সব্যসাচীর প্রত্যাবর্তন

Ad

আদতে তিনি একজন জেনুইন অলরাউন্ডার। এবং নিজের বয়সের স্কেলে বলতে গেলে সর্বকালের সেরাদেরই একজন, হওয়ার যোগ্যতা রাখেন ভবিষ্যৎ সেরাদের একজনও! অনূর্ধ্ব ১৯ এর ইতিহাসের ৮ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (৫৬ যুব ওয়ানডেতে ছিল ১৩০৫ রান), দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে দলকে ৩য় স্থানে পৌঁছাতেও ব্যাট হাতে হয়েছিলেন ত্রাতা। চার ফিফটিতে ৬০.৫০ গড়ে করেছিলেন ২৪২ রান। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও ব্যাট হাতে লোয়ার মিডল অর্ডারকে সাপোর্ট দেওয়ার অনেক উদাহরণ গড়েছেন! আর “বোলিং” নিয়ে বোধহয় আলাদা ইতিহাস লেখার দরকারই নেই! অনূর্ধ্ব ১৯-এর সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী শুধুমাত্র বোলিংয়ের জন্যই মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের টেস্ট ক্যাপ মাথায় পড়েছেন! বোলিং দিয়েই ভূপাতিত করেছেন ইংলিশ অহংবোধ, নজর কেড়েছেন ক্রিকেটবিশ্বেরও। অফস্পিনের জাদুতে বাংলাদেশকে শীর্ষসারির কোন দলের সাথে প্রথম টেস্ট জিতিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসেরই অংশ হয়ে গেছেন বিস্ময় বালক মেহেদী হাসান মিরাজ! অনূর্ধ্ব ১৯ দলে থাকাকালীনই সমর্থক মহলে যাকে “সাকিবের ক্লোন” বলে সমাদর করা শুরু হয়ে গিয়েছিল!

বোলিং এখনো আগের মতই আছে, কিন্তু মাঝের সময়টায় কোন এক বিচিত্র কারনে অথবা নিজেরই কোনো গাফিলতিতে ব্যাটিংয়ে নিজেকে হারিয়ে খুজছিলেন মিরাজ! চরম আকারের রান খরা ঢেকে ফেলতে বসেছিল তাঁর “অলরাউন্ডার” সত্ত্বাকে।
কেবলই অফস্পিনার হিসেবে টেস্টে ডাক পেলেও, নিজের রেপুটেশন হিসেবে ব্যাট হাতেও তাঁর কাছে যে সাপোর্টটা পাবার প্রত্যাশা ছিল, সেটা পালনে অভিষেক দুই টেস্টের চার ইনিংসেই শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ (৪ ইনিংসে মাত্র ৫ রান) তিনি! সেটার একটা ব্যাখ্যা তাও হতে পারে যে, টার্নিং পিচে যেখানে বিশ্বের বড় বড় ব্যাটিং স্তম্ভরাই খাবি খেয়েছে সেখানে টেইলএন্ডার হিসেবে নেমে ১৮ বছর বয়সী মিরাজ আর কি করবেন? কিন্তু এর প্রভাবটা বোধহয় এই বিপিএলেও পড়েছিল! রাজশাহী দলে মিরাজকে ব্যবহার করা হচ্ছিল কেবলই একজন “স্পিনার” হিসেবে! নামানো হচ্ছে আবুল হাসানেরও পরে ৮-৯ নম্বরে! একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সামর্থ্যটাকে কাজে লাগানোর কোন সুযোগ তাঁকে দেওয়া হচ্ছিল না! আবার মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলেও যে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেবেন সেটাও পারছিলেন না! ফলাফল, আগের ৭ ইনিংসে মাত্র ২০ রান! সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন! রাজশাহী টিম ম্যানেজমেন্টের অদূরদর্শিতা তো ছিলই। তবে সমর্থকদের হতাশাটা বোধহয় বেশি ছিল, ‘মিরাজ কি আদৌ পরবর্তী সাকিব হতে পারবেন? মিরাজ কি “মিরাজ” হতে পারবেন? নাকি ধীরে ধীরে শুধুই একজন “অফস্পিনারে” পরিনত হবেন?’

কিন্তু সব্যসাচী কিশোর নিজের হাতেই সেই শঙ্কা ঝেটিয়ে বিদায় করেছেন বিপিএলের গত ম্যাচে! রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থায় পড়েছিল রাজশাহী কিংস! সেখান থেকে ফরহাদ রেজার সাথে জুটি গড়ে দলকে ১২৮ রানে পৌঁছে দেন তিনি! ৩৩ বলে করেন অপরাজিত ৪১ রান! ব্যাটিংয়ে ছিল সেই যুবদলের মিরাজের ছাপ! পরিস্থিতির দাবি মিটানো পরিনত ব্যাটিং! দারুন টেম্পারমেন্ট দেখিয়ে শুরুতে ধীরে ধীরে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন, শেষ ৩ ওভারে হাত খুলেছেন। তিনটি চারের সাথে ছিল লং অফের উপর দিয়ে দর্শনীয় একটি ছক্কা!

এরপর বোলিংয়ে নেমেও নিজের দুই ওভারেই সৌম্য সরকার এবং বিপদজনক নাসির জামশেদের উইকেট দুটি তুলে নিয়ে রংপুরের টপ অর্ডার ধ্বংস করে দেন! শুরুর ধাক্কাটা আর কাটাতেই না পেরে রংপুর গুটিয়ে যায় মাত্র ৭৯ রানে! দুর্দান্ত এক জয় পায় রাজশাহী কিংস, যার অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন মেহেদী মিরাজ। ম্যাচসেরার পুরষ্কার তো তাঁরই প্রাপ্য ছিল।

তিনি সাকিব হতে পারবেন, না সাকিবকে ছাড়িয়ে যাবেন, তা তো সময় বলে দেবে। কিন্তু এই ম্যাচ দিয়ে “মিরাজ” যেন ফিরে এসেছেন! বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কেবল একজন অফস্পিনারে পরিনত হবার জন্য আসেননি, ব্যাট হাতেও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছুই পাওয়ার আছে ক্রিকেট বিশ্বের!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (2 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad