ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

মির্জা শাজাহান- বাংলাদেশের ‘ফরেস্ট গাম্প’!

পাঠক, ‘ফরেস্ট গাম্প’ মুভিটি দেখেছেন? যে কিনা ভালোবাসার মানুষটির জন্যে দৌড়েছিল একটানা সাড়ে তিনটি বছর! আজ আপনাদের শোনাব বাংলাদেশী ফরেস্ট গাম্পের গল্প, যিনি গত তিন মাস ধরে দৌড়াচ্ছেন টাঙ্গাইলের রাজপথে। তবে আমাদের ফরেস্ট গাম্পের দৌড়ানোর পেছনের গল্পখানা কিন্তু অন্যরকম, যা শুনে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।

গত বছরে আগস্ট মাসে টাঙ্গাইল মধুপুরে চলন্ত বাসের মধ্যে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় কলেজছাত্রী রূপাকে। রূপার হত্যাকারীদের সবাইকে চিহ্নিত করা গেলেও কোন সুবিচার এত মাসেও মেলেনি। উপযুক্ত বিচারের দাবিতে আমাদের এই ফরেস্ট গাম্প ওরফে মির্জা শাজাহান সাহেব তাই বেছে নিয়েছেন প্রতিবাদের এক অভিনব উপায়। গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বুধবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড় শুরু করেছেন। রূপা হত্যার উপযুক্ত বিচার না হলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দাবিতে দৌড়াতে থাকবেন। অসুস্থতার কারণে দৌড়াতে না পারলে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালাবেন। আর শারীরিক সেই সক্ষমতাটুকু না থাকলে প্রতি বুধবার এই ১০ কিলোমিটার হুইলচেয়ার চালিয়ে তাঁর দাবি অব্যাহত রাখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। টাঙ্গাইল শহরে তার এই হাঁটা বিষয়ক নানারকম পোস্টার ও ব্যানারও দেখা যাচ্ছে।

মির্জা শাজাহান সাহেবের বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি হাঁটার পাশাপাশি সাইকেলও চালান। হাঁটার সময় আর সাইকেল চালানোর সময় তার পরনের টিশার্টে লেখা থাকে ‘ধূমপান করিনা’ আর ‘বুট বাদাম কলা খাই, ৬৫ তে দৌড়াই’। মাঝেমাঝে হাঁটা থামিয়ে অথবা সাইকেল থেকে নেমে রাস্তার সাথের স্কুলে চলে যান, সেখানে ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাস্থ্যরক্ষায় ব্যায়াম ও হাঁটার ভূমিকা তুলে ধরেন।

টাঙ্গাইলের জেলা আদালত প্রাঙ্গণে প্রতি বুধবার মির্জা শাজাহান সাহেব সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা দৌড়ান। ফরেস্ট গাম্প মুভিতে যেমন ফরেস্ট গাম্পের পিছে পিছে কৌতূহলী যুবক-যুবতীরা দৌড়াতে থাকে, আমাদের মির্জা শাজাহান সাহেবের পিছেও প্রায়দিনই দৌড়াতে দেখা যায় কাউকে না কাউকে। এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসলাম খান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়ন খানম প্রমুখ ব্যক্তিসহ টাঙ্গাইলের অনেকে যুবক তার সাথে দৌড়েছেন। চাইলে কোন এক বুধবার আপনিও চলে আসতে পারেন টাঙ্গাইল জেলা প্রাঙ্গণে, হতে পারেন তার প্রতিবাদের অংশীদার!

মির্জা শাজাহান সাহেব মনে করেন, যার যেটুকু সামর্থ্য সেটুকু নিয়ে হলেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত। এই বয়সেও তার এমন প্রতিবাদ উদ্বুদ্ধ করছে টাঙ্গাইলবাসীকে। ভালোবেসে তাই টাঙ্গাইলবাসী তার খেতাব দিয়েছে ‘বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রবীণ দৌড়বিদ’।

মির্জা শাজাহান, আপনি আরো পঁয়ষট্টি হাজার বছর বাঁচুন। তনু, রূপাদের এই দেশে আপনার মতো বিবেকবান ও প্রতিবাদী মানুষের বড্ড বেশি দরকার।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close