ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 983

বিখ্যাত ও কুখ্যাত সব অপারেশন, মিশন এবং উদ্ধার অভিযানগুলো!

Ad

দুনিয়াজুড়ে পরিচালিত হয়েছে অনেক বিখ্যাত ও কুখ্যাত বিশেষ অপারেশন, মিশন অথবা উদ্ধার অভিযান। সাম্প্রতিক ইতিহাসে রয়েছে এমন অনেক সফলতা ও ব্যর্থতার ঘটনা। অবিশ্বাস্য রকমের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বর্ণনা সহজ নয়, কিন্তু সংক্ষেপে এমন কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো-

১৯৬১, বে অব পিগস

১৯৬০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডি ডি আইজেনহাওসার গোপন এক পরিকল্পনা করেন কিউবা দখলের, শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি সিআইকে অনুমোদন করেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬১ সালে ক্ষমতায় বসার মাত্র তিন মাসের মাথায়। সিআইএ প্রায় ১৪০০ নির্বাসিত কিউবান নিয়ে গঠিত একটি বাহিনী দখল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রসর হয়  দক্ষিণ-পশ্চিম কিউবার দ্য বে অব পিগস দিয়ে। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায় অতি অল্প সময়ে। প্রায় ১০০ জন নিহত এবং ১২০০ নির্বাসিত কিউবান বন্ধি হয়।  আমেরিকার চরম ব্যর্থতার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এটি।

১৯৭২, মিউনিখ অলিম্পিক হত্যাকান্ড

‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরের’ সদস্য আট ফিলিস্তিনি ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক চলাকালিন সময়ে অলিম্পিক ভিলেজ থেকে অপহরণ করে ১১ ঈসরাইলি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাকে। অপহরণকারিরাহেলিকপ্টারে করে অপহৃতদের নিয়ে দাবি অনুযায়ী রাখা বোয়িং ৭২৭ জেটে করে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করলেও পুরোটাই ছিল তাদের জন্যে ফাঁদ। আগে থেকে সেখানে অপেক্ষায় ছিল ২১ জন জার্মান পুলিশ কমান্ডো, যারা চেয়েছিল আকষ্মিক আক্রমণ করে অপহৃতদের উদ্ধার করতে। পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়, ১১ জন ঈসরাইলিকে হত্যা করে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরের সদস্যরা এবং জার্মান শার্পসশ্যুটাররা ৮ জন অপহরণকারির মধ্যে ৫ জনকে হত্যা করে।

১৯৭৬, এনতেবে অভিযান

১০০ জন ইহুদি যাত্রীসহ এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় উগান্ডার এনতেবে এয়ারপোর্টে। ইসরাইলি বিশেষ কমান্ডো দল পরিচালনা করে অপারেশন থান্ডারবোল্ট, যেটি সফল হয়েছিল। এই অপারেশনে ৭ অপহরণকারি, ১২ জন উগান্ডান সেনা, ৩ জন যাত্রী ও ১ জন ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। নিহত সেনা কর্মকর্তা বর্তমান ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের ভাই ছিলেন।

১৯৮০, ইরানি মরুভূমি বিপর্যয়

তেহরানের আমেরিকান অ্যাম্বেসি থেকে ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে ৫৩ জন মার্কিনিকে অপহরণ করে ইরানিরা। মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধারের জন্যে নিরবে পরিকল্পনা আঁটতে থাকেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয় আর্মি রেঞ্জার্স ও ডেল্টা ফোর্সের সদস্যেরা, মরুভূমিতে চালানো এই অভিযানে দলটি মারাত্মক মরুঝড়ের মধ্যে পরে এবং মিশনটি সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়। গোলাগুলিতে ৮ জন লোক নিহত হয়, মার্কিন দলটি একটি সি স্টালিওন হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ এয়ারক্রাফট মরুভূমিতে ফেলে রেখে যায়।

১৯৯৩, মোগাদিসু, সোমালিয়া

সোমালিয়ান ‘ওয়ারলর্ড’ফারাহ আবিদিদকে আটক করতে ইউএস আর্মি রেঞ্জার্স ও ডেল্টা ফোর্স সম্মিলিত অপারেশন পরিচালনা করে যেটি বলা যায় মোগাদিসুর যুদ্ধ। রকেট চালিত গ্রেনেড হামলায় দুইটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়, আমেরিকা হারায় তাদের ১৮ সেনাকে এবং আরো ৭৩ জন সেনা আহত হয়। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য সফলতার মুখ দেখেনি, ফারাহ পালিয়ে যায়।

২০০২, মস্কো থিয়েটার সংকট

চেচান বিদ্রোহিরা ২০০২ সালে লোকভর্তি মস্কো থিয়েটার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, জিম্মি করে ৮৪৫ জনকে। দুইদিন পর রাশিয়ান বিশেষ বাহিনি স্পেতনাজ থিয়েটারের বাতাস নির্গমন পথের মধ্য দিয়ে একটি অজানা রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ করে এবং তারপর জিম্মি উদ্ধারে আক্রমণ চালায়। অভিযান শেষে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭০ জন, এরমধ্যে ১২৯ জন ছিলেন জিম্মি এবং ৩৯ জন ছিলেন চেচান বিদ্রোহি। মনে করা হয় গুলিতে নয়, বেশিরভাগের মৃত্য হয়েছে রাসায়নিক গ্যাসে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির কারণে।

২০০৪, বেসলান স্কুল জিম্মি সংকট

স্কুলের প্রথম দিনেই ২০০৪ সালে চেচান বিদ্রোহিরা দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার উত্তর ওশেটিয়া অঞ্চলের বেসলান শহরের একটি স্কুল দখল করে নেয়, জিম্মি করে প্রায় ৭০০ শিশুকে।  জিম্মি উদ্ধারে রাশিয়ান বাহিনি ব্যবহার করেছিল ট্যাং, রকেটস এবং উচ্চমানের অস্ত্র; তিনদিন পর স্কুলভবনে ঢুকে সকল চেচান বিদ্রোহিদের হত্যা করা হলেও মারা যায় কমপক্ষে ৩৮০ জন শিশু।

২০১১, ওসামা বিন লাদেন হত্যা

বিন লাদেনকে হত্যা করা ওবামা প্রশাসনের অন্যতম বড় সাফল্য মনে করা হয়। বছরের পর বছর তথ্য সংগ্রহ এবং প্রায় মাসব্যাপি দীর্ঘ পরিকল্পনার সমাপ্তি ঘটে আমেরিকার বহ্লল কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়ে। ৯/১১ মূলহোতা মনে করা হয় বিন লাদেনকে এবং এরপর থেকেই মার্কিন প্রশাসন লাদেনকে হত্যা করার জন্যে উঠেপড়ে লাগে। ওবামার নির্দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনি নেভি সিল পাকিস্থানের অ্যাবোটাবাদে হত্যা করে ওসামা বিন লাদেনকে। পুরো মিশনটি এতটাই গোপনীয়তার সাথে পরিচালনা করা হয় যে পাকিস্থানের ভূমিতে অভিযান চালানোর পূর্বেও কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং মিশনটি সমন্ধে গুটিকয়েক উচ্চপর্যায়ের ইউএস কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 4.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad