবলিসিটি স্টান্ট, সেটিও আপাতদৃষ্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মনে হলেও, বাস্তবে কার্যকর।

তাই লেখার ইতি টানার আগে আবারও বলতেই হবে, মিঞা শোভন নামক মানুষটির ব্যক্তিত্ব যতই বিরক্তিকর, এবং ক্ষেত্রবিশেষে গায়ে জ্বালা ধরানো, হোক না কেন, নিজের কাজের জায়গায় কিন্তু তিনি যথেষ্ট সফল। তিনি চেয়েছেন মানুষ তার সম্পর্কে জানুক। এখন প্রায় প্রতিটি ঢাবিয়ানই তার সম্পর্কে জানে। হয়ত ইতিবাচক কোনো কারণে নয়, বরং নেতিবাচকভাবেই। তাকে নিয়ে বিভিন্ন পেজে মিম হয়, লোকে তাকে নিয়ে ট্রল করে, আর তার নিজের পোস্টে তাকে নিয়ে গালাগালের বন্যা তো বয়ে যায়ই। এভাবে মানুষ তাকে চিনছে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে একটি মানুষকে যে অন্যরা আলাদাভাবে চিনছে, এটিই বা কম কী! এবং আমরা আশা করব, এখন মিঞা শোভন ব্যক্তি হিসেবে যেরকম ভাইরাল হয়ে গিয়েছেন, একসময় ঠিক একইভাবে ভাইরাল হবে তার বইকেন্দ্রিক কার্যক্রমও।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চাণক্য বলে গেছেন, ‘এন্ড জাস্টিফাইজ দ্য মিন্স’। অর্থাৎ কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা যাই করি না কেন, শেষ পর্যন্ত আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলাম কি না সেটিই বেশি জরুরি। মিঞা শোভনের ক্ষেত্রেও সেই একই কথাই প্রযোজ্য। নিজেকে সফল করার জন্য তিনি হয়ত অনেক দৃষ্টিকটু, হাস্যকর ও খ্যাপাটে কাজই করছেন। কিন্তু আজ থেকে পনেরো বা বিশ বছর পর তিনি যদি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, তখন কিন্তু সেই মানুষগুলোই তাকে মাথায় তুলে নাচবে, যারা আজ তাকে নিয়ে ট্রল করছে, তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছে। 

আরও পড়ুন- মিয়াঁ শোভনের পাঠশালার গল্প

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close