স্যারের ছাত্ররা এখন কার কাছে প্রাইভেট পড়বেন?

Ad

৬২, ৪৫*, ৪৯*, ৬৪*

…উপরের চারটি সংখ্যা তাঁর সর্বশেষ চার টি-২০তে রান। এর প্রথম তিনটিতে জয়ী তাঁর দল রংপুর। টি-২০তে রান বড় না তো? আচ্ছা এই চার ইনিংসে স্ট্রাইকরেট দেখি- ১৪০.৯০, ১১৫.৩৮, ১১৯.৫১, ১৭৭.৭৭! 

রানগুলো করা হয়েছে মাশরাফি, আল আমিন, শফিউল, মিরাজ, সোহেল তানভীর, জুনায়েদ খান, রাশিদ খান, তাইজুল, থিসারা পেরেরাদের বিপক্ষে। এঁরা প্রত্যেকেই “আন্তর্জাতিক মানের” বোলার। যদি না ডেল স্টেইন, শেন ওয়ার্ন বা মিচেল স্টার্ক ছাড়া আর কোন বোলারকে আন্তর্জাতিক বোলার বলে মনে করেন! 

উপরের ফিরিস্তিটা “স্যার” মিঠুন আলীর! “লর্ড” মিঠুন আলীর! হাতেগোনা কয়েকটা টি-২০ ম্যাচ দেখে এই নামগুলি আপনারাই তাঁকে দিয়েছিলেন, আজ এই “স্যারের” জন্যই রংপুর বিপিএল টি-২০ শিরোপা জেতার দ্বারপ্রান্তে। এই “স্যার” বসে আছেন রান-তালিকার তিন নম্বরে! ব্যাপারটা কেমন “আইরনি” হয়ে গেল না? 

যাই হোক, মিঠুনকে “স্যার” উপাধি দেওয়া সেই আপামর “স্টুডেন্ট”দের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করি, “এখন আপনারা কোন “স্যারের” কাছে প্রাইভেট পড়বেন ভাই??” স্যারের উপাধি শক্তমুখেই ব্যাটের আঘাতে ঘুচিয়ে ফেলছেন যে মিঠুন!

একজন ক্রিকেটার বছরের পর বছর খেলার পরে জাতীয় দলে আসেন। ১০০০ টা সিটের পাবলিক ভার্সিটির জন্য কজন পরীক্ষা দেন, তা তো জানেন।  সেখানে একটা ক্রিকেটারকে চান্স পাওয়ার জন্য লড়তে হয় “১১ সিটের” জাতীয় দলে! কী পরিমাণ কষ্ট, পরিশ্রম আর লাঞ্ছনা-গঞ্ছনা ভোগ করে আসতে হয়, সেটা কেবল তাঁরা জানেন! এরপরে আছে যেকোনো সময় দীর্ঘস্থায়ী ইনজুরিতে পড়ে ক্যারিয়ার, রুজি-রুটি সব শেষ হয়ে যাবার ভয়। এই দুর্ভাবনা একপাশে রেখে একজন ক্রিকেটার আসে ক্রিকেট খেলতে! কাদের জন্য? এই দেশের জনগনের জন্য! আর আমরা জনগন কি করি? কয়েক ম্যাচ দেখি, এরপর ‘স্যার’, ‘লর্ড’ একটা ট্যাগ লাগিয়ে তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই! বাহ!

অথচ স্যার কিংবা লর্ড হওয়ার মতো তেমন ব্যর্থ মিঠুনকে বলা যাবে না জাতীয় দলেও! তিনি ওয়ানডে খেলেছেন দুটি ম্যাচ। এক ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পন্ড, আরেকটা ভারতের সেই দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ৫৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাজনক দিনে। সেই ৫৮ রানের মধ্যে মিঠুন কতো করেছিলেন, জানেন?? দলীয় সর্বোচ্চ ২৬!

টি২০ খেলেছেন ১২টি, এর মধ্যে ৪টি তে ব্যাটিং পাননি। বাকি ৮টিতে একটিও বলার মতো পারফরম্যান্সও কি তাঁর নেই? ইউএইর বিপক্ষে ৪১ বলে ৪৭ রানের ইনিংস চাইলে ভুলে যেতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫ রানে দুই উইকেট পড়ার পরে সাকিবকে সাথে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিলেন মিঠুন, সেই ২১ বলে ২৩ রানের ইনিংস কতটা সময়োপযোগী ছিল, তা বোধহয় তাঁর সতীর্থরাই ভালো জানবেন!

সবচেয়ে বড় কথা মাত্র এই কয়েকটা ম্যাচ দেখে মিঠুনকে “স্যার” বানিয়ে দেওয়া, যেকোনো কাউকেই “স্যার” বানিয়ে দেওয়ার এই ট্রেন্ডটা, এই মানসিকতাটা আমরা পাই কীভাবে? মিঠুন কি বাংলাদেশকে অনেক অনেক বড় কোন ম্যাচ হারিয়েছেন? কিংবা মিঠুনের কি আশরাফুল কিংবা শাহাদাতের মতো স্ক্যান্ডাল আছে? নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ২৬ বছর বয়সী মিঠুন আলীর দিন কি শেষ হয়ে গেছে?

একটু খারাপ করলেই স্যার-লর্ড বানানোর এই ট্রেন্ডটা ভাগ্যিস কুঁড়ি-পচিশ বছর আগে উপমহাদেশে ছিল না। তাহলে আমরা হয়তো একজন শচীন টেন্ডুলকার পেতাম না! ভাগ্যিস এই উপমহাদেশের বাইরে এখনও এই ট্রেন্ডটা নেই। নাহলে হয়তো কুইন্টন ডি কক, কেন উইলিয়ামসন, স্টিভ স্মিথরা কুঁড়িতেই ঝড়ে যেত!

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (3 votes, average: 3.67 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad